শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ফুলবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী সমিতি উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর বৈঠক অসহায় পরিবারের পাশে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবলীগ খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অসহায়দের বাড়ীতে ইউএনও আশরাফুল ছিদ্দিক ও ইউপি চেয়ারম্যান বাদল করোনা ভাইরাস জনসচেতনতায় ফুলবাড়িয়ায় ব্র্যাকের ৪০জন কর্মী মাঠে করোণা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনত করতে এনায়েতপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগ সভাপতি করোণা প্রতিরোধে ফুলবাড়িয়া পৌর সভার জীবানুনাশক স্প্রে শুরু ফুলবাড়িয়ায় করোণা প্রতিরোধের আইন না মানায় ৪ব্যবসায়ীর জরিমানা ফুলবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের চিরুনি অভিযান করোণা ভাইরাস : উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম রাকিব‘র উদ্যোগ করোণা ভাইরাস : মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করলেন পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া

ব্লাকডায়মন্ড

(ইহা একটি সাহিত্যপত্র, ব্যক্তিগভাবে না নেয়ার অনুরোধ রইল।)
দিন শুরুতে নতুন করে যাত্রা শুরু হল।এ যাত্রা অব্যহত থাকে অনন্তকাল।আমরা ছুটে চলি যে যার মত গন্তব্যহীন ঠিকানা হীন।মাঝে মাঝে থেমে যেতে ইচ্ছে হয়, বড্ড ক্লান্ত হই, তবুও থামিনা।অলস পাগুলো টেনে হিছড়ে আবার চলা শুরু করি।বড্ড তৃষ্ণার্ত হই, এক গ্লাস জলের জন্য ছটফট করি কিন্তু কেউ দেয়না,তৃষ্ণায় বুকের ভিতর জ্বালা করে। ছটফট করতে করতে খাঁচার বন্দী পাখির এক সময় ডানা ঝাঁপটানো থেমে যায়।
তোমার সাথে মিললনা শেষ পর্যন্তই। কিন্তু কেন?তুমিতো এসেছিলে প্লাবনের মত ধেয়ে।আমার জাতপাত, সমাজ, আমার আভিজাত্য সব বিসর্জন দিয়েছি। তোমাকে বুকের গভীরে আশ্রয় দিয়েছি। তোমার ছেলেমানুষিকে সহ্য করেছি।চিতকার করে বলেছি, কানে কানে বলেছি ভালোবাসি তোমাকে, ভীষণভাবে ভালোবাসি।যে ব্লাকডায়মন্ড আমি গলায় পড়েছি, এ হার তো খুলে ফেলার জন্য পড়িনি।কতটা নির্ল্লজ্জভাবে বলেছি আমি তোমাকে চাই চাই।
আমি খুব অসুস্থ। আচ্ছাএই খবরটা পেয়ে ছুটে আসলে তাতে সমাজে কি বাঁধা হয়ে দাড়াত?ফোন করে খোঁজ নেয়াতে অসুবিধা?অর্ধেক ফোন করে রেখে দিলে।জানতেই চাইলেনা সারাদিন আমি কি করেছি এ অবস্থায়?অথচ তুমি বলো তুমি নাকি সারাক্ষণ আমাকে মনে কর।আজ বললে সমাজের কাছে তোমার আমার সম্পর্কের কি জবাব দেবে?হায় তোমার ভালোবাসা, বিচিত্র সেলুকাস,রঙিণ ফানুস!
দীর্ঘদিন আমি তোমায় অবজার্ব করেছি।সভার সেই দিনটি,পেছনের সারিতে সবার শেষে বিমর্ষমুখে বসেছিলে সারাদিন।বিকেলে আমার সামনে এসে বসলে।বললাম মন খারাপ? বাচ্চাদের মতন শুধুই মাথা নাড়ালে।বললাম মন খারাপ করনা পরীক্ষায় পাস করেছ।মূহুর্তে ঐ কালো মুখটা লাজুক হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, কি অপূর্ব নিস্পাপ সে হাসি।বললে এটা আগে বললে এমন কি ক্ষতি হতো।তারপর থেকে জাতপাত ভুলে নারী পুরুষ নয়, দুটি মানুষ অদম্য ভালোবাসায় ভালোলাগায় হারিয়ে গেলাম কতটা সময়।ঘুম থেকে উঠলে আমার শুভেচ্ছা বানী না পেলে তোমার দিনই শুরু হতনা।একদিন মিস হয়ে গেলে তুমি গাল ফুলিয়ে বসে থাকতে।একসময় আমার ও ইচ্ছে হল তুমি ও কিছুটা দায়িত্ব আমার নাও।গরমিলটা বাঁধল সেখানেই।
নো ব্লেম গেম।ব্লেম করছিনা।তুমি দেখা করতে চাইতে।কিন্তু আমাদের বাড়িতে ঠিক একজন ছেলেবন্ধুর সাথে বসে গল্প করার মত সাহস আমরা তখনও অর্জণ করতে পারিনি।তুমি খুব রাগ করতে।বলতে এক কাপ চা খেতে গেলে কি এমন ক্ষতি হয়?আমিতো তোমাকে বলিইনি আমার ও খুব ইচ্ছে হয় তুমি আমার সামনে আমার চোখে চোখ রেখে বসে থাকবে,কালো মুখে সোনার হাসি দ্যুতি ছড়িয়ে আমার সামনে বসে থাকবে, সেইতো আমার সুখ।আমার যখন একদম ভালো লাগবেনা গোঁধুলিবেলায় যখন আমার মন ছঠফট করবে একটু বাইরে যেতে, তখন আমি তোমায় ডাকবো, বলবো আমায় একটু নদীর পার নিয়ে চলো।হালকা শীতের কুয়াশাঘেরা সন্ধ্যায় হিম হিম বাতাসে তোমার হাতটি ধরে নদীর পারে চুপটি করে বসে থাকব।রাত বাড়তে থাকবে, তুমি বলবে চল এবার ঘরে চল,আমি বলব আর একটু সময় থাকোনা।আচ্ছা একটি সত্যি কথা বলোতো তোমার কি আমার সাথে থাকতে ভালো লাগেনা?
তারপর ইতিহাস আর নাইবা বললাম।চলে এলাম, চলে আসতে হলো।তুমি আর খোঁজ নিলেনা, দায়সারা গোছের দু একটি ফোন দিতে তাও দুচার দিন পরে।ইদানিং তুমি খুব বস্তুবাদী হয়ে গিয়েছ।এত বকাবকি করলাম, তোমার কিছু যায় আসেনা।রাগতে রাগতে তোমার ফোন ধরা বন্ধ করলাম, তোমার কিছু যায় আসেনা।যন্তণাগুলো তোমায় বললাম,দুদিন বাদে এক লাইন লিখে দিলে।ফোনে কথা বলায় অসুবিধা,মেসেস করায় অসুবিধা।আসলে তোমার সমস্যা কি?তুমি কি অন্য কাউকে ভালোবাসো?জানতে চেয়েছি, উড়িয়ে দিয়েছ।তাহলে কি?
চরম বিপদের মাধ্যে দিয়ে চলেছি।নিরব দর্শক হিসেবে দেখলাম তোমায়।অথচ কতজনের বিপদে তুমি ঝাঁপিয়ে পড়।আমার বেলায় কেন তোমার এত কৃপণতা?বারবার জানতে চেয়েছি, উত্তর পাইনি।আমি তোমার সঙ্গটা চেয়েছিলাম,চেয়েছিলাম যত দূরেই থাকি, তারপরও ছুঁয়ে ছুঁয়ে থাকি।শুধু কি কাছে থাকলেই ছুঁয়ে দেখা যায়।দূর বহুদুর থেকেও ছুঁয়ে দেখা যায় যদি তুমি চাও।
আজ বললে তোমার সমাজ তোমাকে বাঁধা দিচ্ছে কি অদ্ভুত কথা।আমি তোমার কাছে কি চাই বলোতো?আসছিলে কেন?তোমাকেতো আমি ডাকিনি।আমার নিস্তরঙ জীবনের শান্তি ভঙ করলে কেন?আমাকে আর একটা যন্ত্রণাকাতর জীবন কেন দিলে?তুমি তো দেখেছ তোমার এ আচারণে আমি কষ্ট পাই।তুমি বলেছ তোমার সমস্যা আরও অনেক জটিল।কই জানতেতো পারলামনা।কি হল তাহলে, আমরা একে অপরের দুঃখ বেদনা শেয়ার করতে পারলামনা, তাহলে আমরা কেন একটি রাস্তার শেষে এসে দাড়ালাম?কিসের প্রয়োজন ছিল? তোমার সাথে কি আমার কোন ম্যাচিং ছিল বলোতো, তবুও ম্যাচ করে নিয়েছিলাম। বার বার রাগ করেছি আবার ছুটে গিয়েছি কারন ঐ যে পেছনের সারিতে বসা ব্যাথাতুর বুকে আমারই অপেক্ষায় বসে আছে যে মানুষটি, ওযে আমায় টানে ভীষণভাবে।যাই হোক অনেক বক বক করলাম।হাজারও সমস্যা নিয়েই হয়তো আমার জীবন।আর একলা চলাটা আমার নিয়তি।চলতে না পারলে থেমে যাব।পথই বলে দেবে আমার গন্তব্য কোথায়?তাই পথই বন্ধু হোক। তোমার আমার পথ আলাদা। এ পথের মিল হওয়া সত্যিই সম্ভব নয়।বিদায় বন্ধু।
লাবন্যলতা।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইট © ফুলবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম ২০২০
Design & Developed BY A K Mahfuzur Rahman