শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২০, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ফুলবাড়িয়ায় ব্যবসায়ী সমিতি উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর বৈঠক অসহায় পরিবারের পাশে ফুলবাড়ীয়া উপজেলা যুবলীগ খাদ্য সামগ্রী নিয়ে অসহায়দের বাড়ীতে ইউএনও আশরাফুল ছিদ্দিক ও ইউপি চেয়ারম্যান বাদল করোনা ভাইরাস জনসচেতনতায় ফুলবাড়িয়ায় ব্র্যাকের ৪০জন কর্মী মাঠে করোণা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনত করতে এনায়েতপুর ইউনিয়নে ছাত্রলীগ সভাপতি করোণা প্রতিরোধে ফুলবাড়িয়া পৌর সভার জীবানুনাশক স্প্রে শুরু ফুলবাড়িয়ায় করোণা প্রতিরোধের আইন না মানায় ৪ব্যবসায়ীর জরিমানা ফুলবাড়িয়ায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে উপজেলা প্রশাসনের চিরুনি অভিযান করোণা ভাইরাস : উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো: রফিকুল ইসলাম রাকিব‘র উদ্যোগ করোণা ভাইরাস : মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ করলেন পৌর মেয়র গোলাম কিবরিয়া

চার প্রতিবন্ধি সন্তান নিয়ে বিপাকে বাবা : ইউএনও’র ভুয়সী উদ্যোগ

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডট কম : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নের চৌরঙ্গিরপাড় এলাকার ৫ সদস্যের এক পরিবারে চারজনই প্রতিবন্ধি হওয়ার খবরে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তাৎক্ষনিক কার্যকরি ও স্থায়ী ইনকামের সোর্সে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল ছিদ্দিক উদ্যোগ গ্রহন করছেন। ফলে অসহায়দের ভাগ্যের পরিবর্তনে নীল বাতি জ্বলে যেতে পারে।
জানা যায়, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে রাধাকানাই ইউনিয়ন একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এখানকার একটি গ্রামের নাম চৌরঙ্গিরপাড় ওয়ার্ড নং- ০২। এ ওয়ার্ডের একজন বাসিন্দা ইব্রাহীম। বয়স ৭০ বছর। তার ৫টি মেয়ের মধ্যে ৪টি মেয়েই প্রতিবন্ধি। পারভীন (৩৫), বিউটি (২০), তাপসী (১৫) ও শাবনূর (১১)। তবে প্রতিবন্ধি কাকে বলে? ঐ সংসার চোখে না দেখলে বুঝে উঠা কঠিন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মা মানসিক ভারসাম্যহীন প্রায়। চার বোনের কেউই উঠে দাঁড়াতে পারে না, মাটিতে গড়িয়ে গড়িয়ে চলে তারা। প্রসাব-পায়খানা, গোসল, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব কিছুতেই বাবার সাহায্য। ফলে বাবা নিজে কোন কাজে সময় দিতে পারেন না, আদরের সোনামণিদের সময় দিতে হয়। সবকিছু ছাপিয়ে অসহায় ইব্রাহীমের পরিবারের জীবন চলছে কঠিন দারিদ্রতায়, কোন দিন খেয়ে, না খেয়ে দিনতিপাত করতে হয়। ৭০ বছর বয়সী ইব্রাহীম সংসারে একমাত্র উপার্জনকারী। বয়সের বাড়ে নূয়ে পড়া ইব্রাহীম একদিন অন্যের বাড়ীতে কাজ করলে পরেরদিন কাজ করতে পারেন না। দুর্বিষ এক সংসার তার। কিন্তু কী করার আছে তার? তবে বাবা-মেয়ে অথবা মেয়ে-বাবা কারও প্রতি দরদের কোন কমতি নেই। বাবার কষ্ট দেখে মেয়েরাও কষ্ট অনুভব করে কিন্তু …।
এলাকাবাসী ও প্রতিবন্ধি কার্ডের মাধ্যমে দেয়া সরকারী সহযোগিতায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে জীবন সংসার। বিকলাঙ্গ সন্তানরা জানিয়েছেন, গোসলের জন্য নেই কোন টিউবওয়েল, থাকার জন্য তেমন কোন ঘর নেই, প্রসাব-পায়খানার কোন সু-ব্যবস্থাও নেই, রুটি-রোজগার কত্ত ঝামেলা। বাবা মারা গেলে আমাদের কী হবে?
ইব্রাহীম বলেন, আমার এখন বয়স হয়েছে ঠিক মতো কাজ কাম করতে পারিনা। শরীরের সাধ্য না থাকলেও মেয়েদের মুখে ভাত, তেল, সাবান, জামাকাপড় তুলে দিতে মাঝে মধ্যে কাম করতে হয়। আমি যতদিন বেঁচে থাকি ততোদিন তাদের দেখাশোনা করে যাবো। কিন্তু আমি মরে গেলে এদের কি হবে?
ইউএনও আশরাফুল ছিদ্দিক প্রতিবন্ধিদের বাবার সাথে কথা বলে তাঁর কী সমস্যার কথা শুনেছেন। আয়বর্ধক স্থায়ী উপার্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সরকারী ও বেসরকারীভাবে সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টির মাধ্যমে পরিবারটি সমাজে গতিশীল পরিবারে রূপ দিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইট © ফুলবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম ২০২০
Design & Developed BY A K Mahfuzur Rahman