৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে মিছিলে গুলি বিদ্ধ হারুনের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৭, ২০১৮, ১০:৪৬ AM
৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে মিছিলে গুলি বিদ্ধ হারুনের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ৬৯’র ২৭ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে তৎকালীন পুলিশের ছুঁড়া গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই ছটফটিয়ে মৃত্যুবরণ করেন আজিজুল হক হারুন। হারুনের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। নির্বাক হয়ে যায় তার সহপাঠিরা। ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে শনিবার (২৭ জানুয়ারি) ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হারুন দিবস উপলক্ষ্যে প্রভাত ফেরী, শ্রদ্ধা নিবেদন, আলোচনা ও দোয়া-মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ দিবসকে কেন্দ্র করে ওই দিন স্থানীয় শহীদ হারুন স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড, গৌরীপুর সরকারি কলেজে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) এর নেতৃবৃন্দ। শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি। উল্লেখ্য ৬৯’র ২৭ জানুয়ারি গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে তৎকালীন পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আজিজুল হারুন। এরপর থেকে প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে এদিনটিকে শহীদ হারুন দিবস হিসেবে পালন করা হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী গৌরীপুর মহাবিদ্যালয়ের সাবেক ভি.পি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক জানান ৬৯ সনে ২৭ জানুয়ারি সারাদেশের ন্যায় প্রতিদিনের মত গৌরীপুর মহা বিদ্যালয়, আর.কে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শহরের গোবিন্দ বাড়ীর সামনে আসা মাত্রই তৎকালীন মহকুমা প্রশাসকের নেতৃত্বে একদল বেপরোয়া লাঠিচার্জ করে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে বিক্ষোব্ধ শিক্ষার্থীরা ওইদিনই গৌরীপুর রেলষ্টেশন এলাকায় জড়ো হয়ে হরতালের ডাক দিয়ে শহরে একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি বর্তমান হারুন পার্ক এলাকায় আসা মাত্রই পুলিশ ও আনসার অতর্কিতে টিয়ার গ্যাস এবং গুলি ছুঁড়ে হামলা চালায়। এসময় পুলিশের ছুঁড়া গুলি মিছিলে অংশগ্রহনকারী গৌরীপুর মহাবিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র আজিজুল হক হারুনের গলায় এসে বিদ্ধ হয়। হারুনের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফটিয়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। শহীদ হারুন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ গ্রামের মৃত মিয়া বক্স সরকারের পুত্র। মৃত্যুর পর তাকে নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশে সমাহিত করা হয়। প্রতিবছর গৌরীপুরে ২৭ জানুয়ারি শহীদ হারুণ দিবস বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে পালিত হয়ে আসলেও হারুনের পরিবারের খবর কেউ রাখেনা। যে স্থানটিতে হারুন গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছিলেন সে এলাকায় তার নামে স্থাপন করা হয় শহীদ হারুন পার্ক। কিন্তু সেটি আজ বিলীনের পথে। হারুনের মৃত্যুর প্রায় ৪২ বছর পর সাবেক ভি.পি বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হকের আবেদনের প্রেক্ষিতে সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মুজিবুর রহমান ফকিরের উদ্যোগে শহীদ হারুন পার্ক ময়দানে স্থাপন করা শহীদ হারন স্মৃতিস্তম্ভ। এখানে উল্লেখ্য অনুরূপ ঘটনায় ২০ জানুয়ারি রাজধানীতে শহীদ হন আসাদ ও নবকুমার ইনস্টিটিউটের ৯ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মতিউর রহমান এবং ২৪ জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরে শহীদ হন আলমগীর মনসুর মিন্টু। শহীদ হারুন দিবসের কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন গৌরীপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুর রহিম, ডেপুটি কমান্ডার নাজিম উদ্দিন, বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, জয়নাল আবেদীন, কাজী নিজাম চিশতী, তোফাজ্জল হোসেন, আব্দুল গণি, প্রদীপ বাবু, রিয়াজুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য এইচ এম খায়রুল বাসার, গৌরীপুর সরকারি কলেজের প্রদর্শক নূর আহাম্মদ শেখ, দর্শন বিভাগের প্রভাশক হারুন অর রশিদ, গৌরীপুর সাংবাদিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি বেগ ফারুক আহাম্মদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হাসান লিটন, গৌরীপুর সংগীত নিকেতনের পরিচালক এম এ হাই, সাংবাদিক রায়হান উদ্দিন সরকার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি মশিউর রহমান কাউসার, সাধারণ সম্পাদক উজ্জল চন্দ, সদস্য মুজিবুর রহমান, মুক্তার উদ্দিন, বিল্লাল হোসেন, শ্রমিকলীগ নেতা আলিফ খান, রেলওয়ে শ্রমিকলীগ নেতা ইলিয়াছ উদ্দিন, আ’লীগ নেতা জতিষ চন্দ্র বর্মণ, তপন সাহা প্রমুখ।

https://www.bkash.com/