স্কাউটিং নতুন সদস্যদের নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে – প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৫, ২০২৩, ৫:১৮ PM
স্কাউটিং নতুন সদস্যদের নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে – প্রধানমন্ত্রী

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডট কম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন , ‘স্কাউটিং নতুন সদস্যদের নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। আর তরুণদের মধ্যে আধুনিক, প্রগতিশীল, সৃজনশীল গুণাবলী বিকশিত হয়। ফলে স্কাউট সদস্যরা সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে, সচেতন ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছে।’

তিনি আরও বলেন, সংঘাত, ক্ষমতা দখল ও আগুন সন্ত্রাসকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  বুধবার (২৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে গাজীপুরের মৌচাকে ৩২তম এশিয়া প্যাসিফিক ও একাদশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকের যে বাংলাদেশ আমরা দেখছি, তা কিন্তু আগে ছিল না। বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে নানা ঘাত-প্রতিঘাত অতিক্রম করতে হয়েছে। ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতায় আসি, তারপর থেকেই দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই, দেশ আরও উন্নতি করুক। যেখানে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ স্থান পাবে না। সাম্প্রদায়িকতা-সন্ত্রাস থেকে মুক্ত থাকবে। কাজেই আজকের শিশু যারা বড় হবে তারা বাংলাদেশে উদার মন নিয়ে বড় হবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্বু হবে। দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ও দেশ গঠনে কাজ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ দেখে আমাদের যে ধারণা, এক সময় বাংলাদেশ কিন্তু এটা ছিল না। ক্ষুধা, দারিদ্র্যতা নিত্য সঙ্গী ছিল। আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে- ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আজকের বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ।’

স্মার্ট জনগোষ্ঠী গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আজকে যতদূর এগিয়েছে, ভবিষ্যতে আমাদের আজকের শিশু-কিশোর-তরুণ বাংলাদেশকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।’

এ সময় স্কাউটদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, স্কাউটদের মধ্যেই সুপ্ত আছে আমাদের দেশের ভবিষ্যত, রাজনৈতিক নেতা, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, প্রকৌশলী, কবি-সাহিত্যিক, প্রশাসক শিক্ষক, প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য, যারা দেশের সেবা করছে। তোমাদের মাঝ থেকেই সকলে উঠে আসবে। তোমরাই পারবে আগামীতে দেশকে এগিয়ে নিতে। তোমাদের মাঝ থেকেই তো সেই নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। সেই ভরসা আমার আছে। তোমরা সেটা পারবে।’

এর আগে ৩২তম এশিয়া প্যাসিফিক ও একাদশ জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বুধবার গাজীপুরের মৌচাকে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদিন বেলা ১১টার দিকে মৌচাকের জাতীয় স্কাউট মাঠে সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাঠে শুরু হয়েছে জাম্বুরি। এই মুহূর্তে চলছে সমাপনী অনুষ্ঠানের মহড়া। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল ছাড়াও ইউরোপ, আমেরিকাসহ দেশ-বিদেশের প্রায় ১১ হাজার স্কাউট, স্কাউট কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবক ও রোভার স্কাউট ৯ দিনের এই সমাবেশে অংশ নিয়েছেন।

নয় দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে স্কাউটদের জন্য থাকছে তাঁবুকলা, হাইকিংনাইট হাইকিং ও ইয়ুথ ভয়েজ, নেইবারহুড, ক্যাম্প ফায়ার, খেলাধুলা ও মেধা যাচাইসহ মোট ২০টি চ্যালেঞ্জ। এসব চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণ করে স্কাউটরা তাদের মেধা, শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, আধ্যাত্মিক বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হবেন। পুরো স্কাউট জাম্বুরিকে মোট চারটি ভিলেজে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ভিলেজে দুটি করে মোট ৮টি সাব-ক্যাম্পে বিভক্ত।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু এরিনায় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান জামুরী চীফ ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, বাংলাদেশ স্কাউটস সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এসময় প্রধানমন্ত্রীকে জাম্বুরীর স্কার্ফ ও ব্যাজ প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ও জাম্বুরী চীফ ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, আজ থেকে ০৮ বছর আগে ২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এপিআর কনফারেন্সে এই জাম্বুরীর বীজ বপন হয়। আজকে তা পূর্ণতা পেয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে উঠবে মর্মে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

https://www.bkash.com/