‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ১৯, ২০১৫, ২:০৫ PM
‘সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই’

resize-400x221ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডটকম : পৌরসভা নির্বাচনে মাঠে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই। এজন্যে সেনাবাহিনী মোতায়নের প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ।

শনিবার বেলা ২টায় সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার।

কাজী রকিব উদ্দিন বলেন, প্রার্থীরা নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনেই প্রচারণা চালাচ্ছেন। মাঠে পূর্ণশৃঙ্খলা রাখতে নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে। তবে যাদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অর্থাৎ এখন পর্যন্ত মাঠের পরিস্থিতি অনুকূলে রয়েছে।

জেএমবি ও জঙ্গি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জেএমবি ও জঙ্গি গোষ্ঠী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনগুলো ঝুকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্র তা নির্ধারণ করার চেষ্টা চলছে। যেসব ভোট কেন্দ্র বিশৃঙ্খলা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োগ দেয়া হবে।

পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার সকাল ১১টার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক বসে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে শুরু হয়।

বৈঠকে অপরাধী, সন্ত্রাসী, মাস্তানদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ প্রভাব বিস্তারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ নির্দেশনা দিতে যাচ্ছে ইসি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অব অফিসার, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, এনএসআই, ডিজিএফআই, ডিবি ও কোস্টগার্ড, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ সব বাহিনীর প্রতিনিধিরা এতে উপস্থিত থাকবেন।

সিইসি, চার নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ, জাবেদ আলী, মো. শাহনওয়াজ এবং ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ভোট পরিস্থিতি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মতামত নেবেন ও তা পর্যালোচনা করে নির্দেশনা দেবেন।

বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ জানান, চিহ্নিত সন্ত্রাসী-অপরাধীদের ধরার বিষয়টি পুলিশের কাজ। তবে আমরা চাই ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে।

সেক্ষেত্রে যারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে নিয়োজিত থাকবে তাদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হবে- সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্ন সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার।

পৌরসভা নির্বাচনে কমিশনের এখনো পর্যন্ত সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো চিন্তা নেই। র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি দিয়েই পৌর নির্বাচন পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য পুলিশ, আনসার-ভিডিপি ও ব্যাটেলিয়ান আনসার থাকবে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে বিজিবি, র‌্যাব, এপিবিএন, কোস্টগার্ড ও পুলিশ সদস্যরা নিয়োজিত থাকবেন।

এছাড়া পৌর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নির্বাচনপূর্ব শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি, নির্বাচনী দ্রব্যাদি পরিবহন ও সংরক্ষণের নিরাপত্তা বিধান, নির্বাচনী আইন এবং আচরণ বিধি সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালনের জন্য পরিবেশ তৈরি করা এবং ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তাসহ বেশ কয়েকটি বিষয় আলোচনার জন্য এজেন্ডাভুক্ত করা হয়েছে।

এ বৈঠক করেই রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ ও ডিবির প্রতিবেদন হাতে নেবে ইসি। ভোট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা নিয়ে নিরাপত্তা সদস্য বাড়ানো ও টহল জোরদার হবে বলে সূত্র জানায়।

ঘোষিত তফসিল অনুসারে, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ। এতে ১৯টি দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মেয়র পদে মোট ৯২৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

এছাড়া সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১১,০০০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এতে ৩,৫৮২টি ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার প্রায় ৭২ লাখ। ভোটগ্রহণে নিয়োজিত থাকবেন মোট ৬১,১৪৩ জন কর্মকর্তা।
সূত্র- আমাদের সময়

https://www.bkash.com/