রোগির সমস্যা ছিল বুকে চিকিৎসা হয়েছে পেটে ॥ তদন্ত কমিটি গঠন


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ১৮, ২০১৮, ১:৩৬ PM
রোগির সমস্যা ছিল বুকে চিকিৎসা হয়েছে পেটে ॥ তদন্ত কমিটি গঠন

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার ডাক্তারের ভূল চিকিৎসায় রুস্তম আলী (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদেরকে তদন্ত সম্পন্ন করে রিপোর্ট পেশ করা নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ একেএম আব্দুর রব। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ রবিউল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তদন্ত কমিটির প্রধান নির্বাচিত করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট ডাঃ মহসীনকে। তিনি জানান, যে রোগিটির মৃত্যু হয়েছে তার চিকিৎসা হয়েছিল পেটের ব্যথার কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তার সমস্যা ছিল বুকে। হাসপাতালে ভর্তির সময় পেট ব্যথার কথা বলে তাকে ভর্তি করা হয়েছিল। যদি ওইসময় স্ট্রোক করেছিল অথবা বুকের ব্যথার কথা ডাক্তারকে বললে তার সঠিক চিকিৎসা হত। উল্লেখ্য মঙ্গলবার (১৬ জানুয়ারি) ৩ টা ৫০ মিনিটে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই ব্যক্তির মৃত্যু ঘটে। নিহত রুস্তম আলী এ উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত শবদর আলীর পুত্র। নিহতের ভাতিজা সোবহান আলী (৩২) জানান তার চাচা হৃদরোগে আক্রান্ত হলে ঘটনারদিন দুপুর দেড়টার দিকে গৌরীপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত ডাক্তারের অধীনে তার চিকিৎসা চলছিল। বিকেলে ডাক্তার শাহল রহমান খানের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীর শরীরে ঘুুমের ইনজেকশন পুশ করলে সাথে সাথেই চিৎকার দিয়ে তার চাচা মারা যান। এসময় তিনি অভিযোগ করে বলেন ডাক্তারের ভুল চিকিৎসার জন্যই তার চাচার মৃত্যু হয়েছে। এদিকে বুধবার বেলা ১১টায় নিহত রুস্তম আলীর জানাযার নামাজ শেষে তার লাশ দাফন করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রুস্তম আলী একজন দরিদ্র কৃষক, ঘরের ভিটে ছাড়া তার কোন জমি নেই। অন্যের জমিতে চাষাবাদ ও মাছ ধরার বাইর বিক্রি করে স্ত্রী ও ৩ সন্তানদের নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তার অকাল মৃত্যুতে বর্তমানে এ পরিবারটির ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। গৌরীপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মুকতাদির খান তুষার জানান নিহত রুস্তম আলীর পরিবারে কোন সচেতন লোক ও আর্থিক সমর্থ না থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে। তদন্ত হলে সঠিক তথ্য বেরিয়ে আসবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক্তার শাহল রহমান খান জানান উল্লেখিত রোগীটি যে সময় ভর্তি হয়েছিল তখন কর্তব্যরত ডাক্তার ছিলেন জেসমিন আক্তার। আমি ডিউটিতে আসার পর রোগীর প্রেশার হঠাৎ বেড়ে গেলে তাকে ঘুমের (ডিসোফেন) ইনজেকশন পুশ করার পর তার মৃত্যু হয়। তিনি বলেন ওই রোগীটিকে গৌরীপুর হাসপাতালে ভর্তির পর তাৎক্ষনিক ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিসিইউতে রেফার্ড করা উচিত ছিল। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহাম্মেদ জানান নিহত রোগীর পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ না করায় ময়না তদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

https://www.bkash.com/