রবিবার, ০৩ Jul ২০২২, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

রোকন উদ্দিন হাই স্কুলে ভুয়া নির্বাচন দেখিয়ে কমিটি গঠনের অভিযোগ

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডট কম : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার রোকন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে গোপনে স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের জন্য বোর্ড চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শিক্ষা অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছেন ছাত্রী অভিভাবক ও জমিদাতারা।
লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, রোকন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি একটি প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মো. মোকছেদ আলী তার স্বার্থ চরিতার্থ করতে অগনতান্ত্রিক উপায়ে একটি নীল নকশায় মেতে উঠেছেন বলে জানা গেছে।

কৌশলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজারমোহসিনা বেগম কমিটি গঠনের জন্য প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ নেন। তিনি স্কুলে না গিয়ে প্রধান শিক্ষকের পকেট কমিটিতে স্বাক্ষর করে দেন।

বিধি উপেক্ষা করে মুষ্টিমেয় কিছু লোকজনের মাধ্যমে পকেট কমিটির ন্যায় একটি পরিচালনা কমিটি গঠনের সকল প্রস্তুতি শেষ করে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে জমা দিয়েছেন। যা বাতিল পূর্বক গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটার তালিকা প্রকাশ ও অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন করে বিধি মোতাবেক পরিচালনা কমিটি গঠনের পক্ষে ছাত্রী অভিভাবক, জমিদাতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মতামত দিয়েছেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আছিম ইউনিয়নের লাঙ্গল শিমুল গ্রামের একমাত্র নারীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রোকন উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষকের কিছু বিতর্কিত কর্ম কান্ডের জন্য অতিত সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশে প্রধান শিক্ষকের অদক্ষতায় প্রতিষ্ঠানটি হারিয়েছে শিক্ষার মান। ফলে দিন দিন কমে যাচ্ছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির সুযোগে সহকারী শিক্ষকরাও সুযোগ নিচ্ছে।
অভিযোগ নিয়ে কথা হয় ছাত্রী, ছাত্রী অভিভাবক, জমিদাতা, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষকদের সাথে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, তাদের নিয়মিত ক্লাশ হয় না। অনেক স্যারেরা ময়মনসিংহ থেকে আসেন, সময়মত আসতে পারেন না। স্কুলের বাউন্ডারী নাই, টিনের বেড়া ছিল বাতাসে ফালাইয়া দিছে। অনেক সময় লজ্জায় আমরা বাথরুমে যেতে পারি না। কমিটি গঠন বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না।
ছাত্রী অভিভাবক গোলাম হোসেন ও জুলহাস বলেন, অন্যান্য স্কুলে কমিটি গঠন হলে নির্বাচন হয়, এখানে কোন নির্বাচন হতে দেখি নাই এমনকি শুনি নাই। কমিটি গঠন হলে আমরা যারা অভিভাবক আছি আমাদের ডাকা উচিত ছিল। আমাদের না জানিয়ে অভিভাবক নির্বাচিত করা হলে, তা হবে অবৈধ।
অপর অভিভাবক মাহফুজুর রহমান বলেন, আমার মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে। নির্বাচনের কোন নোটিশের কথা এখনো আমাকে বলেনি। কবে ভোটার তালিকা হল তা আমরা কিছুই জানি না।
আ. কাদের (অব. পুলিশ) বলেন, এখানে হেড মাস্টারের একক আধিপত্য। উনি নিজেই সভাপতি নিজেই প্রধান শিক্ষক। তারমতে এটা একটা রাজতন্ত্র, তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারে না।
অভিযোগকারী ও ছাত্রী অভিভাবক আশরাফুল আলম উজ্জল বলেন, কমিটি গঠন করতে গেলে ভোটার তালিকা করে খসড়া তালিকা প্রকাশ এবং চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। হেড মাস্টারের সাথে সম্প্রতি কথা হয়েছে তিনি বলেছেন কমিটি হয়নি খুব তাড়াতাড়ি ভোটার তালিকা করা হবে। অথচ গোপনে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোহসিনা বেগম কে ভুয়া প্রিজাইডিং অফিসার বানিয়ে কমিটি বানানোর যত প্রক্রিয়া সব শেষ করেছে। যে ৪/৫জন কে নিয়ে কমিটি করে অনুমোদনের জন্য জমা দিয়েছেন যা অত্যন্ত দু:জনক। একজন শিক্ষক এত দুর্নীতিগ্রস্থ হলে তার কাছ থেকে শিক্ষার্থীরা কি শিখবে?
স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মোকছেদ আলী কে পাওয়া যায়নি। তিনি কোন ছুটি নিয়েছেন কি না জানতে চাইলে কোন শিক্ষকই কথা বলতে রাজি হয়নি? মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি অসুস্থ।

একাডেমিক সুপারভাইজার মোহসিনা বেগম বলেন, আমাকে তো প্রচার করেছে সেটা স্বাক্ষর সহ দেখিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ নাহিদুল করিম বলেন, অভিযোগ বিষয়ে তদন্তের জন্য বলা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইট © ফুলবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম ২০২০
Design & Developed BY A K Mahfuzur Rahman