রেমিটেন্স যোদ্ধা কাশেমের দেশে ফিরে আসার আকুতি 


প্রকাশের সময় : সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২০, ৫:০৪ PM
রেমিটেন্স যোদ্ধা কাশেমের দেশে ফিরে আসার আকুতি 
জাহিদুল ইসলাম খান, ভালুকা : একটু স্বচ্ছলতার সঙ্গে বেঁচে থাকার আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি দিয়েছিলেন ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মৃত ফইজউদ্দিন মুন্সীর ছেলে নূর কাসেম (৩৫)।  পিতৃহারা কাশেমের সংসারে একমাত্র উর্পাজনক্ষম এই কাশেম।সংসারে বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও এক মেয়ে আছেন। একটু স্বচ্ছলতার আশায় দেশের মায়া ত্যাগ করে ৭ বছর আগে দাল্লা কোম্পানির মাধ্যমে সৌদি আরবে যান। প্রথম বছর তার ভালই কেটেছে, কাজ করতেন মদিনায়। কিন্তু ওই কোম্পানির কাজের পারমিট শেষ হয়ে যাওয়ায় পরের ৬টি বছর বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে এই কোম্পানি থেকে ওই কোম্পানির হয়ে কাজ করে কাশেম। শুক্রবার তিনি টেলিফোনের মাধ্যমে এ প্রতিবেদককে এসব কথা জানান।
কাশেম জানায়, তিন বছর একটি ছোট কোম্পানিতে কাজ করার পর কোন বেতন পাইনি। পরে কাশেমসহ কয়েকজন ওই কোম্পানির নামে স্থানীয় আদালতে মামলা করেন। দীর্ঘদিন মামলা চালানোর পর ওই কোম্পানি সবাইকে তের হাজার পাঁচশত রিয়াল দিয়ে মামলা আপোষ করে। কাশেম পরিবারের কথা চিন্তা করে স্থানীয় একজন কফিল (স্থানীয়ভাবে কাজের অনুমতি দেয়) কে রাজী করিয়ে খুবই অল্প বেতনে সৌদি আরবে থাকেন। তার আশা ছিল একদিন না একদিন বেতন বাড়বেই। কিন্তু তার স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। এই বছরের রোযা হতে তার শরীরে বাসা বাঁধেে নানা রোগ। ওই দেশের একটি হাসপাতালের ডাক্তার তাঁকে জানায় তার হার্টের, কিডনী ও আলসারের সমস্যা আছে।  বর্তমানে কাশেমের মুখ ও শরীর  ঘা হয়ে গেছে, পায়ে পানি এসেছে, ঠিকমত হাঁটতে পারে না।  খেয়ে না খেয়ে কোনমতে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে। সৌদি আরবের ডাক্তার বলছে এই ধরনের চিকিৎসা এখানে অনেক ব্যয়বহুল।  দেশে গিয়ে চিকিৎসা করেন।
কাশেম কান্নাজরিত কন্ঠে বলেন, আমি বর্তমানে জেদ্দা  ইশারা সেপটিন মাতাম হেরা এলাকায় আছি। দেশে যাওয়ার জন্য কফিলকে বললে সে অনেক টাকা চায়। টাকা দিলে সে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিবে।কাশেম জানায় আমার তো টাকা নাই আমি কেমনে টাকা দিব।
নিরুপায় কাশেম সৌদি আরবের জেদ্দা বাংলাদশের  দূতাবাসে গিয়ে তার চিকিৎসার সমস্ত কাগজপত্র দিয়ে আসে। কিন্তু তারা কোন কাজ করছে না।  কাশেম জানায়, তারা (দূতাবাস) আমার সাথে অনেক খারাপ ব্যবহার করে। তারা আমাকে গালিগালাজ করে আর সাফ জানিয়ে দেড় মাস পর যোগাযোগ করতে।  দেড় মাস আগে দূতাবাসে আসতে ও ফোন করতে বারন করে।
কাশেম কেঁদে কেঁদে বলে ভাই আমি দেড় মাস বাঁচবো না।৷ না খেয়ে মরে যাব। আমাকে বাঁচান, আমি আমার সন্তান ও মায়ের মুখ দেখতে চাই।  পরিবারের কাছে যেতে চাই, ভিটা বাড়ী বিক্রি করে হলেও চিকিৎসা করাতে চাই। আমার কাছে পাসপোর্ট আছে কিন্তু আকামা ৫বছর যাবত মেয়াদ উত্তীর্ণ। আমি বাঁচতে চাই, দেশে ফিরে আসতে চাই। মৃত্যুপথযাত্রী কাশেম দেশে ফিরে আসতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
https://www.bkash.com/