রাজস্ব ঘাটতিতে বেনাপোল বন্দর


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২, ২০২৩, ১:৫১ PM
রাজস্ব ঘাটতিতে বেনাপোল বন্দর

বৈশ্বিক মন্দায় ডলার সংকটের কারণ দেখিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চাহিদামতো এলসি (ঋণপত্র) খুলতে অপারগতা প্রকাশ করায় বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। এর ফলে বেনাপোল বন্দর বাণিজ্য ও রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আমদানি কমায় এরই মধ্যে গত ৪ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩১৩ কোটি টাকা।
বছরের শুরুতে ব্যাংকগুলো এলসির সংখ্যা কিছুটা বাড়ালেও গত চার মাস ধরে আবার তা কমিয়েছে। চলমান সংকট দ্রুত না কাটলে সামনের দিনে শিল্পকারখানার যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, খাদ্যসহ অনেক পণ্যের আমদানি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৫শ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৩শ ট্রাকে। এতে সরকারের রাজস্ব ঘাটতিও দেখা গেছে। রপ্তানি বাণিজ্যও অর্ধেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ ট্রাকে। জানা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের খেসারত দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকেও। ইতেমাধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে সবকিছুর দাম ঊর্ধ্বগতিতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যয়ের মুখে। খাদ্যদ্রব্যসহ শিল্প, কলকারখানার কাঁচামাল ও মেশিনারিজ

দ্রব্য আমদানি করতে মূল্য ডলারে মেটাতে হয় বাংলাদেশকে। কিন্তু বৈশ্বিক মন্দায় ডলারের দাম ঊর্ধ্বগতি আর সংকটের কারণ দেখিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কয়েক মাস ধরে এলসির সংখ্যা কমাতে থাকে। এখন ডলার সংকট আরও বাড়ায় চলতি মাস থেকে এলসির সংখ্যাও আরও কমিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এতে আমদানিকারকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

বর্তমানে ভারত থেকে ৮০ শতাংশ পুরনো এলসি আর ২০ শতাংশ নতুন এলসির পণ্য আমদানি হচ্ছে। দ্রুত এ সংকট কাটাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নিলে আমদানি বাণিজ্য বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে। এর বিরূপ প্রভাবে দেশে খাদ্য ঘাটতিসহ আমদানি পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমদানিকারক আমিনুল হক জানান, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমদানি পণ্যের এলসি কমিয়ে দেওয়ায় মারাত্মক সমস্যার মুখে ব্যবসায়ীরা। এভাবে আমদানি বাধাগ্রস্ত হলে দেশের শিল্প কলকারখানা অচল হয়ে পড়বে। এমনকি নিত্যপণ্যের সংকটও দেখা দেবে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কাস্টমস বিষয়ক সম্পাদক আবদুল লতিফ বলেন, গত ৩ মাস থেকে সব ধরনের এলসি নেওয়া কমিয়ে দিয়েছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এতে সংকটে পড়েছি। দ্রুত এ সংকট না কাটলে সামনে বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

বেনাপোল বন্দরের আমদানিকারক উজ্জ্ব¡ল বিশ্বাস বলেন, বর্তমান এলসির ক্ষেত্রে ব্যাংকে ডলারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা। যা দুই মাস আগেও ছিল ১০৬ টাকা। তবে এলসি খুলতে ব্যাংক ১২০ থেকে ১২৫ টাকা কাটছে। এতে পণ্য আমদানিতে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক রেজাউল করিম জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানির পরিমাণ অনেক কমেছে। তবে যেসব পণ্য আমদানি হচ্ছে দ্রুত সেগুলো ছাড়ের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

বেনাপোল সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার কমার্স ব্যাংকের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন জানান, ডলার সংকটের কারণে তারা আমদানিকারকদের চাহিদামতো এলসি গ্রহণ করতে পারছেন না। তার পরও সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন। সংকট কাটলে এ সমস্যা থাকবে না।

বেনাপোল কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার সাফায়েত হোসেন জানান, আমদানি কমায় গত ৪ মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে৩১৩ কোটি টাকা।

https://www.bkash.com/