বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

রাঙ্গামাটিয়া ইউপি সদস্য সেকান্দর আলীর বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

এনায়েতুর রহমান  : ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো: সেকান্দর আলীর বিরুদ্ধে গর্ভধারিনী মা আদালতে মামলা করেছেন।
জানা যায়, রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুলের বাজার এলাকায় রবিউল্লাহ মৃত্যুর সময় ৭ছেলে ও ৮মেয়ে মেয়ে রেখে যান। তার সহায় সম্পত্তিতে সকলেই সমান ভাগ পাওয়ার কথা। তাদেরই একজন সেকান্দর আলী। তিনি ঐ ওয়ার্ডের ২য়বার মেম্বার। মেম্বার থাকাকালীন সময় তিনি নিজেদের মধ্যে ওয়ারিশ নিয়ে একজন মামলাবাজ মেম্বার হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বাবুলের বাজার এলাকায় ১৩শতাংশ জমি রয়েছে মৃত রবিউল্লার। সেই দামী জমির উপর লোভ পড়ে সেকান্দরের। কারসাজি করে ভুয়া একটি হেবা ঘোষনা পত্র দলিল হাতে নিয়ে ১৩শতাংশ জমির মধ্যে ৭শতাংশ জমি বিক্রি করে দেন স্থানীয় আবু তাহের গংদের কাছে। সেই জমি দখল নিয়ে হয় মারামারি। ১৭ মে বিকালে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাজারের জমি দখল বুঝিয়ে দিতে যায় সেকান্দর। মারামারি থামাতে সেখানে যায় মা আম্বিয়া খাতুন। আর তাকে মাথা ফাটিয়ে রক্তাত্ত করে দেন জমি সেকান্দরসহ ক্রেতা আবু তাহের গংরা। নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাত শুরু হলে অন্য সন্তানরা স্থানীয়দের সহযোগিতায় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করান আম্বিয়াকে। ৮দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকলেও মাকে দেখতে যায়নি পাষান্ড পুত্র সেকান্দর।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানায়, মৃত রবিউল্লার বাবুলের বাজারের জমিতে জোর করে প্রবেশ করা নিয়ে রফিকুল গংদের সাথে মারামারি হয় ১৮ মে বিকাল ৩টার দিকে। ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ১১টার দিকে মৃত রবিউল্লার পুত্র সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। পরদিন ১৯ মে একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউন্টার মামলা করে জমি ক্রেতা রফিকুল ইসলাম। ভাইদের কে ঘায়েল করতে নিজেই মাঠে নামেন ওয়ার্ড মেম্বার সেকান্দর আলী। ১লা জুন বাড়ীর কাছের ১৯শতক জমির আনারস, কলার বাগান সহ ফসলি জমির ক্ষতির অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেন সেকান্দর এবং ঐদিনই মামলাটি এফআরআই করা হয়। ২ জুন বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে আসামিরা জামিন আবেদন করলে তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদালত। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে গর্ভধারনীনি মাকে মেরে আহত ও ঔরসজাত সন্তানদের মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার দায়ে ছেলে ১নং ওয়ার্ড মেম্বার সেকান্দর এর বিরুদ্ধে মাদকসেবন সহ জোর পূর্বক জমি লিখে নেওয়ার অভিযোগ এনে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাজারের জমি অনেক দামী। ওয়ারিশানদের ঠকিয়ে জোর পূর্বক ঐ জমি দখল করতে ব্যস্ত ঐ মেম্বার। মারামারির এক পর্যায়ে বয়োবৃদ্ধ আম্বিয়াও (মা) আহত হয়। ফসলি জমিতে কানায় কানায় পূর্ণ ফসল। আনারস ও কলা কিছুদিনের মধ্যেই হয়তবা বিক্রি উপযোগি হবে।
মা আম্বিয়া জানান, আমার এই ছেলেটা (ওয়ার্ড মেম্বার সেকান্দর আলী) হঠাৎ বিপথে চলে গেছে। আমার কোন খোজ খবর নেয় না। জমির প্রতি তার লোভ বেড়ে গেছে। আমার মেয়ে, মেয়ের জামাই, ছেলে, ছেলের বউ সহ পরিবারের সবাইকে অযথা মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে। মহামান্য আদালতের কাছে আমি বিচার চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইট © ফুলবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম ২০২০
Design & Developed BY A K Mahfuzur Rahman