ময়মনসিংহের প্রায় আড়াই হাজার সপ্রাবি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে: গ্রামীন ফোনের সাথে ডিপিও’র চুক্তি


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ২৬, ২০১৮, ১২:৩৬ PM
ময়মনসিংহের প্রায় আড়াই হাজার সপ্রাবি মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে: গ্রামীন ফোনের সাথে ডিপিও’র চুক্তি

ফুলবািড়য়া নিউজ 24 ডট কম : মানসম্মত, আধুনিক, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল শিক্ষা এবং বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দেশে এই প্রথম ময়মনসিংহ জেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (২৪ জানুয়ারি) শীর্ষ স্থানীয় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ফোনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভাষার মাসে (ফ্রেরুয়ারী) জেলার ১৩টি উপজেলার ২ হাজার ৪শত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই কার্যক্রম চালু হবে।

মানসম্মত ও বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষা পাঠদান এবং আধুনিক ডিজিটাল, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভরসহ প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে শিক্ষা নগরী ও দেশের অষ্টম বিভাগের ময়মনসিংহ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেনের ঐকান্ততিক প্রচেষ্টায় শিক্ষকদের উপস্থিত নিশ্চিত করণে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রামীন ফোনের সাথে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী গ্রামীন ফোন কোম্পানী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) এডিপিইও, ১৩টি উপজেলার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, ইন্সট্রাকটর, সহকারী ইন্সট্রাকর ও ২ হাজার ১১২ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের ইউআরসির মাঝে বিনামূল্যে ২ হাজার ৪শত মোবাইল সীম বিতরন করবে। বুধবার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে চুক্তিতে দেশের শীর্ষ স্থানীয় মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীন ফোনের পক্ষে এস এম ফাতিন নূর, জুনিয়র ট্রেইনি ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষর করেন। এসময় জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন জানান, উদ্ভাবনী কাজের অংশ হিসেবে প্রতিদিন প্রতিটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপজেলার সহকারী শিক্ষা অফিসারকে উপস্থিত ও অনুপস্থিত শিক্ষকের তথ্য দিবেন পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তথ্যটি প্রদান করবেন। একই তথ্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালক বরাবরে প্রেরন করবেন। কোন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক যদি মোবাইল ফোনটি বন্ধ রাখলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মনিটরিং করে শিক্ষকের উপস্থিতি সনাক্ত করতে পাবেন এই ধরনে সফটওয়ার সংযুক্ত সীম দেয়া হচ্ছে।

বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির দিনে প্রতিটি শিক্ষকের কাছে মোবাইল ফোন রয়েছে ফলে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ব্যাতিক্রম এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে তেমন অসুবিধায় পড়তে হবে না। মোবাইল ফোনে শিক্ষকদের উপস্থিত নিশ্চিত করনের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতি অকারনে নৈমিক্তিক ছুটি নেয়ার প্রবনতা কমে যাবে। ইতিপূর্বে দেশে এ ধরনের উদ্যোগ আর নেয়া হয়নি। এটি বাস্তব সন্মত ব্যাতিক্রমী উদ্যোগের ফলে মানসন্মত ও বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যালয়ে পড়াশুনার মান অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে। এই উদ্যোগ সারা দেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘোষিত ২০১৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল শিক্ষা এবং মানসন্মত বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন ও বিদ্যালয়ে শিক্ষদের উপস্থিত শতভাগ নিশ্চিতে রোল মডেল হবে উল্লেখ করে শিক্ষাবিদরা বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সাথে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা তাল মিলিয়ে নতুন প্রজন্মকে প্রাথমিক স্তর থেকে আধুনিক, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘোষিত ২০১৮ সালে দেশের প্রতিটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজিটাল ক্লাস প্রদানে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে ডিজিটাল নির্ভর মালিটমিডিয়ার মাধ্যমে আনন্দঘন পাঠদান করতে ইতিমধ্যেই শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও নতুন প্রজন্মকে প্রাথমিক স্তর থেকে আধুনিক, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ঘোষণা অনুসারে ১ জানুয়ারী জেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ে লেপটপ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষায় নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে তোলার এ প্রদক্ষেপে শিশুরা লেপটপ পেয়ে অনেক উৎসাহিত হয়েছে।পর্যায় ক্রমে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার এই উদ্যোগ সারা দেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু করা হলে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্ঠা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক, তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ও ডিজিটাল শিক্ষা এবং মানসন্মত বাধ্যতা মূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নের এক অন্যন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

https://www.bkash.com/