মধুপুরে তারুণ্য দ্বীপ্ত তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২২, ২০১৭, ১০:৫৮ AM
মধুপুরে তারুণ্য দ্বীপ্ত তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন

মো. নজরুল ইসলাম মধুপুর (টাঙ্গাইল) : বংশাই বিধৌত মধুপুর উপজেলা। লালমাটির বুকে সারি সারি শাল সেগুনের অবারিত বনাঞ্চল। পত্র পল্লবে মুগ্ধকর শোভাসিত। লাল ধসুর মাটির পল্লী প্রকৃতি অপরূপ। উচু নিচু বাইদ-টিলা। খাল-বিল ঝরনাধারা বহমান। সবুজের সমারোহ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলা ভূমি। প্রকৃতি কন্যার মতো মায়াময় ছায়াময়। ফকির সন্যাসী আন্দোলনের স্ুঁতিকাগার। আনন্দ মঠের পীঠস্থান। শালসেগুন আনারস কলার রাজধানী। মুক্তিযোদ্ধের ঐতিহ্যে সমজ্জল। শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানের নাম করনও হয়েছে। শিক্ষা বিস্তারেও রয়েছে এ উপজেলার রেকর্ড অর্জনকারি প্রতিষ্ঠান। শিক্ষা বিস্তার ও প্রসারকে আরো বেগবান কারার জন্য সরকারি বৃত্তির পাশাপাশি বেসরকারি বৃত্তি উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে এ উপজেলায়। এমন একটি বৃত্তি প্রদানকারি ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানের নাম “তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন”। প্রতিযোগিতার বিশ্বে গ্রামের চেয়ে শহর এলাকা শিক্ষায় অনেকটা এগিয়ে। হাতে গোনা দু’চারটা ছাড়া বেশির ভাগ মেধাবি শহর থেকেই বেড়িয়ে আসে। এদিক থেকে গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়ে। যাদের অর্থ বৃত্ত ও সামর্থ্য আছে তারা বিভিন্ন নামি দামি ক্যাডেট ও কোচিং কিন্ডার গার্ডেনে ছেলে মেয়েদের ভর্তি করিয়া থাকে। অপর দিকে শহরে সচেতন শিক্ষিত অভিভাবকরা তাদের আদরের সোনামণিদেরকে সম্মুখ পানে এগিয়ে নিতে তৎপর। অপর দিকে গ্রামের খেটে খাওয়া অভিভাবকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই একমাত্র ভরসা। নেই প্রাইভেট, নেই কোচিং এর ব্যবস্থা। প্রতিযোগিতার দৌড়ে এজন্য গ্রামের শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে পড়েছে। এ ধরনের ধ্যান ধারনা থেকেই এ তারুন্য দ্বীপ্ত তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের গঠন করা হয়েছে। যার নামে এ ফাউন্ডেশন করা হয়েছে তার নাম তারেবুর রহমান খান তারা। তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন নাম করণ করা হয়েছে। তারা একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ছিলেন। তারা মিয়ার ইচ্ছা ছিল অসহায় দুঃস্থ মানুষের সেবা করা। দরিদ্র মেধাবি ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে থেকে সহযোগিতা করা। বিধিবাম তার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়নি। হঠাৎ করে তারা খান ২০১০ সালে না ফেরার দেশে চলে যান। তার যোগ্য উত্তরসূরি নূরুল আলম খান রাসেল তার বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য বাবার নামে সকলের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতায় গঠন করেন মধুপুর আলহাজ তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন। এ বৃত্তি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সাল থেকেই। এ বৃত্তি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা সভাপতি নূরুল আলম খান রাসেল। রয়েছে ১৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। মধুপুর, ঘাটাইল ও ধনবাড়ির উপজেলার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমন্বয়ে করা হয়েছে ২৫ সদস্যের কার্যকরি পরিষদ। রয়েছে পরীক্ষা পরিচালনা কমিটি। পরীক্ষায় নিয়মকানুন ও বৃত্তি সংক্রান্ত তথ্যের জন্য রয়েছে প্রসপ্রেক্টাস। হাটি হাটি পা পা করে ৭ বছর অতিক্রম করেছে এ ফাউন্ডেশন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত এবং হাইস্কুল পর্যায়ে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ৮ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝিতে পরীক্ষা কমিটির মাধ্যমে মধুপুর শহীদ স্মৃতি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। জানুয়ারির মাঝামাঝিতে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এ ফাউন্ডেশন থেকে প্রত্যেক শ্রেণীতে শতকরা ১৫ ভাগ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়। প্রাথমিক শাখার ২য় শ্রেণীতে প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীকে ৮শ, ৭শ, ৬শ ও সাধারাণ কোঠায় ৫শ টাকা হারে বৃত্তি ও সনদপত্র দেওয়া হয়। এভাবে ৩য় শ্রেণী থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ৬শ টাকা থেকে ১৫শ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। তবে এখানে কিন্ডার গার্ডেন, কোচিং সেন্টার ও ক্যাডেট স্কুলের কোন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ করার সুযোগ নেই। এতে গ্রামের শিক্ষার্থীদের উৎসাহ ও প্রেরণা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এ ব্যাপারে মধুপুর তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নূরুল আলম খান রাসেল বলেন, আমার বাবা ছিলেন দুস্থ ও গরীব মানুষের জন্য নিবেদিত। তার মনোবাসনা পূরনের জন্য এ বৃত্তি চালু করেছি। যাতে শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের সহায়ক হয়্ ৭ বছর যাবত এ ফাউন্ডেশন থেকে বৃত্তি প্রদান করে আসছি। এ বছর ১৪৫ টি বৃত্তি প্রতিষ্ঠানের ১৫৮০ জন শিক্ষার্থী এ পরিক্ষায় অংশ নিয়েছে। যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে বৃত্তি প্রদান করা হবে। তিনি ভবিষ্যতে আরো প্রসার করা হবে। এছাড়াও সমাজসেবায় বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন বিষয়ে সম্মাননাও প্রদান করে থাকে।
মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, দরিদ্র ছেলে মেয়েদের লেখা-পড়ার জন্য শিক্ষা বৃত্তি তথ্য দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য একটি মহতি উদ্যোগ। সবার সার্বিক সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকলে তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন এই অঞ্চলের মানুষের শিক্ষা ও মন জয় করবে।
মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু বলেন, এই বৃত্তি দরিদ্র বঞ্চিত মানুষের সন্তানদের মাঝে শিক্ষার আলোক বর্তিকা প্রজ্জলনের অবিনাসি শিক্ষা সহায়ক ফাউন্ডেশন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উৎকর্ষ সাধনে আগামি দিনে সৎ যোগ্য ও সুদক্ষ সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে তারা বৃত্তি ফাউন্ডেশন অগ্রনি ভূমিকা পালন করবে।

https://www.bkash.com/