ভ্রাতৃত্বের বন্ধন : বৈলাজানে একই মাঠে ২১০ টি পশু কোরবানি


প্রকাশের সময় : জুলাই ১, ২০২৩, ৮:৩১ PM
ভ্রাতৃত্বের বন্ধন : বৈলাজানে একই মাঠে ২১০ টি পশু কোরবানি

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডট কম : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের বৈলাজান গ্রামে ঈদ উল আজহা উপলক্ষে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে একই মাঠে ২১০ টি পশু কোরবানি হয়েছে। শত শত বছর ধরে চলা পঞ্চায়েত পদ্ধতির এমন ঘটনা কবে থেকে শুরু হয়েছিল তার কোন সুনির্দিষ্ট তারিখ পাওয়া যায়নি।
উপজেলার বৃহত্তর কোরবানীর মাঠ বৈলাজান মধ্যপাড়ায় দুটি ঈদগাহ ও ৫টি মসজিদ সমাজ নিয়ে গঠিত। এ সমাজে সর্বমোট ১ হাজার ৪৯০টি খানা রয়েছে। এ বছর ৮০টি গরু ১৩০টি খাসি কোরবানী করা হয়েছে এই মাঠে। সকাল ১০টা থেকে কোরবানি পশু জবাই শুরু হয়ে মাংস তৈরির কাজ চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। এ উপলক্ষে কোরবানীর মাঠে বিরাজ করে আনন্দ ঘন পরিবেশ। মাঠের এক পাশে বসে সারি সারি দোকান। যেখানে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা তাদের পছন্দের জিনিসপত্র ক্রয় করে থাকে।
কোরবানির পশুর গোস্ত প্রথমত তিনভাগে বন্টন হয়ে থাকে। এক বন্টন থাকে সমাজের জন্য। এই সামাজিক বন্টন যেখানে রাখা হয় তাকে বলা হয় পঞ্চায়েত। পঞ্চায়েত পদ্ধতি পরিচালনার জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করা হয়। সেচ্ছাসেবীরা সামাজিক বন্টন শেষে এলাকা ভিত্তিক পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে দিয়ে বন্টন সংগ্রহ করেন। যদি কোন এলাকার মানুষ আসতে না পারেন, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ীতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করে থাকেন।
পঞ্চায়েত এর দায়িত্বে থাকা মো. হারুন অর রশিদ দুলাল বলেন, আমাদের এ কোরবানীর মাঠ কবে থেকে শুরু হয়েছে তা আমরা বলতে পারবো না। আমাদের জেটা মরহুম ইলাশী মন্ডল ১১৬ বছর বয়সে মারা গেছেন তিনিও বলে যেতে পারেন নাই।
কোরবানী প্রদানকারী সাংবাদিক হাফিজুল ইসলাম স্বপন জানান, আমি নিজে এই মাঠে কোরবানি দিচ্ছি। আমার বাবা ও দাদাকেও এই মাঠে কোরবানি করতে দেখেছি। কর্মের তাগিদে যাদের সাথে বছরে কোনদিন দেখা হয় না, বন্ধনের খাতিরে বছরে একবার হলেও তাদের সাথে দেখা হয়ে যায়। এতে বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
কোরবানী মাঠ কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য শাজাহান মিয়া বলেন, আমাদের অতীত ঐতিহ্যকে আমরা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। কোরবানির মাঠ পরিচালনার জন্য এ বছর ২২ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী টিম ছিল। মসজিদ ভিত্তিক বিভিন্ন সমাজ হতে একাধিক স্বেচ্ছাসেবক মনোনিত করে থাকেন। তারা বিনা পারিশ্রমিকে বন্টনের কাজটি করেন। বন্টন হয়ে গেলে নিজ উদ্যোগে মানুষ তাদের বন্টন সংগ্রহ করেন। বিশেষ কোন কারণে কেউ আসতে না পারলে স্বেচ্ছাসেবীরা সেই বন্টনটি ঐ ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেন।
বৈলাজান গ্রামের বাসিন্দা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি আবু ইউসুব বলেন, আমরা যারা এলাকার বাহিরে থাকি ঈদের মাঠে গ্রামের সকলের সাথে দেখা না হলেও কোরবানীর মাঠে সবার সাথে দেখা হয় ও কুশল বিনিময় হয়।

https://www.bkash.com/