ভিন্ন সাজে ফুলবাড়ীয়া কলেজ আগামীকাল নবীন বরণ


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ২৯, ২০২৩, ১১:৩৪ AM
ভিন্ন সাজে ফুলবাড়ীয়া কলেজ আগামীকাল নবীন বরণ

ডেস্ক রিপোর্ট : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া কলেজ ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এ উপজেলার সর্বোচ্চ প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ এটি। সময়ের বির্বতনে কলেজে এখন ৪টি বহুতল বিল্ডিং সহ ৩টি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। প্রবীন শিক্ষকরা জানান, ১৯৯৩ সালে এইচএসসি’তে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ হয়েছিল। ১৯৮৮ সালে ডিগ্রি কোর্স চালু হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে নবীন বরণ আয়োজন করা হয়নি কোন কালেও। ত্রিশ বছর পর ফুলবাড়ীয়া কলেজে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি প্রথম বর্ষ ও এইচএসসিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণ আয়োজন স্থানীয়দের মুখে বিশ্লেষণের তুফান বইছে। এমন আয়োজনকে মাইল ফলক বলে জানান শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

আয়োজকসুত্রে জানা গেছে, আগামীকাল ৩০ অক্টোবর সোমবার। উচ্চ মাধ্যমিক (বিএমটি সহ), ¯œাতক (পাস) ও ¯œাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলেজ মাঠে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকছেন জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. মশিউর রহমান। ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার উম্মে সালমা তানজিয়া, রেঞ্জ ডিআইজি মো. শাহ আবিদ হোসেন বিপিএম (বার), ময়মনসিংহ বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. গাজী হাসান কামাল, পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ পিপিএম, ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মালেক সরকার, বাংলাদেশ কাস্টমস এন্ড ভ্যাট এর ডেপুটি কমিশনার ও মোটিভেশনাল স্পীকার সুশান্ত পাল, ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ নাহিদুল করিম বিশেষ অতিথি থাকছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন গভর্ণিং বডির সভাপতি ও বাংলাদেশ কাস্টমস এর অতিরিক্ত কমিশনার এবং শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডক্টর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। সকাল ১০.৩০ মি. হতে দুপুর ১.২০মি. পর্যন্ত আলোচনা অনুষ্ঠান এবং বিকাল ৩.০০ টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন ঝিলিক, মিলন, অংকন এবং জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পীরা। ‘মন দিয়ে পড়বো, শ্রম দিয়ে গড়বো’ স্লোগানের আলোকে গৃহিত অনুষ্ঠানমালায় সানুগ্রহ উপস্থিতি কামনা করেন অধ্যক্ষ (চ. দা.) মো. আমজাদ হোসেন। অনুষ্ঠানে বেঁচে থাকা অব. শিক্ষক ও নবাগত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মিলনমেলায় পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচিত অনুষ্ঠানটি সফল করতে আপ্যায়ন, সম্বর্ধনা, শৃংখলা ও সাংস্কৃতিক কমিটি উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্নাতক (সম্মান) ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী শাকিল আহমেদ বলেন, বড় ভাইদের কাছে শুনেছি তারা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নবীনবরণ পায়নি, পরের প্রজন্ম পাবে কি না, জানিনা তবে আমরা ভাগ্যবান কলেজের লোগো সম্বলিত টি শার্ট, ক্যাপ ৬দিন আগে পেয়েছি। বরণ অনুষ্ঠান হবে, মনে একটা আলাদা আনন্দ লাগছে। বর্তমান গভর্ণিং বডির শুভ কামনা।

 


বাংলা বিভাগের নবীন শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান এর জাতীয় কবির পংক্তি উল্লেখ করে বলেন, আজকে আমার রুদ্ধ প্রাণের পল্বলে, বান ডেকে ঐ জাগল জোয়ার দুয়ার-ভাঙা কল্লোলে! আসল হাসি, আসল কাদন, মুক্তি এলো, আসল বাঁধন, মুখ ফুটে আজ বুক ফাঁটে মরো তিক্ত দুখের সুখ আসে ঐ রিক্ত বুকের দুখ আসে আজ সৃষ্টি-সুখের উল্লাসে।
এমন উদ্যোগ দীর্ঘদিন পরে হলেও ক্যাম্পাসে প্রাণের সঞ্চার হচ্ছে। এক সময় এই কলেজটিতে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে সুনাম ছিল কিন্ত মাঝখানে সুদীর্ঘ একটা সময় বিভিন্ন কারণে বন্ধ থাকে। বর্তমান সভাপতি রুচিশীল সাংস্কৃতিক কৃষ্টিকালচারে নিবেদিতপ্রাণ। এর মধ্যদিয়ে কলেজটি উজ্জীবিত হবে, শিক্ষক শিক্ষার্থী নতুন উদ্যমে অত্যাধুনিক উপায়ে যাত্রা করবে।
সহকারী অধ্যাপক মোঃ ইকবাল হোসেন বলেন, নবীন বরন আমেজে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমি নিজেও একজন শিক্ষক হিসেবে খুবই আনন্দিত। কারণ প্রাচীনতম কলেজ হলেও আমি সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে ঘটা করে নবীনবরণ আনুষ্ঠানিকভাবে এবারই প্রথম পাচ্ছি। এটা এক ধরনের ভাগ্যের ব্যাপারও বলা চলে। এমন আয়োজনটি করার জন্য ধন্যবাদ জানাতে চাই কলেজের বর্তমান সভাপতি ডঃ তাজুল ইসলাম স্যার কে যার পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ তত্বাবধানে এবারের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ ধারা যেন অব্যাহত থাকে সেই প্রত্যাশাও করছি। পাশাপাশি ফুলবাড়িয়া কলেজ শিক্ষক পরিবার, শিক্ষার্থী এবং ফুলবাড়িয়ার পাঁচলক্ষ জনতা আশা করে অচিরেই কলেজটি সরকারীকরণ এর মুখ দেখবে।
অধ্যক্ষ (চ. দা.) মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বরণ অনুষ্ঠানের সর্বশেষ প্রস্তুতির অবস্থান জানতে গতকাল শনিবার গভর্নিং বডির মাননীয় বিচক্ষন সভাপতি ডক্টর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম মহোদয় উপ কমিটির সাথে সকাল থেকে রাত অবধি দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। বৃহৎ অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। আগত আমন্ত্রিত অতিথিসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। তাহলেই আমাদের আয়োজন স্বার্থক হবে।

https://www.bkash.com/