ভালুকায় মাদ্রাসার শিক্ষক পিটিয়ে মারলো শিশু ছাত্রকে


প্রকাশের সময় : মার্চ ৫, ২০১৮, ৩:৫১ PM
ভালুকায় মাদ্রাসার শিক্ষক পিটিয়ে মারলো শিশু ছাত্রকে

জাহিদুল ইসলাম খান ভালুকা প্রতিনিধিঃ হুজুর আর মারবেন না ,আমি মরে যাবো ,আমাকে আমার মায়ের কাছে পাটিয়ে দেন ..এই রকম আতœচিৎকারেও মন গললো না পাষন্ড শিক্ষকের । ময়মনসিংহের ভালুকায় মাদ্রাসা শিক্ষকের বর্বর নির্যাতনের শিকার তাওহিদুল ইসলাম (১০) নামে এক শিশু ছাত্র হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রোববার রাত্রে মার গেল।
পরিবার ও থানা সূত্রে জানাযায়, ভালুকার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের হতদরিদ্র ভাড়ায় চালিত হোন্ডা চালক কয়েস মিয়ার পুত্র জামিরদিয়া মাদরাসায়ে ওমর (রাঃ) হাফিজিয়া এন্ড ইসলামী কিন্ডার গার্টেনের হেফজ্ শ্রেণীর ছাত্র তাওহিদুল ইসলাম ৩ মার্চ রোববার রাতে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করে। তাওহিদের পিতা জানান তার ছেলেকে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার চরনিখলা গ্রামের চান মিয়ার ছেলে হাফেজ আমিনুল ইসলাম পড়া মুখস্থ না করার কারনে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে বুকের পাজরের হাড় ও একটি পা ভেঙ্গে ফেলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। বিষয়টি গোপন রেখে খেলা করতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে বলে তাদের কাছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে তাওহিদকে রেখে চলে যান। পরে তাওহিদ তার বাবা মা ও দাদীর কাছে ঘটনা খুলে বলেন। এর পর তার অবস্থা খারাপ হতে থাকলে তারা তাওহিদকে প্রথমে ভালুকা পরে চুরখাই কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ৪ মার্চ রোববার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় রেফাড করা হয়। রোববার মধ্যরাতে তাওহিদ ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে। এ ঘটনায় ওই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক এনামুল হককে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। অপরদিকে হাফেজ আমিনুল ইসলাম ঘটনার পর হতে পলাতক রয়েছে। তাওহিদের মা হাসনা হেনা জানান প্রায় চার বছর পূর্বে ছেলেকে ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করেন, বর্তমানে সে ১৮ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল, কিন্তু মাদ্রাসা থেকে ছেলের লাশ বাড়ীতে আসবে কখনও ভাবেননি। সোমবার সরজমিন ওই মাদ্রাসায় গিয়ে দেখাযায় ছোট ছোট ছেলেরা ভিতরে বাহিরে দৌড়াচ্ছে, ওই সময় কোন শিক্ষককে খুজে পাওয়া যায়নি। কোন কোন অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন। তাওহিদের সহপাঠি নূর আলম ও মিনহাজ সহ সকলেই জানান গত ২৩ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার রাতে পড়া না পারার কারনে ওই হাফেজ মোটা একটা লাঠি দিয়ে তাওহিদকে মেরেছিলো।
এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার সভাপতি আঃ হামিদ জানান বিষয়টি তিনি জানেন না তিনি সোমবার সকালে জানতে পেরেছেন। এদিকে ঘটনার পর হতে আবাসিক ছাত্রদের মাদ্রাসায় ফেলে সকল শিক্ষকরা গা ঢাকা দিয়েছে। যে যার মত ছাত্রদের নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ভালুকা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মামুন অর রশীদ জানান লাশ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

https://www.bkash.com/