বিনামুল্যে ৩৭ হাজার রোগির চোখের ছানি অপারেশন করেন ডাঃ মুকতাদির


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৮, ১২:২২ PM
বিনামুল্যে ৩৭ হাজার রোগির চোখের ছানি অপারেশন করেন ডাঃ মুকতাদির

মশিউর রহমান কাউসার,

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি ঃ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ এ.কে.এম.এ মুকতাদির নিজস্ব অর্থায়নে বিনামুল্যে চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে ৪১ বছরে ৩৬ হাজার ৬৯৬ জন রোগির চোখের ছানি অপারেশন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। ১৯৭৭ ইং সন থেকে ময়মনসিংহের নিজ গৌরীপুর উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরীব ও অসহায় মানুষের মাঝে তিনি এ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের নিকট চোখের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে এ উপজেলায় নিজ নয়াপাড়া গ্রামে ২০০৪ সালে সহধর্মিনী মাহমুদা খাতুনের সহযোগিতায় তিনি গড়ে তোলেন ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতাল। দেশের অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তির হাসপাতালগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে মানুষের চোখের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে এ হাসপাতালটি। এখন আর চোখের চিকৎসার জন্য এ অঞ্চলের মানুষকে রাজধানীতে যেতে হয়না। এখন শুধু গৌরীপুর নয় আশের পাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ আসে এ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে। স্বল্প খরচে মানুষ এখানে পাচ্ছেন চোখের নানান চিকৎসা সেবা। ডাঃ মুকতাদির জানান ১৯৭৭ থেকে ২০০৪ সন পর্যন্ত গৌরীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিনামুল্যে চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে এ অঞ্চলের ২৫ হাজার ৫৩৫৬ জন রোগির চোখের ছানি অপারেশন করেন তিনি। পরবর্তীতে নিজ হাসপাতালে ২০০৪ থেকে ২০১৭ সন পর্যন্ত ১১ হাজার ১৬১ জনের চোখের ছানি অপারেশন করা হয়। চলতি বছরে চোখের ছানি অপারেশন করা হবে আরো ৭৬২ জন রোগির। তিনি বলেন বিশ্বের কোন দেশে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এত লোকের বিনামুল্যে চোখের ছানি অপারেশন করার রেকর্ড আর কারো নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মানুষকে তিনি এ চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাবেন। শনিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় গৌরীপুর বোকাইনগর ইউনিয়নের নয়াপাড়ায় ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালে ৪১ তম বিনামুল্যে চক্ষু শিবিরের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার। হয়েছে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাঃ মুকতাদির চক্ষু হাসপাতালের স্বত্তাধিকারী প্রফেসর ডাঃ এ.কে.এম.এ মুকতাদির, চক্ষু চিকিৎসক এম মঞ্জুরুল হাসান, এমডি আরিফ হোসেন, তাসমেরি খায়রুন নাহার, বোকাইনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হাবিবুল্লাহ, গৌরীপুর প্রেসকাবের সাবেক সভাপতি বেগ ফারুক আহম্মেদ, সাধারন সম্পাদক মশিউর রহমান কাউসার, সাংবাদিক কমল সরকার, হুমায়ুন কবির, আনোয়ার হোসেন শাহীন, মোঃ রইছ উদ্দিন, শামীম খান, মোস্তাফিজুর রহমান, আনোয়ার হোসেন শরীফ, তারিকুল ইসলাম, আরিফ আহাম্মদ, রোমনসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ। জানা গেছে হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠার পর ১৩ বছরে মোট ৬০ হাজার ২৬৬ জন রোগির চোখের ছানি, নালি, মাংস বৃদ্ধি, গ্লোকোমার, নেত্রনালির, পাথর সংযোজন, গুটি, টিউমার, টেরা চোখসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা সফলভাবে সম্পন করা হয়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে দালালমুক্ত বৃহৎ আয়তনের এ হাসপাতালটিতে রয়েছে চোখের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি। বিদ্যুতের বিকল্প হিসেবে রয়েছে নিজস্ব জেনারেটর ব্যবস্থা। রোগির জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত ওয়ার্ড ও বেড। রোগির সাথের লোকজনের জন্য আছে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। মনোরম পরিবেশে চারতলা বিশিষ্ট্য হাসপাতালটির চারপাশে রয়েছে ফুলের বাগান । বিনোদনের জন্য রয়েছে মিনি চিড়িয়াখানা ও হাসপাতালের সামনে স্থাপন করা হয়েছে বিশাল পার্ক। হাসপাতালের পাশে স্থাপন করা হয়েছে মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা। এ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে ঔষধ, চশমাসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর দোকান। এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় শতাধিক লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া এ হাসপাতালে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে বেকারত্ব গুঁজিয়ে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক-যুবতী। #

https://www.bkash.com/