বিদায় বেলায় যা বললেন কর্মস্থল নিয়ে কামরুন্নাহার শেফা


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ২৮, ২০২৩, ৮:০২ PM
বিদায় বেলায় যা বললেন কর্মস্থল নিয়ে কামরুন্নাহার শেফা

ডেস্ক রিপোর্ট : দক্ষ, অভিজ্ঞ ও মেধাবীরাই সরকারি বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। তাদের মধ্যে যারা জনবান্ধব তাদেরকে বাছাই করে সরকার পুরস্কৃত করে থাকেন। স্পষ্টবাদী ও সততা তাদের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। জনবান্ধবদের কর্ম এলাকার মানুষ তাদের কর্মের মাধ্যমে স্মরণ করে থাকেন।
এমনই এক দক্ষ, বিচক্ষণ, সৎ, মেধাবী আমলার নাম কামরুন্নাহার শেফা। জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার তিনি দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তাঁর পদোন্নতি হয়। তাঁর পদোন্নতির খবরে কর্মকালীন সময়ের নানা ছবি ভাইরাল হতে থাকে। বিশেষ করে অসহায়, বয়োবৃন্ধ মানুষের সেবার ছবি। বিদায়ের আগে তিনি নিজেও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। যার অনুভুতি নিজের ফেইসবুক ওয়ালে প্রকাশ করেন এভাবে…। পাঠকদের সুবিধার্থে তা অবিকল তুলে ধরছি।

আমার প্রথম জন্ম হয়েছে যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা আমাকে আমার মায়ের কোলে পাঠিয়েছিলেন, দ্বিতীয় জন্ম হয়েছে যখন আমি নিজে মা হয়েছি, আর আমার তৃতীয় জন্ম হয়েছে যখন আমি দেওয়ানগঞ্জের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।
দেওয়ানগঞ্জ আমাকে ভালবেসেছে, আমাকে ভালবাসতে শিখিয়েছে। নিবেদিতভাবে নিজেকে বিলিয়ে দেশ ও দশের জন্য কাজ করতে শিখিয়েছে। শিখিয়েছে অপরিসীম ধৈর্য ধারণ করতে ও সহনশীল হতে। শিখিয়েছে সূর্য হয়ে আলোকিত করতে। শিখিয়েছে আত্মবিশ্বাসী হতে। শিখিয়েছে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে।
দেওয়ানগঞ্জকে আমি ভীষণ ভালবেসেছি, ভালবেসেছি এর সবুজ শ্যামল প্রকৃতি, মিষ্টি বাতাস , মমতাময় মাটি, ঝকঝকে সকাল আর মায়াময় মানুষদের। যখন আমার ভীষণ হারিয়ে যেতে ইচ্ছা হয়েছে, আমার প্রিয় যমুনা দিয়েছে তার বাহুমেলে।
আমি চেষ্টা করেছি আমার চিন্তা, চেতনায়, মননে সবসময় দেওয়ানগঞ্জকে সেবা দিতে, দেওয়ানগঞ্জকে এগিয়ে নিতে।
একদিন বা দুদিনের জন্য বাড়ি এলেও সারাক্ষণ দেওয়ানগঞ্জের চিন্তা মাথায় থাকতো।
আমাদের ব্যাংক একাউন্ট থাকে, জমির হোল্ডিং থাকে। আরও একটি একাউন্ট আছে সেটা হলো ভালবাসার একাউন্ট। আমার ব্যাংক একাউন্ট বা জমির হোল্ডিং বেশ নগন্য হলেও ভালবাসার একাউন্টটি দেওয়ানগঞ্জবাসীর ভালবাসায় আজ কানায় কানায় পূর্ণ। একজীবনে এত ভালবাসা আমি হয়তো আর পাব না। আমি কৃতজ্ঞ দেওয়ানগঞ্জ এর প্রতি আমার স্বপ্নের আমিকে খুঁজে দেয়ার জন্য।
“ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেঘ, মিটিমিটি তারা।
ভালো থেকো পাখি, সবুজ পাতারা।
ভালো থেকো।
ভালো থেকো চর, ছোট কুড়ে ঘর, ভালো থেকো।
ভালো থেকো চিল, আকাশের নীল, ভালো থেকো।
ভালো থেকো পাতা, নিশির শিশির।
ভালো থেকো জল, নদীটির তীর।
ভালো থেকো গাছ, পুকুরের মাছ, ভালো থেকো।
ভালো থেকো কাক, কুহুকের ডাক, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মাঠ, রাখালের বাশিঁ।
ভালো থেকো লাউ, কুমড়োর হাসি।
ভালো থেকো আম, ছায়া ঢাকা গ্রাম, ভালো থেকো।
ভালো থেকো ঘাস, ভোরের বাতাস, ভালো থেকো।
ভালো থেকো রোদ, মাঘের কোকিল,
ভালো থেকো বক, আড়িয়ল বিল,
ভালো থেকো নাও, মধুমতি গাও, ভালো থেকো।
ভালো থেকো মেলা, লাল ছেলেবেলা, ভালো থেকো।
ভালো থেকো, ভালো থেকো, ভালো থেকো।”
ভালো থেকো দেওয়ানগঞ্জ

https://www.bkash.com/