ফুলবাড়ীয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মুক্ত দিবস পালিত


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:০৪ PM
ফুলবাড়ীয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মুক্ত দিবস পালিত

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডট কম : ৮ডিসেম্বর ফুলবাড়ীয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষ্যে সমাবেশ, আনন্দর‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন গণপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মো: মোসলেম উদ্দিন এ্যাডভোকেট এমপি। উপজেলা কমান্ড কাউন্সিলের প্রশাসক ও ইউএনও লীরা তরফদার এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার মো: আবু বকর সিদ্দিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য ফারজানা শারমিন সুলতানা বিউটি, থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম, উপজেলা জাসদ সভাপতি মো: আব্দুর রহমান, ইউআরসি ইন্সট্রাক্টর আবুল কালাম মো: মহিউদ্দিন, স্বেচ্ছাসেবকলীগে আহ্বায়ক কামরুজ্জামান, ছাত্রলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রকিব প্রমুখ। পরে বিকালে স্মৃতিসৌধ চত্বরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের সারাদেশের বিভিন্ন স্থানের ন্যায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া হানাদার মুক্ত হয়েছিল। ৭১ সালের এই দিনে ফুলবাড়ীয়ার লপিুরে ভারী অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত পাকবাহিনীর সাথে উপজেলার লক্ষীপুর বাজারে সন্মুখ সমরে লিপ্ত হয়েছিল মুক্তিযোদ্ধারা। সন্মুখ সমরে খতম হয়েছিল ৬৮ পাকহানাদার বাহিনীর সদস্য। ৬৮ জন পাকহানাদার খতমের খবর ময়মনসিংহ গিয়ে পৌছলে পাকবাহিনী প্রতিশোধ নেয়ার জন্য লক্ষীপুর গ্রামের শতশত বাড়ী ঘর জ্বালিয়ে দিয়ে ৪ জন নিরীহ গ্রামবাসিকে ধরে এনে লক্ষীপুর বাজারে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
নিহতদের মধ্যে কারী আবু নাছের ছিলেন নব-বিবাহিত। পাকসেনাদের নির্মমতা থেকে রা পায়নি মাদ্রাসা ছাত্রও। ওরা হত্যাকরে ফুলবাড়ীয়া কে আই সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র মোহাম্মদ ইলিয়াসকে। উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামে টানা ৭২ ঘন্টা যুদ্ধ হয়েছিল পাকসেনাদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের। পাক সেনারা ইউনিয়ন পরিষদের ছাদের উপর মেশিনগান বসিয়ে বৃষ্টির মত গুলি করে নির্মমভাবে মানুষ হত্যা করেছিল। ৫টি গ্রাম আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল পাকসেনারা, ক্যাম্পে ধরে এনে আবাল বৃদ্ধ বনিতাকে বানার নদীর ব্রীজের উপর সারি বদ্ধভাবে দাঁড় করে গুলি করে লাশ ফেলে দিয়েছিল নদীতে। প্রতিদিন রক্তে লাল হত বানার নদীর পানি আর লাশগুলো ভেসে যেত ভাটির দিকে।

https://www.bkash.com/