বৃহস্পতিবার, ২৪ Jun ২০২১, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

ফুলবাড়িয়ায় সঠিক তদারকিতেই জনগণের কষ্ট লাঘব হতে পারে!

ফুলবাড়ীয়া নিউজ 24 ডট কম : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় বর্ষার আগে ও পরে গ্রামীণ হাট বাজার ও রাস্তা দিয়ে চলাচলে পথচারীদের দারুন কষ্ট পোহাতে হয়। সীমাহীন কষ্ট লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগি হলেই কষ্ট অনেকটা কমে আসতে পারে। সচেতন নাগরিকদের দাবী দ্রুত ব্যবস্থা নিবে কর্তৃপক্ষ।
জানা যায়, উপজেলাব্যাপী অসংখ্য পাকা, কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এ সব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন কাজে দেশ ও বিদেশে গমন করে থাকেন। প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষকে নানাভাবে কষ্টের সম্মুখীন হতে হয় বিশেষ করে বর্ষাকালে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে রাস্তাঘাটের সমস্যা। রাতারাতি রাস্তা পাকা হয়ে যাবে এমন প্রত্যাশা কেউ ই করে না? পাকা রাস্তাতেও মানুষের দূর্ভোগ কম পোহাতে হয় না? এসব রাস্তা দেখভাল করার জন্য সরকারীভাবে কিছু নারী শ্রমিক নিয়োজিত আছেন। তারা রাস্তাগুলোতে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে এবং তা তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিতরা মনোযোগি হলে সাময়িক সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব হতো।
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আছিম বাজার, কেশরগঞ্জ বাজার, বাকতা বাজার, সোয়াইতপুর বাজার সহ উপজেলার সকল বাজারের দোকান ঘর উঁচু করার সাথে সাথে রাস্তার জমিও ভরাট করে উঁচু করেছেন দোকান মালিকরা। ফলে বৃষ্টি হলেই পানিতে রাস্তা তলিয়ে যায়। যদি ঘর মালিকরা রাস্তার জমি ভরাট না করতো তাহলে স্বাভাবিকভাবেই পানি নিচু স্থান দিয়ে নিস্কাশন হতো। সেখানে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য (মেম্বার), বাজার কমিটি দায়িত্ব পালন করলে এমনটি হতো না। তাঁদের কথায় কাজ না হলে উপজেলা প্রকৌশলীর (এলজিইডি) সাথে যোগাযোগ করলে, তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে আলাপ-আলোচনা সাপেক্ষে এর সমাধান করতে পারতেন। কিন্তু এখানে কেউ ই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেনি। আর তাতেই মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে। আর মানুষ বলছে, এ যেন দেখভাল করার কেউ নেই।
এ ছাড়াও পাকা রাস্তায় বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। ফলে ঐ সব স্থানে এক বছরও পাকা রাস্তার সুফল ভোগ করতে পারে না ভোক্তভোগিরা। এসব সড়ক দেখভাল করার জন্য নারী শ্রমিক ছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য (মেম্বার), উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) দায় এড়াতে পারেন না! তাদের দায়িত্বহীনতা, উদাসীনতা ও নীরবতায় মানুষের ভোগান্তি কখনোই কমেনি। কিছু জায়গায় প্রভাবশালী থাকতে পারে, সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। সমাজে অনেক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ফুলবাড়িয়া হেল্প লাইন নামে একাধিক সংগঠনে হাজার হাজার সংগঠক আছে, যারা কাজ বা সহযোগিতা করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু উদ্যোক্তা, মূল্যায়ন ও স্বীকৃতির অভাব লক্ষনীয়। করোনাকালীন যারা এলাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছিলেন জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে তাঁদের মূল্যায়িত করে সনদ দিয়েছেন। ফলে তাদের উৎসাহ আরও বেড়েছে। তাই কোটি কোটি টাকার পাকা রাস্তা ও কাঁচা রাস্তায় একটু তদারকির অভাবে যেন মানুষের ভোগান্তি না বাড়িয়ে, কষ্ট লাঘব করা যায় সেইদিকে জনপ্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা সকল সচেতন মানুষের।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইট © ফুলবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম ২০২০
Design & Developed BY A K Mahfuzur Rahman