ফুলবাড়িয়ায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ১৭, ২০২৩, ৮:৪০ PM
ফুলবাড়িয়ায় ডিবি পরিচয়ে ডাকাতির ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা

ফুলবিাড়িয়া : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ডিবি পরিচয়ে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের আটকিয়ে কৌশেলে ডাকাতিকালে মাইক্রোবাস সহ ৩ ডাকাতকে উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা। এ ঘটনায় ফুলবাড়িয়া থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা রুজু হলে গ্রেফতার ৩ ডাকাত সদস্য আদালতে প্রেরণ করা হয় গতকাল সোমবার।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, কালো ব্রাউন রংয়ের একটি মাইক্রোবাসে (ঢাকা মেট্রোÑচ-১৬-১৩৯৪) শনিবার (১৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ৭/৮ জনের একটি সংঙ্গবদ্ধ ডাকাত দল ফুলবাড়িয়া উপজেলার ছলির বাজারে ডিবি পরিচয়ে ২ জন ব্যবসায়ীকে আটক করে। তাদেরকে গাড়ীতে তোলে চোঁখ বেধে পাশ্ববর্তী মুক্তাগাছা উপজেলার কালীবাড়ী নামক স্থানে নিয়ে যায়। পথিমধ্যে তাদেরকে বেদম মারপিট করে। এসময় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে মুক্তিপন হিসেবে বিকাশে টাকা আনতে বলে। ভোক্তাভোগীরা বিকাশে টাকা দেওয়ার পর তাদেরকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। এরপর মুক্তাগাছার খাজুলিয়া নামক এলাকায় জনৈক এক ব্যবসায়ীর বাড়ীতে হামলা করে নগদ টাকা, মোবাইল সহ অন্যান্য মালামাল লুট করে নিয়ে আসে চক্রটি।
রাত ১ টার দিকে ফুলবাড়িয়া থানার কুশমাইল ইউনিয়নের শিবগঞ্জ হাটকালীর বাজার টু ফুলবাড়িয়া রাস্তার বেড়িবাড়ি নামক স্থানে মাইক্রোবাস দাঁড় করিয়ে একই পরিচয়ে কাপড় ব্যবসায়ী কিরণ চন্দ্র ও তার ছেলেকে আটক করে, তাদের সাথে থাকা ৫৫ হাজার টাকা ও ডিসকভার মটরসাইকেল নিয়ে যায়। মটরসাইকেল নিয়ে গেলে কিরণ ও তার ছেলে ডাক চিৎকার শুরু করে। এলাকাবাসী এগিয়ে এলে পুরো ঘটনা তারা খুলে বলে। ঘটনা শুনে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। চারদিক থেকে লোকজন জড়ো হয়ে চক্রটি কে ঘেরাও করার চেষ্টা করলে ডাকাত দল মাইক্রোবাসসহ ফুলবাড়িয়ার দিকে পালানোর চেষ্টা করে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে স্থানীয়রা ধামর বেলতলী বাজারে স্থানীয় জনতা সড়কে বেঞ্চ, ধান মাড়াইয়ের লোহার মেশিনসহ গাছ ফেলে রাস্তা বেরিকেড দিয়ে চক্রটির গতিরোধ করে। জনরোষ উপেক্ষা করে ৪জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। মাইক্রোবাসের ড্রাইভারসহ ৩ ডাকাত জনতার হাতে উত্তম মাধ্যম খায়। থানা পুলিশকে খবর দিয়ে তাদের হাতে মাইক্রোবাস সহ ৩ ডাকাত কে সোপর্দ করা হয়। স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করলে তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে ৩জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে । আটককৃত ৩ জনের মধ্যে একজনকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ।
আকটকৃতরা হল ১। বেলাল মন্ডল (৩৮), পিতা-শাহীন মন্ডল, মাতা-বিউটি খাতুন, সাং-কর্মকার পাড়া (বনিক পাড়া কুশুম্বি), থানা-শেরপুর, জেলা-বগুড়া, ২। মোঃ মামুন (৪২), পিতা-মৃত মজিবর রহমান, মাতা-রোকেয়া খাতুন, সাং-যাদুরচর, পোঃ-হেমায়েতপুর, থানা-সাভার, জেলা-ঢাকা ৩। মোঃ জামাল উদ্দিন শিকদার (৩৬), পিতা-নজরুল ইসলাম শিকদার, মাতা-মৃত আলেয়া বেগম, সাং-উত্তর কাজলা কাঠি, থানা-বাকেরগঞ্জ, জেলা-বরিশাল।
অপহৃত জনৈক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাকে ডিবি পরিচয়ে দোকান থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে চোঁখ বেধে বেধরক মারধর করে। পরে বিকাশে টাকা আনতে বলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই আরিফুল ইসলাম জানান, ডাকাতির ঘটনায় ভিক্টিম জনৈক আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার আইনে থানায় মামলা করে। মামলায় ৭জন আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩জন আসামী সনাক্ত বাকী ৪ জনকে সনাক্ত করা যায়নি। গ্রেফতার ৩জন কে গতকাল সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

https://www.bkash.com/