প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে লটারির নামে ভয়ঙ্কর রমরমা জুয়া


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০১৭, ৭:১২ AM
প্রশাসনকে তোয়াক্কা না করে লটারির নামে ভয়ঙ্কর রমরমা জুয়া

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : ফুলবাড়ীয়ায় কাকঢাকা ভোরে ৩০/৩২জন লোক একই রঙের বাক্স বা কৌটা নিয়ে বেরিয়ে যায়, তবে কৌটায় তালা লাগানো। যারা সারাদিন কর্মের তাগিদে দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগদান করেন তারা খুবই ভালভাবে খেয়াল করে চলেছেন, আর যারা সারাদিন বিভিন্ন কারণে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান বা ব্যস্ত থাকেন তারাও মাইকের আওয়াজে শুনে ও দেখে থাকবেন। তবে সর্বোপরি কোন মানুষই জানার বাকী নেই। কী আছে ঐ কৌটায়! প্রথম দিকে মানুষ এটাকে গুরুত্ব দিয়ে না দেখলেও এখন কিন্তু মানুষ ফুসে উঠার চেষ্টা করছে। প্রশ্ন তুলছে উপর মহলের দিকে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে এমন জুয়া খেলায় পদ্ধতিতে মানুষ হতাশাগ্রস্থ। বিশেষ করে ফুলবাড়ীয়াতে যেখানে জুয়া খেলা নির্মুল করতে পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম জিরো ট্রলারেন্স সেখানে থানার মুল ফটকসহ উপজেলার আনাচে-কানাচে প্রায় অর্ধশত ব্যক্তি মাইক বাজিয়ে লটারি নামক জুয়া খেলাকে উৎসাহ যুগিয়ে সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষকে বিভ্রান্ত করছে, সেটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ও ন্যায় সঙ্গত সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ত্রিশাল পৌরসভা কতৃক হস্ত ও কুটির শিল্প মেলার নামে চলছে ‘দৈনিক উল্লাস’ র‌্যাফেল ড্র নামক জুয়াখেলা। প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের লোকজন ২২নভেম্বর তারিখ জাঁকজমকভাবে এটির উদ্বোধন করে গেছেন। ত্রিশাল পৌরসভার নামে লটারির হস্ত ও কুটির শিল্পমেলা, নাকি জুয়ারমেলা কৌশলটি অত্যন্ত সুচতুরভাবে সাজানো হয়েছে। পাশ্ববর্তী উপজেলায় লটারি বিক্রির টার্গেটে মাঠে নেমেছে একদল যুবক। তাদের দেয়া হয় মোটা অংকের টাকা। তাদের কাছে কিছু জানার চেষ্টা করেও তেমন কোন কাজ হয়নি, মুখ খুলছে না তারা। তবে যারা বিক্রির কাজটি করছে তারা স্ব-স্ব উপজেলাতেই অবস্থান করেন। বলা যায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
তাদের মিশন ছিল সব ধরনের মানুষ। সেক্ষেত্রে তারা সফল। ইতিমধ্যে শিশু, যুবক, বৃদ্ধসহ সকল নর-নারী এ জুয়ায় আসক্ত হয়ে তাদের প্রচার মাইকে ঝুঁকে পড়ছে। ধ্বংসের দিকে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে তারা, পারিবারিক কলহ বৃদ্ধি পেয়েছে, সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে পরিবারে। কয়েকটি স্থানে অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটেছে।
ক্যাবেল নেটওয়ার্কে খওঠঊ করে জুয়া খেলার রমরমা আসর। লটারি খেলাটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কি না, তা বুঝার কোন উপায় নেই কারন টিকিটের গায়ে তেমন কিছু লেখা নেই।
এনায়েতুর রহমান নামের এক অভিভাবক জানান, প্রতিদিন তার ছেলের জন্যে ১শ টাকা দিতে হয়, তা না হলে সে স্কুলে যেতে চায় না, টাকা দিয়ে সে নিয়মিত লটারি কিনছে।
লালু, কালু, মহসিনসহ অনেক অভিভাবক জানিয়েছেন বাচ্চারা টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে লটারি কিনছে।
সম্প্রতি ত্রিশালে সাদত নামের ৭ম শ্রেণী পড়–য়া এক ছাত্র তার আম্মুর কাছে টাকা চেয়ে না পেয়ে, কাউকে না বলে পকেট থেকে টাকা নিয়ে লটারি কিনায়, পরিবারে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
অনেক স্থানে স্বামী-স্ত্রী, ছেলে ও মায়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়েছে।
সমাজে অনেক যুবক আছে, যারা দিন এনে দিন খায়, একদিন কাজ না করলে না খেয়ে থাকতে হয়। সংসার অনেক কষ্টে চলে। ুদ্রঋণ সংস্থা থেকে টাকা নিয়ে সাপ্তাহিক কিস্তি দিতে যারা নাভিশ্বাস, এমন যুবকেরা দিন শেষে কর্মস্থল থেকে ফিরার পথে দামি কিছু পাওয়ার লোভে প্রাপ্ত টাকা দিয়ে লটারি কিনে নিয়ে আসে বাড়িতে।
ফুলবাড়ীয়া উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি (অব. অধ্যক্ষ) আমজাদ হোসাইন বলেন, সত্যিই এগুলো সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য দুঃখজনক প্রশাসনের উচিত ছিল মেলার কার্যাবলি নির্ধারন করে দেয়া। যে কাজগুলো সমাজ, রাষ্ট্রের জন্য তিকর এবং যেগুলো সমাজের শিশু, যুবক ও বৃদ্ধ বা যে কোন শ্রেণীকে ভ্রষ্ট পথে ঠেলে দেয় সেই কার্যাবলি নিষিদ্ধ করা উচিত।
থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ কবিরুল ইসলাম বলেন, আমি জানতে পেরেছি এটা জেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই খেলাটি প্রকাশ করেছে। এটা বন্ধ করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নির্দেশ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

https://www.bkash.com/