পৌর নির্বাচনে সরকারকে সুযোগ দিতে চায় বিএনপি


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২০, ২০১৫, ১:৫০ PM
পৌর নির্বাচনে সরকারকে সুযোগ দিতে চায় বিএনপি

fff2ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডটকম :বিএনপি পৌর নির্বাচন নিয়ে নানা হিসাব করলেও পৌর নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকতে চায়। সেটা করে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আরো একবার সুযোগ দিতে চাইছে দলটি। বিএনপির আশা সরকার ও নির্বাচন কমিশন পৌর নির্বাচনে বিএনপিকে রাখার জন্য শেষ পর্যন্ত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও সহায়তা করবে। তারা বিরুপ আচরণ করবে না। বাঁধা তৈরি করবে না। এমন পরিস্থিতি তৈরি করবে না যাতে করে বিএনপিকে নির্বাচন বর্জন করতে হয়। বিএনপির অভিযোগ শুরু থেকেই তাদেরকে বাইরে রাখার চেষ্টা চলছে। সরকার, সরকারি দলের নেতা ও মন্ত্রীরা এই জন্য তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছে। আর কমিশনও সহায়তা করছে না। কারণ তাদের কাছে যে অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে সেগুলো আমলে নিচ্ছে না। কমিশন সরকারের নির্দেশে কাজ করছে। যদিও বিএনপির এই অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছে নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার। তিনি বলেছেন, তারা অযথাই অভিযোগ করছেন। তাদের অভিযোগের কোন সত্যতা নেই। আমরা কারো প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছি না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, পৌর নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসাবে নিয়ে বিএনপি সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে শেষ সুযোগ দিয়েছে। এর আগেও আমরা দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সরকারকে শোধরানোর সুযোগ দিয়েছিলাম। ওই সময়ে তারা চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছিল। এবারও সরকার অতীতের মত নীল নকশার পুনরাবৃত্তি করবে কি না সেটি এখন দেখার বিষয়।

বিএনপির এই ধরনের আশঙ্কা থাকলেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই জন্য পৌর নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করবে না কমিশন। সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেছেন, ভোটের প্রচারণায় বিধি ভঙ্গের যে অভিযোগ উঠেছে, তা ঠিক নয়। বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনা ছাড়া আচরণ বিধি মেনেই নির্বাচনী প্রচার চলছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখানে কোন উদ্বেগ-আশঙ্কার কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজন বিবেচনা করেই ব্যবস্থা নিবে। আমাদেরকে বিজিবি-র‌্যাব বলেছে, তারা ফোর্স বাড়িয়ে দেবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই কারণে সেনা মোতায়েনের কোনো পরিস্থিতি হয়নি। এটাও জানানো হয়েছে, সন্ত্রাসীদের ধরপাকড়ে অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোট পর্যন্ত সন্ত্রাসী-অপরাধী ধরপাকড় কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত হবে। এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না। জঙ্গি ও সন্ত্রাসের সমস্যা সাধারণ সমস্যা। নির্বাচনে এটা তেমন সমস্যা হবে না।

বিএনপির তরফ থেকে অভিযোগ করছে, মন্ত্রী-এমপিসহ সুবিধাভোগী নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। সরকার দলীয় এক এমপি বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে আচরণবিধি মেনেই প্রচারণা চলছে। কমিশনের দাবি, কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনা ঘটেছে, ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করে ব্যবস্থা নিতে। তারা ব্যবস্থা নেব। আমরাও অ্যাকশন নেব। রিটার্নিং কর্মকর্তারা মাঠে থেকে তারা এটা দেখবে। আমাদের কাছেও প্রতিবেদন দেবে। সিইসি বলেন, আমরা খুবই আশাবাদী উৎসবমুখর ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা হান্নান শাহ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন। তিনি বলেছেন, এদের মেরুদ- সোজা নয়। কর্তার ইচ্ছায় কর্ম করছে মাত্র। এই পৌর নির্বাচনে সব রির্টার্নিং অফিসারই সরকারের আমলা। এরা শতভাগ পক্ষপাতিত্ব করছেন। আগে শহরকেন্দ্রিক নির্বাচনে সরকার ও নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতিত্ব করে পার পেয়ে গেছে। পৌর নির্বাচন সারাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আওয়ামী লীগ ও গণতন্ত্র এক সাথে যায় না। আওয়ামী লীগ সব সময়ই মিথ্যাচার করে আসছে। আওয়ামী লীগের চেয়ে বড় আওয়ামী লীগার সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিএনপি চেয়ারপারসন উপদেষ্টা এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, জাতির অসংখ্য চোখ তাকিয়ে আছে এই নির্বাচনের দিকে। হিটলার-মুসলিনরাও ক্ষমতার অপব্যবহার করে টিকে থাকতে পারে নি। এ সরকারও পারবেন না।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) এম হাফিজ উদ্দিন বলেছেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে নীল নকশার ষড়যন্ত্র চলছে। সরকার নির্বাচনে কারচুপি করার জন্য মুখিয়ে আছে। এ নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ডাকে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।

তিনি বলেছেন, মেরুদ- সোজা করে দাঁড়ান। যারা নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করুন। বল প্রয়োগ করে নির্বাচন হতে দেয়া যাবে না। পৌর নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে বিএনপি চেয়ারপারসনের ডাকে সরকারের আগে ইসির বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, জনগণ যদি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে না পারে তাহলে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে কী লাভ? বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে নামতে পারছে না। হামলা-মামলা করে নেতাকর্মীদের কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। একজন কাউন্সিলরের মাকে অন্য কাউন্সিলর মেরে ফেলেছে। এ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোথায়? তারা কী করে? সরকার কেন উদার হতে পারে না? পৌর নির্বাচন দিয়ে সরকার পরিবর্তন হয় না। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন করবে সরকার, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

বিএনপির সূত্র জানায়, বিএনপি কোন ভাবেই শঙ্কা কোন ভাবেই কাটাতে পারছে না। এই জন্য খালেদা জিয়া পেশাজীবীদের সহায়তা নিতে চাইছেন। এনিয়ে বৈঠক করেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বৈঠকে খালেদা জিয়া বলেন, এই নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না জেনেও আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। আপনারা প্রচারণায় নামুন। যেখানে অনিয়ম, বাধা, সরকারের পক্ষে কৌশল তা সাথে সাথে জনগণকে অবহিত করতে হবে। ২০ দল সমর্থিত প্রার্থীদের কোথাও কোনো বাধা বা প্রচারে বিঘœ ঘটানো হলে তা জনগণের সামনে তাৎক্ষণিকভাবে তুলে ধরতে হবে।
সূত্র- আমাদের সময়

https://www.bkash.com/