নেতৃত্বের অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনার


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৩, ২০১৫, ৪:৩২ AM / ১৪৫
নেতৃত্বের অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনার

800ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার দেশি-বিদেশি নানাবিধ চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে একের পর এক উন্নয়ন কর্মকা- ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে চলেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়নে দেশের অর্থনীতির সূচক ঊর্ধ্বমুখী। শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার সফলতা অর্জন করে চলেছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সময়োপযোগী নানা কর্মকা- ও সাহসী পদক্ষেপের জন্য আজ বিশ্বে নেতৃত্বের অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত। বলিষ্ঠ ও সুচারু নেতৃত্ব এবং জনমানুষ ও পরিবেশ রক্ষায় নিবেদিত কর্মকা-ের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা শেখ হাসিনাকে নানা পুরস্কারে ভূষিত করেছে। তার সাফল্যের এ মুকুটে গতকাল বুধবার যুক্ত হয়েছে আরেকটি পালক। বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনার উল্লেখযোগ্য সাফল্যগুলোর মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীতকরণ, ভারতের সঙ্গে ৬৮ বছরের সীমানা বিরোধের অবসান, মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ ডলারে উন্নীতকরণ, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক উন্নয়ন, বিদেশি চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার উদ্যোগ, বিদ্যুতের লোডশেডিং শূন্যে নামিয়ে আনা, দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশ হ্রাস, ২৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বিশ্বব্যাংকের অর্থ ছাড়া পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করা, রাজধানীকে যানজটমুক্ত করতে হানিফ ফ্লাইওভার, হাতিরঝিল, বনানী ও কুড়িল ফ্লাইওভার নির্মাণ এবং আরও নানামুখী কার্যক্রম গ্রহণ, ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে ব্যাপকভিত্তিক পদক্ষেপ, গণমাধ্যমের উন্নয়ন ও সাংবাদিকদের সহায়তা অনুদান প্রদান ইত্যাদি। বিদেশি চাপ গ্রাহ্য না করে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান, দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখায় বিশ্বের বেশকিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন ডিগ্রি ও পদক প্রদান করে। তার নেতৃত্বে দেশে নারীর ক্ষমতায়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে নারী-পুরুষ সমতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা, মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত শিক্ষাকে অবৈতনিক করা, নারীদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান প্রভৃতি। নারীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম উদাহরণ এদেশের সরকারপ্রধান, জাতীয় সংসদের স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ উপনেতার আসন অলঙ্কৃত করেছেন নারীরা। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যেও নারীরা এগিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তিনি গ্রহণ করেছেন ‘ভিশন ২০২১’ (বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করা) ও ‘ভিশন ২০৪১’ (বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর)। এরই মধ্যে জাতিসংঘের তালিকায় বাংলাদেশ দরিদ্র থেকে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনভিত্তিক সাময়িকী ‘ফরেন পলিসি’র ২০১৫ সালের বিশ্বের শীর্ষ ১০০ চিন্তাবিদের তালিকায় স্থান পেয়েছেন শেখ হাসিনা। গতকাল প্রকাশিত ‘দ্য লিডিং গ্লোবাল থিংকারস’ শীর্ষক তালিকাটির ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে ১৩ জনের মধ্যে আছেন তিনি। এই ক্যাটাগরিতে ১৩ জনের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল।
ফরেন পলিসির ওয়েবসাইটে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় দেশ রক্ষার নীতি গ্রহণ করায় এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন শেখ হাসিনা। এতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাসের মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ নির্গমন করে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। ৩০ শতাংশ দারিদ্র্যের হার আর অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিকে জাতীয়ভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এর স্বীকৃতি হিসেবে শেখ হাসিনা জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’-এ ভূষিত হন।
সাময়িকীটি জানায়, ২০০৯ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ছিল প্রথম, যার জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজন ছিল। এরপর দেশটি প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের জন্য সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার করেছে এবং লাখ লাখ বাড়ি সৌরশক্তির আওতায় নিয়ে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অভিযোজনের লক্ষ্যে দেশটির বাজেটে ৬ থেকে ৭ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এবার সপ্তমবারের মতো এই তালিকা প্রকাশ করল ফরেন পলিসি। ২০০৯ সাল থেকে করে আসা সাময়িকীটির এ তালিকায় বিভিন্ন বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি এবং সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের নাম এসেছে।
এদিকে ইউএনডিপির সমন্বয়কারী নিল ওয়াকার সম্প্রতি বলেন, বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ তখন আগের জায়গায় রয়েছে। নেতৃত্বের সফলতার জন্য জাতির দুর্দিনে হাল ধরে দেশের জন্য যে উন্নয়নের পথ রচনা করেছেন তা প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনাকে ক্যারিশমাটিক নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। আজ দেশে-বিদেশের পর্যবেক্ষক মহল শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্তব্য করেন। তার যোগ্য নেতৃত্ব বাংলাদেশকে জাতিসংঘের উন্নয়ন মডেলে পরিণত করেছে।

শেখ হাসিনার যত অর্জন
‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ ও ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ : জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন ও তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বিশেষ অবদানের জন্য জাতিসংঘ ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ লাভ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চলতি বছর জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনে তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের পরিবেশ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ পরিবেশের নোবেল হিসেবে খ্যাত।
ডব্লিউআইপি গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড : রাজনীতিতে নারী-পুরুষ বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালনের জন্য চলতি বছর ২৫ মার্চ ডব্লিউআইপি (উইমেন ইন পার্লামেন্ট) গ্লোবাল অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন শেখ।
সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কার : ২০১৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ ভিশনারি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তির প্রসার, সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু, সর্বসাধারণের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে বিশ্বের দরবারে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপনের জন্য তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
শান্তি বৃক্ষ স্মারক : নারীশিক্ষায় অবদানের জন্য ২০১৪ সালে ইউনেস্কো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘শান্তি বৃক্ষ’ স্মারক দেয়। ওই বছর ৮ সেপ্টেম্বর ইউনেস্কোর মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা এই পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
মান্থন অ্যাওয়ার্ড : ‘একটি বাড়ি ও একটি খামার প্রকল্প’ ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত তথ্যপ্রযুক্তি মেলায় সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিক ‘মান্থন অ্যাওয়ার্ড’ এবং জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) দারিদ্র্য, অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’ পদকে ভূষিত করে শেখ হাসিনাকে।
কালচারাল ডাইভারসিটি পদক : বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদানের জন্য আইএনইএসসিও ২০১২ সালের ১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীকে ‘কালচারাল ডাইভারসিটি পদকে’ ভূষিত করে। এর আগে ২০১১ সালের ২৬ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের হাউস অব কমন্সের স্পিকার জন ব্রেক্রো এমপি প্রধানমন্ত্রীকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনবদ্য অবদানের জন্য ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন।
এমকে গান্ধী পুরস্কার : সাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্ব, অহিংসা, সামাজিক বোঝাপড়া এবং তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্রের উত্থানের স্বীকৃতিস্বরূপ অসলোভিত্তিক এমকে গান্ধী ফাউন্ডেশন ১৯৯৮ সালে শেখ হাসিনাকে এমকে গান্ধী পুরস্কারে ভূষিত করে।
সেরেস মেডেল : ক্ষুধার বিরুদ্ধে নিরলস সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা (এফএও) ১৯৯৯ সালের ২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক সেরেস মেডেল প্রদান করে।
পার্ল এস বাক পুরস্কার : ২০০০ সালের ৯ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের র‌্যান্ডলফ ম্যাকন উইমেনস কলেজ শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও মানবিক ক্ষেত্রে তার লক্ষ্য, সাহস এবং অর্জনের জন্য পার্ল এস বাক পদকে ভূষিত করে।
মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কার : ১৯৯৮ সালের ১২ এপ্রিল অল ইন্ডিয়া পিস কাউন্সিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মাদার তেরেসা শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।
হুপে-বোয়ানি শান্তি পদক : পার্বত্য চট্টগ্রামে ২৫ বছরব্যাপী পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হুপে-বোয়ানি শান্তি পুরস্কার প্রদান করে।
ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার : শান্তি প্রতিষ্ঠা, নিরস্ত্রীকরণ এবং উন্নয়নের জন্য নিরন্তর সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রতিভা পাতিল তার হাতে এ পুরস্কার তুলে দেন।
দেশিকোত্তম উপাধি লাভ : ১৯৯৮ সালের ২৮ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতী এক আড়ম্বরপূর্ণ বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ‘দেশিকোত্তম’ উপাধিতে ভূষিত করে।
জাতিসংঘ পুরস্কার, ২০১০ : শিশুমৃত্যুর হার ৫০ শতাংশ হ্রাস করে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারকে ২০১০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর এই স্বীকৃতি প্রদান করে। জাতির পক্ষ থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সাউথ-সাউথ পুরস্কার : ২০১১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ অর্থনীতি কমিশন (আফ্রিকা), জাতিসংঘ স্থায়ী মিশন (অ্যান্টিগুয়া ও বারমুডা), আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন এবং সাউথ-সাউথ নিউজ যৌথভাবে শেখ হাসিনাকে এ পুরস্কার প্রদান করে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী এবং শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন সাধনের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
গ্যাভি পুরস্কার : ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর তাঞ্জানিয়ায় অনুষ্ঠিত গ্যাভি অ্যালায়েন্স পার্টনারস ফোরামে বাংলাদেশকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়। টিকাদান কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাফল্যের জন্য অন্য ছয়টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশ এ পুরস্কার অর্জন করে।
রোটারি শান্তি পুরস্কার, ২০১৩ : ২০১৩ সালের ৮ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের তরফ থেকে রোটারি শান্তি পুরস্কার প্রদান করা হয়। দেশে-বিদেশে শান্তির প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়।
জাতিসংঘ পুরস্কার, ২০১৩ : ২০১৩ সালের ১৩ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান জাতিসংঘ খাদ্য এবং কৃষি সংস্থার (এফএও) ডিরেক্টর জেনারেল হোসে গ্রাজিয়ানো দা সিলভা। ২০১৫ সালের অনেক আগে ক্ষুধার হার অর্ধেকে নামিয়ে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বস্টন ইউনিভার্সিটি, ব্রিজপোর্ট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ব্যারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়, স্কটল্যান্ডের অ্যাবারটে বিশ্ববিদ্যালয়, ভারতের বিশ্বভারতী এবং ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়, রাশিয়ার পিপলস ফ্রেন্ডশিপ বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব পিটার্সবার্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করেছে। ফ্রান্সের ডাওফি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে ডিপ্লোমা প্রদান করেছে।
শেখ হাসিনার বর্তমান সরকার ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে সামুদ্রিক জলসীমা বিরোধের নিষ্পত্তি, প্রতিটি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীর মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, কৃষকদের জন্য কৃষিকার্ড এবং ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলা, বিনা জামানতে বর্গাচাষিদের ঋণ প্রদান, চিকিৎসাসেবার জন্য সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন, সারা দেশে সেতু ও সড়ক নির্মাণ করছে।
ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে সরকার ঢাকা ও ঢাকার বাইরে অনেক উড়ালসড়ক, ইউলুপ, ওভারপাস, মেট্রোরেল, বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর কিছু ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অনেকগুলো বাস্তবায়নের পথে।