নিজ কর্মের পাশাপাশি মানব সেবার উজ্জল নক্ষত্র এস এম আকবর


প্রকাশের সময় : অক্টোবর ১২, ২০২২, ৬:৩৩ PM
নিজ কর্মের পাশাপাশি মানব সেবার উজ্জল নক্ষত্র এস এম আকবর

সাইফুল ইসলাম সাইফ : মানুষ বাঁচে তার কর্মে। অনেকেই কর্মকে ভালো কাজে ব্যবহার করে। তাদের ই একজন নিজ কর্মের পাশাপাশি মানব সেবার উজ্জল নক্ষত্র এস এম আকবর।

বর্তমান প্রযুক্তির কল্যাণে অনেকে সহযোগিতা করার নতুন এক প্লাটফর্ম খুঁজে পেয়েছেন। সেই প্লাটফর্ম খুঁজে পাওয়াদের একজন হলেন আকবর। যিনি কাজ করেন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে। ফেসবুকের কল্যাণে তিনি সহযোগিতা করে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষকে। এমনকি করছেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও।

কীভাবে তিনি মানুষকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন সেই গল্প শুনিয়েছেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের কাছে।

তিনি বলেন, পুলিশে যোগদান করার পর পুলিশের একটি ফেসবুক গ্রুপ চালাতাম। যেখানে বিভিন্ন পুলিশিং পরামর্শ প্রদান করা হতো। মানুষ বেশ উপকৃত হতো। এরপর নিজেই চালু করলাম ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) নামে সেবামূলক ফেসবুক গ্রুপ। ‘পুলিশের ফেসবুক পেইজ চালানোর সময় উপলব্ধি করতে পারি মানুষের উপকারে ফেসবুক একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম। সমাজের বিভিন্ন স্তরের, বিভিন্ন মতের ও পেশার মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করাতে পারলেই সেবা দেয়া সম্ভব। সেই পরিকল্পনা থেকেই শুরু করেছিলাম ‘উই আর বাংলাদেশ’ (ওয়াব) গ্রুপটির ​কার্যক্রম। আলাপচারিতায় এমনটিই বলছিলেন পুলিশ সদস্য এস এম আকবর। সাক্ষাতকার নিয়েছেন মোশারফ হোসাইন।

বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ থানায় শৈশব কাটে আকবরের, পুলিশে যোগদান করেন ২০১৩ সালে। তিনি এখন কর্মরত আছেন খুলনায়। এস এম আকবর বলেন, ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যার পরামর্শ ও রক্তদাতার সন্ধান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়রানিমূলক বিষয়গুলোতে সাহায্য করা, আইনি সহায়তা ও পরামর্শ দেয়া হয়। গ্রুপে পোস্ট করে চিকিৎসা ও সাহায্য পান অনেকে। এমনকি রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষদের ঘর করে দেয়া হয়েছে এই গ্রুপের মাধ্যমেই, এ পর্যন্ত ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ আরও কয়েকটি জেলায় শতাধিক মানুষকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছে ওয়াব। যেকোনো বিষয়ভিত্তিক সমস্যার সমাধানও দেওয়ার চেষ্টা করে তারা। কোনো বিষয়ে সমাধান পেতে দেরি হলে সে বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নজরে দেওয়ারও চেষ্টা করেন গ্রুপের সদস্যরা। কারো পুলিশি পরামর্শ, ডাক্তার, অ্যাডভোকেট, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের পরামর্শ লাগলে মুহূর্তে পোস্ট করেন আর মুহূর্তে মিলে পরামর্শ। হয়ে যায় সমস্যার সমাধান।

এই ফেসবুক গ্রুপটিতে বেশিরভাগ রক্তের প্রয়োজনের অনুরোধ আসে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানি, সাইবার ক্রাইম ও সাইবার বুলিং এর শিকার হওয়ার অভিযোগ বেশি আসে। এমনকি বিভিন্ন অনলাইন কেনাকাটায় প্রতারিত হয়ে ‘ওয়াবে’ সাহায্য চান অনেকে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করি। এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার ব্যাগ রক্ত ম্যানেজ করে দিয়েছে উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব)।

করোনাকালে প্রায় দুই হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে ফেসবুক ভিত্তিক আকবরের এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেই সাথে গৃহহীনদের ঘর করে দিয়েছেন তারা। ওয়াব প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ শুরু করেছে, ইতোমধ্যে ৪০জন শারীরিক প্রতিবন্ধীকে হুইলচেয়ার উপহার দিয়েছে ওয়াব। এছাড়া প্রায় ৩০০এর বেশি সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়রানির শিকার মানুষদের পরামর্শ ও পুলিশের সহায়তায় সহযোগিতা করেছেন।

আকবর বলেন, যেহেতু আমি ওয়াব এর প্রতিষ্ঠাতা তাই বেশিরভাগ কাজগুলোতে আমার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। গ্রুপে সরকারের সব দপ্তরের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে চিকিৎসক, প্রকৌশলী, পুলিশ, ম্যাজিস্ট্রেট, আইনজীবী, সাইবার অভিজ্ঞসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষই আছেন। আমি সবার মধ্যে একটা সমন্বয় আনতে চাই। সকলের সমন্বয়ে একটি আলোকিত বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই।

চাকুরির পাশাপাশি সামাজিক কাজ করার বিষয়টি আপনাকে কেন ভাবায়? আকবরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মা-বাবার কাছ থেকে শিখেছি বিশেষ করে মায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছি। কারণ ছোটবেলা থেকেই আমার মা’কে দেখেছি এলাকার অসহায় মানুষদের সাহায্য করতেন তিনি। চাকরিতে এসে বিষয়টি আরো বেশি মনে কড়ানাড়ে। পুলিশের চাকরিটা এমন একটি চাকুরি যেখানে শতসহস্র মানুষের সাথে মেশার সুযোগ থাকে। মানুষের দুঃখ কষ্ট সহজে অনুভব করা যায়। মানুষের সাথে মিশে সেবা দেয়া যায়।

উই আর বাংলাদেশ (ওয়াব) নিয়ে আমার অনেক বড় স্বপ্ন রয়েছে। ওয়াব এর মাধ্যমে একটি ডিজিটাল মাদ্রাসা গড়তে চাই যেখানে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক সব শিক্ষা থাকবে, সকল সুযোগ সুবিধা পাবে শিক্ষার্থীরা। বয়স্কদের যেন রাস্তায় ঘুমাতে না হয় সেজন্য বৃদ্ধাশ্রম ও পথশিশুদের জন্য আবাসস্থল করতে চাই, সেই সাথে লেখাপড়ার সুযোগ-সুবিধা। হাসপাতাল গড়ার ইচ্ছে আছে যেখানে বিনা পয়সায় বা সামান্য কিছু খরচে চিকিৎসা সেবা পাবে দরিদ্র অসহায় মানুষ। শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের আগে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে থাকতে চাই। মানুষের জন্যেই কাজ করে যেতে চাই। – সংগৃহিত

https://www.bkash.com/