নজরুল পরিবারে দ্বন্দ্ব এ আর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি


প্রকাশের সময় : নভেম্বর ১৭, ২০২৩, ৬:১২ PM
নজরুল পরিবারে দ্বন্দ্ব  এ আর রহমানের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের বিখ্যাত গান ‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটির সুর-বদল করার জন্য অস্কারজয়ী সঙ্গীত পরিচালক এআর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কবির পরিবার। তবে বিষয়টি নিয়ে কবির পরিবারের মধ্যেই বড়সড় ফাটল সামনে এসেছে।

অভিযোগ করা হচ্ছে কাজী নজরুলের অন্যতম নাতি কাজী অনির্বাণই এমন চুক্তি করেছিলেন, যার ফলে ওই সুর বদল করা সম্ভব হয়েছে। কাজী অনির্বাণও তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলির জবাব দিয়েছেন।

বিবিসি বাংলা তাদের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পিপ্পা’ সিনেমায় সুর বদল করা যে গানটি ব্যবহার করা হয়েছে, তার নির্মাতাদের সঙ্গে ২০২১ সালে হওয়া একটি চুক্তিপত্রও পরিবারের সদস্যরা সামনে এনে অভিযোগ করছেন। ওই চুক্তিতে একাধিক অসঙ্গতি তারা খুঁজে পেয়েছেন।

তবে আগেই বিষয়টি নিয়ে ‘ভাবাবেগে আঘাত’ লেগে থাকলে তারা ক্ষমাপ্রার্থী বলে বিবৃতি দিয়েছিল ‘পিপ্পা’ সিনেমাটির নির্মাতা সংস্থা।

কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলন করে ভারত আর বাংলাদেশে– উভয় দেশে বসবাসকারী কাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন যে মামলা যেমন ভারতে হবে, তেমনই বাংলাদেশেও জনস্বার্থ মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলাদেশে বসবাসকারী কাজী নজরুলের নাতনি খিলখিল কাজী এবং ভারতে বসবাসকারী কবির নাতি কাজী অরিন্দম বলেন, এআর রহমান এবং ‘পিপ্পা’ সিনেমাটির নির্মাতা সংস্থাকে ক্ষমা চাইতে হবে কাজী নজরুলের গানটিকে ‘বিকৃত’ করার ‘গর্হিত অপরাধে’।

খিলখিল কাজীর কথায়, ‘কাজী নজরুল ইসলামের এই কালজয়ী গানটি যেভাবে বিকৃত করা হয়েছে, তার জন্য এআর রহমানকে ক্ষমা চাইতে হবে এবং তা পৃথিবীর সব মানুষের সামনে চাইতে হবে। কাজী নজরুল ইসলামের গানকে তো এভাবে আমরা ছাড় দিতে পারি না।’

তিনি বলেন, ‘যে গান আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে মেতে উঠেছিলেন সবাই, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সবাইকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে, বা আজও করে। গানটিকে ওই সিনেমা থেকে বাদ দিতে হবে। কোনও প্রজন্মের কাছে যেন ওই গানটি না যায়।’

কাজী নজরুলের নাতি কাজী অরিন্দম আবার বলছিলেন, ‘এটা তো শুধু একটা গান নয়, এটা একটা আন্দোলন, একটা ইতিহাস। বহু স্বাধীনতা সংগ্রামীর ইতিহাস এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। ‘পিপ্পা’ সিনেমার নির্মাতাদের গানটির ইতিহাস অধ্যয়ন করা উচিত ছিল। আমরা চাইব গানটি সিনেমা থেকে প্রত্যাহার করে মূল সুরটি ফিরিয়ে আনা হোক।’

সিনেমার নির্মাতাদের পক্ষে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে মঙ্গলবার রাতে। সেখানে তারা লিখেছেন যে, তারা গানটিকে যেভাবে ব্যাখ্যা করেছে, ‘তা যদি ভাবাবেগে আঘাত দিয়ে থাকে অথবা অনিচ্ছাকৃত পীড়া দিয়ে থাকে, তাহলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।’

ক্ষমা চাওয়ার কথা বলেও তারা কিন্তু এটা উল্লেখ করছে যে পরিবারের কাছ থেকে যথাযথ অনুমতি নিয়ে, লিখিত চুক্তি করেই তারা গানটি ব্যবহার করেছিল।

এদিকে সিনেমার নির্মাতা সংস্থার সঙ্গে ভারতে নজরুল ইসলামের সাহিত্য কীর্তির স্বত্ত্বাধিকারী প্রয়াত কল্যানী কাজীর চুক্তি নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলছে পরিবারের একটি অংশ।

এদিন একটি চুক্তিপত্র প্রকাশ করে কাজী নজরুল পরিবার। ওই চুক্তিটি হয়েছিল ‘পিপ্পা’ সিনেমার নির্মাতাদের সঙ্গে কাজী নজরুলের পুত্রবধূ কল্যাণী কাজীর মধ্যে। সেখানে সাক্ষী হিসাবে ছিলেন কল্যাণী কাজীর বড় ছেলে কাজী অনির্বাণ।

কাজী নজরুল ইসলামের ছোট ছেলে কাজী অনিরুদ্ধর পুত্র কাজী অনির্বাণ। তিনি ভারতে থাকেন। তার মা কল্যাণী কাজী প্রয়াত হয়েছেন এ বছরের মে মাসে। ওই চুক্তিপত্রে অনেক অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছে কবির পরিবার।

‘কারার ওই লৌহ কপাট’ গানটি নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পরে কাজী অনির্বাণ জানিয়েছিলেন, সিনেমাটির নির্মাতাদের সঙ্গে তার মা, কল্যাণী কাজীর মধ্যে ২০২১ সালে একটা চুক্তি হয়েছিল ওই গানটি সিনেমায় ব্যবহার করার বিষয়ে।

নজরুলের পৌত্র কাজী অনির্বাণ বলেন, ‘ওই চুক্তিতে সাক্ষী হিসাবে আমি ছিলাম, কিন্তু সেখানে কোনভাবেই সুর বা কথা বদলানোর অনুমতি আমার মা দেননি।

ওই গান ব্যবহারের জন্য দু লক্ষ টাকা রয়্যালটিও পেয়েছিলেন কল্যাণী কাজী, সেটাও জানিয়েছিলেন তার বড় ছেলে।

তিনি আগে এটাও বলেছিলেন, ‘মা ভেবেছিলেন এআর রহমানের মতো বিখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক গানটা ব্যবহার করলে তা বিশ্বব্যাপী একটা প্রচার পাবে। সেজন্যই বিশ্বাস করে দাদুর গানটা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছিলেন তিনি। এমন কি এটাও বলেছিলেন মা যে গানটা তৈরি হওয়ার পরে যেন আমাদের শোনানো হয়। এটা স্পষ্টতই চুক্তি ভঙ্গ।’

তবে সিনেমাটির নির্মাতা সংস্থা বিবৃতি দিয়ে দাবি করেছে তারা চুক্তি অনুযায়ীই গানটির সুর বদল করে ব্যবহার করেছে।

অন্যদিকে বৃহস্পতিবার খিলখিল কাজী ও কাজী অনির্বাণেরই ভাই কাজী অরিন্দম বলছেন, তারা এই চুক্তির কথা জানতে পেরেছেন বিতর্ক তৈরি হওয়ার পরে, এবছর নভেম্বরের নয় তারিখে।

https://www.bkash.com/