ধুরধুরিয়া মাদ্রাসায় ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ‘ফি’ আদায়


প্রকাশের সময় : ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০১৮, ১১:০৬ AM
ধুরধুরিয়া মাদ্রাসায় ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ‘ফি’ আদায়

মো: আব্দুস ছাত্তার : ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ধুরধুরিয়া আলিম মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরজমিনে অত্র মাদ্রাসায় গেলে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ অভিযোগ করেন।
জানা যায়, চলতি বছর অত্র মাদ্রাসা হতে ৭৮জন পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে। এদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগের ৪২ জন, সাধারন বিভাগের ৩৬জন। বিজ্ঞান বিভাগের ৫ টি এবং সাধারন বিভাগের ৪ টি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে বিষয় প্রতি ১০০/- টাকা হারে শান্তি ফি পরিশোধ করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকবৃন্দ। বুধবার মাদ্রাসায় ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়ার কথা বলে এ‘ ফি’ আদায় করা হয়। প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত ফি না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেয়ার হুমকি প্রদান করে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ। পরীক্ষার্থীরা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান, চলতি দাখিল পরীক্ষার ফরম পূরণে ২৮০০ টাকা এবং প্রবেশপত্র নেয়ার সময় ৩৩০টাকা করে পরিশোধ করেছি, আমরা গরীব কিছু বলতে গেলে মাদ্রাসা থেকে বের করে দিবে, জুলুম হলেও ব্যবহারিক নম্বর পাওয়ার আশায় ১০০ টাকা দিয়ে দিয়েছি।
ছাত্র অভিভাবক রফিকুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলাম জানান, আগে অত্র মাদ্রাসায় শান্তি ফি’র নামে এভাবে টাকা নেয়া হতো না, বর্তমান প্রিন্সিপাল যোগদান করার পর থেকে এমনটা হচ্ছে। আপনারা পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করলে পরে গোপনে তা আদায় করা হবে, শিক্ষার্থীরা কোনদিনই জুলুম থেকে রক্ষা পাবে না।
অধ্যক্ষ আবু সাইম মো: মুহতাসিম বিল্লাহ এর নিকট জানতে চাইলে তিনি সংবাদকর্মীদের উপর চড়াও হয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানের অনেক খরচ আছে, আমাদেরটা আমরা করেছি আপনাদের আপনারা করেন এখন অফিসের সময় না, আগামীকাল সকাল ১০টায় ফোন করেন ।
বিজ্ঞান শিক্ষক ফারুক বলেন, অন্যান্য মাদ্রাসায় জিজ্ঞাসা করেন তারা কত করে নিয়েছে, শিক্ষকের খরচ আছে, কেন্দ্রের খরচ আছে, আমরা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী নিয়েছি। বিজ্ঞান বিভাগে কতজন পরীক্ষার্থী জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার জানা নাই।
কেন্দ্র সচিব হান্নান সরকার বলেন, বিজ্ঞান বিভাগের ৫টি বিষয়ে কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়, এতে কেন্দ্র সচিবকে কোন টাকা দিতে হয় না।
সততা যাচাই করে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার লীরা তরফদার ।

https://www.bkash.com/