দরজা বন্ধ করে তনুকে ধর্ষণ করা হয়!


প্রকাশের সময় : মে ২৬, ২০১৬, ১০:১৭ AM
দরজা বন্ধ করে তনুকে ধর্ষণ করা হয়!

6a62ac6fb8bd2ceaaf72cc267eb483ae-56f60350c3d92ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় ঘটিত আলোচিত হত্যাকান্ডের শিকার সোহাগী জাহান তনুকে দরজা বন্ধ করে ধর্ষণের পর খুন করা হয় বলে দাবী করেছেন তনুর মা আনোয়ারা বেগম।
এ ব্যাপারে তনুর মা বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ তনু সেনানিবাসে পড়াশুনা করেছে। তাকে সবাই চিনে। সেনাবাহিনীর একটা অনুষ্ঠানে গান না গেয়ে পিকনিকে সিলেট যাওয়ার কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে তার চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। দরজা বন্ধ করে তনুকে ধর্ষণ করা হয় ! তার অনেক পরে লাশ দেয়া হয়।’

মঙ্গলবার বিকালে তনুর পরিবারকে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ফাঁকে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন। সেসময় তিনি আরো বলেন, ‘তনু কে কারা খুন করেছে সেনাবাহিনীর সবাই জানে। কিন্তু তবুও কেউ কিছু বলছে না। আমরা এতদিন চুপ ছিলাম প্রশাসনের আশ্বাসে। কিন্তু হত্যাকান্ডের দেড় মাসের বেশি হয়ে যাওয়ায় প্রশাসনের উপর আর আস্থা রাখতে পারছিনা।’

তনুর মা আরো বলেন, আমার তনু বলত আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবেন না। আমিও তেমনি আজ আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় করিনা। তাই বলছি সেনাবাহিনীর সদস্যরা তনুকে হত্যা করেছে। তনুর শরীর ক্ষত বিক্ষত ছিল। এ কথা মনে পড়লে আমি অসুস্থ হয়ে যাই, প্রতি রাতে ঘুমের ওষুধ না খেলে ঘুম হয়না আমার।

এদিকে তনুর বাবা অভিযোগ করে বলেন, ‘তনু হত্যাকান্পের পর কেউ আমাকে একটু সান্তনাও দেয়নি। অথচ উল্টো আমাদেরকে আরো হয়রানি করা হচ্ছে। সেনানিবাসে প্রবেশের পরিচয়পত্রের কার্ড থাকার পরও নানা কথা শুনতে হচ্ছে। আত্মীয় স্বজন আসলে তাদের ঘন্টাব্যাপী বসিয়ে রাখা হয়। গ্রামের বাড়িতে আমাদের থাকতে দেওয়া হয়না। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এখনো আমাদের অনেকে সন্দেহ করছে। যাদের বাসায় গিয়ে আমার মেয়ে আর ফিরে নাই, কেবল তারা জানে আর আল্লাহ পাক জানেন আমার মেয়ে তনুকে কারা হত্যা করেছে।’

মঙ্গলবার বিকাল ৪ টা থেকে সিআইডি ঢাকার সিনিয়র বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহহার আকন্দের নেতৃত্বে সিআইডি এর ঢাকা জোনের একটি টিম তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা আনোয়ারা বেগম, ভাই আনোয়ার হোসেন রুবেল, খালাত বোন লাইজু জাহান কে সিআইডি কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এর আগে তনুর বান্ধবী সঙ্গীত শিল্পী শান্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি টিম। বিষয়টি নিশ্চিত করে সিআইডি কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রনব কুমার রায় বলেন, ‘সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তনুর মা বাবা সহ তাদের পরিবারকে জিজ্ঞসাবাদ করার জন্য সিআইডি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।’

এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সকাল এগারোটায় ডেকে আনা হয়েছে তনুর স্কুল ও কলেজ জীবনের দুই সহপাঠী শামীম ও মাহমুদুলকে। তবে এখনো তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। আইনি হেফাজতে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ২০ই মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের অলিপুর এলাকার কালো টাংকি সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকান্ডের ৫০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
সূত্র- টাইমস অব ঢাকা

https://www.bkash.com/