চৌদার বড় বাড়ীতে অবশেষে ৪বছর পর বিদ্যুৎ কিন্তু ঠিকাদার ও দালালরা নিয়েছে প্রায় ৪লাখ টাকা


প্রকাশের সময় : জানুয়ারী ৫, ২০১৬, ৪:২০ AM
চৌদার বড় বাড়ীতে অবশেষে ৪বছর পর বিদ্যুৎ কিন্তু ঠিকাদার ও দালালরা নিয়েছে প্রায় ৪লাখ টাকা

460000ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : বর্তমান সরকার ২০১৮সালের মধ্যে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকার সফলতার সংগে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে অনেক গুণ। ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়াতেও এর ব্যতিক্রম নয়- প্রতিবছর কয়েক মাইল নতুন বিদ্যুৎ লাইন নির্মিত হচ্ছে এবং শত শত গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। আর এসব কাজ সরকারী অর্থায়নে হলেও এলাকার কিছু দালালবাজ ও অসাধু ঠিকাদারদের দৌরাতেœ সরকারের সে উন্নয়ন জনমনে হতাশা সৃষ্টি করেছে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের চৌদার মধ্যপাড়া (বড়বাড়ীতে) ২০১১সালের প্রথমদিকে জব্বার মাস্টারের আহ্বানে বাড়ীর লোকজন একত্রিত হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করার জন্য তাকেই দায়িত্ব দেয়া হয়। তিনি কিছুদিন পর গ্রাহকদের জানিয়ে দিলেন বিদুৎ পেতে গেলে টাকা লাগবে। তবে সবাই মিলে টাকা দিলে আমরা সহজেই কাজটা করতে পারবো। প্রথমত ২হাজার টাকা এবং পরে আরও ১৫শ টাকা করে মোট প্রতি মিটারে ৩৫শ টাকা করে উত্তোলন করলেও বিদ্যুৎ আসে না। ফলে ক্ষুদ্ধ হন স্থানীয়রা। অধিক ঘনবসতি বিধায় ২০১৪সালের প্রথমদিকে জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. মোসলেম উদ্দিন এ্যাডভেঅকেট বড় বাড়ীটি মাস্টার প্লানের অন্তভুক্ত করেন। সেই হিসেবে ২০১৫সালের প্রথমদিকে ওয়ার্ক অডার পেয়ে ঠিকাদার কাজ শুরু করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ডিসেম্বর স্থানীয় এমপি আলহাজ্ব মোসলেম উদ্দিন এ্যাড. সুইচ চেপে বিদ্যুৎ আলো জ্বালিয়ে দেন বড়বাড়ী এলাকায়। অনুষ্ঠানে এমপি ও বিদ্যুৎ অফিসের কর্তারা বলেন, এ লাইনটি করতে সরকারের খরচ প্রায় ১১ লাখ টাকা। তারা আরও উল্লেখ করেন আপনারা সংযোগ পাবার জন্য কাউকে কোন টাকা পয়সা ঘুষ দিবেন না। বিদ্যুৎ পেতে সরাসরি আমার অফিস যোগাযোগ করবেন। উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে শুরু হয় কানাকানি। গ্রাহকরা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তারা নিজের টাকায় বিদ্যুৎ কিনেছেন। অনুসন্ধানে মিলে গোপন রহস্য। কয়েকজন গ্রাহক জানিয়েছেন তাদের উপস্থিতিতে উপরমহলকে ম্যানেজ করার জন্য ৪০হাজার টাকা শামসুল হক মাস্টারকে দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎ অফিস ও ঠিকাদারকে দেড় লাখ টাকা প্রদান করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দালালদের একজন জানান, যখন এমপি সাহেব ডিও লেটার দেন তখন অফিসের কর্মচারীদের মাধ্যমে লাইন নির্মানের সম্ভাব্য স্থান সনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোক সেটিং দেয়া হয়, পরে তার মাধ্যমে ঠিকাদারের সখ্যতা গড়ে উঠে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫অর্থ বছরে অত্র উপজেলায় প্রায় ৫কোটি ৬০লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪৬কি. মি. নতুন লাইন নির্মান করা হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে ১২২ কিলো মিটার লাইন করা হচ্ছে।
গ্রাহক আব্দুস সালামের পুত্র ফারুক জানিয়েছে, আমরা মোতাহারের মাধ্যমে ৩৫শ টাকা করে দিয়েছি- এর মধ্যে মুল জব্বার মাস্টার- তাকে আয় ও ব্যয়ের হিসাব দিতে বলা হলে, তিনি অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
তোতা, আলম, নজরুল ও জুলহাস প্রথম ধাপে সংযোগ না পাওয়ায় পূনরায় সংযোগ পেতে ৯০হাজার টাকা দিয়েছেন তারপরও তারা সংযোগ পায়নি।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আ. জলিল এর বক্তব্য নেয়ার জন্য মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
মোতাহার জানান, ৪বছর যাবত দৌড়াদৌড়িতে সব টাকা খরচ হয়ে গেছে।
সরকারী খরচে লাইন প্রাপ্ত গ্রাহকরা জানিয়েছেন টাকা ছাড়া ঠিকাদার কোন কাজ করে না বিধায় আমরা মোতাহার ও জব্বার মাস্টারের মাধ্যমে টাকা দিয়েছি। যদি সরকারী অর্থায়নে বিদ্যুৎ লাইন নির্মান হয়ে থাকে তাহলে তাহলে এ ৪লাখ টাকার কি হবে? দালালের উৎপত্তিস্থল ও ঠিকাদার আ. জলিলের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে পল্লী বিদ্যুৎতায়ন বোর্ড সভাপতির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

https://www.bkash.com/