গৌরীপুর থানার এসআই আসাদকে ছুরিকাঘাতকারী উজ্জল বন্দুকযুদ্ধে নিহত


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ৪, ২০১৮, ১২:০২ PM
গৌরীপুর থানার এসআই আসাদকে ছুরিকাঘাতকারী উজ্জল বন্দুকযুদ্ধে নিহত

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার এসআই আসাদকে ছুরিকাঘাতকারী মাদকসেবী উজ্বল মিয়ার (৩৫) ডিবি পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহের সদর উপজেলার শম্ভুগঞ্জের ফুইল্যামারী এলাকায় মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) দিনগত রাত ৩ টার দিকে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি আশিকুর রহমান সাংবাদিকদের এ বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপনে খবর পেয়ে উল্লেখিত এলাকায় উজ্জ্বলকে ধরতে অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বিক্রেতা উজ্জ্বল ও তার লোকজন পুলিশকে লক্ষ করে গুলি ছুঁড়ে। তাৎক্ষণিক পুলিশ পাল্টা গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলেই উজ্জলের মৃত্যু হয় এবং তার সহযোগিরা পালিয়ে যায়। নিহত উজ্জ্বল গৌরীপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামানকে ছুরিকাঘাত মামলার আসামি বলে তিনি জানান। তার লাশ ময়নাতদন্তেরর জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) রাত পৌনে ১২ টার দিকে গৌরীপুর শহরের পুরাতন জেলখানা মোড়ে মাদকসেবী উজ্জল মিয়ার (৩৫) ছুরিকাঘাতে এসআই আসাদ গুরুতর রক্তাত্ব জখম হয়। ওইদিন রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার অস্ত্রোপাচার শেষে নিবিড় পরিচর্যার জন্য তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আসাদকে বৃহস্পতিবার দুপুরে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ জানান বর্তমানে আসাদ শংঙ্কামুক্ত। তিনি বলেন পুলিশের ওপর এ হামলার ঘটনায় গৌরীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) তারিকুজ্জামান বাদী বুধবার রাতে মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২৫, তাং-২৮/০৩/১৮ ইং)। এসআই আসাদের বাড়ী নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের আলমপুর গ্রামে। তিনি এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক এবং স্ত্রী বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় উল্লেখিত এলাকার শমর উদ্দিনের ছেলে অটো রিক্সা চালক উজ্জল মিয়া একজন মাদকসেবী ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক। উজ্জলের অত্যাচার ও অনৈতিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তার ছোট ভাই কাঞ্চন মিয়া মঙ্গলবার (২৭ মার্চ) গৌরীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছিল। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনারদিন রাতে এস আই আসাদ উজ্জলকে বাড়ী থেকে আটক করে থানায় নিয়ে আসার সময় তাকে পিছন থেকে কোমরের উপরিভাগে ছুঁরিকাঘাত করে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় সে। কাঞ্চনের স্ত্রী সোমা আক্তার জানান উজ্জল নিয়মিত ইয়াবা সেবন করতো। বেশকিছুদিন ধরে সে রামদা ও ছোঁরা নিয়ে এলাকায় ঘুরাঘুরি করে মানুষের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছিল। বাড়ীতেও সে সকলের সাথে উৎশৃংখল আচরণ করতো। উজ্জল ব্যক্তিগত জীবনে দু’টি বিয়ে করলেও তার অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তাকে ছেড়ে দু’জন স্ত্রী চলে যায়। তাই উজ্জলের উৎশৃংখল-অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে থানায় তার বিরুদ্ধে ঘটনারদিন বিকেলে অভিযোগ করেছিল কাঞ্চন মিয়া।

https://www.bkash.com/