গৌরীপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৮, ২০১৭, ১২:৫০ PM
গৌরীপুরে হানাদার মুক্ত দিবস পালিত

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের গৌরীপুুর হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনে পাক হানাদার বাহিনী রাতেঁর আধারে গৌরীপুর ছেড়ে পালিয়ে গেলে শত্রুমুক্ত হয় গৌরীপুর। এদিবসটি উদযাপন উপলক্ষে শুক্রবার গৌরীপুর উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড ও যুগান্তর স্বজন সমাবেশের যৌথ উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, শহরে বিশাল বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল ও সমাবেশ করা হয়েছে। এতে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতা-কর্মী, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের শতশত জনগণ স্বতফূর্তভাবে অংশ গ্রহন করেন। এসব কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি। স্থানীয় বঙ্গবন্ধু চত্বরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের যৌথ উদ্যোগে এ উপলক্ষে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদের সভাপতিত্বে ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড গৌরীপুর পৌর শাখার সভাপতি মশিউর রহমান কাউসারের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মর্জিনা আক্তার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহাম্মেদ, সাধারণ সম্পাদক বিধু ভুষণ দাস, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় উপ কমিটির সাবেক সহ সম্পাদক মুর্শেদুজ্জামান সেলিম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড কেন্দ্রিয় কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ আব্দুর রহিম, শহীদ মঞ্জুর ভাই ম. নুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও আব্দুল মুন্নাফ, উপজেলা শ্রমিকলীগের আহবায়ক আব্দুস সামাদ, উপজেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক ইকবাল হাসান আজাদ লিটন, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সভাপতি আবুল ফজল মুহম্মদ হীরা, সাধারণ সম্পাদক হারুণ অর রশিদ, পৌর যুবলীগের আহবায়ক আব্দুর রউফ মোস্তাকীম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোঃ সোহেল রানা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ। উল্লেখ্য ১৯৭১ সনের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে গৌরীপুর শহর ছাড়া সমস্ত এলাকা মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের হামলায় পাক হানাদার বাহিনী ৭ ডিসেম্বর দিনগত রাতে শহর ছেড়ে রেলযোগে গৌরীপুর থেকে পালিয়ে যায়। ওইদিন রাতেই মুক্তিযুদ্ধের কোম্পানী কমান্ডার রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে আবুল কালাম আজাদ, আঃ হেকীম, নজরুল ইসলাম, সোহরাব, ছোট ফজলূ, আনসার, কনুসহ একদল মুক্তিযোদ্ধার কাছে গৌরীপুর থানায় অবস্থানরত পুলিশ ও রাজাকাররা আত্মসমর্পন করে। এই খবর মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে শহরের মুক্তি পাগল মানুষ জয় বাংলা ধ্বনিতে গৌরীপুরের আকাশ মুখরিত করে তোলে এবং প্রানঢালা অভিন্দন জানিয়ে বরণ করে নেয় বাংলার দুর্জয় সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের। স্বাধীনতার অংশ হিসেবে হানাদার মুক্ত হয় গৌরীপুর।

https://www.bkash.com/