গৌরীপুরে সড়কে মরণ ফাঁদের আরেক নাম যন্ত্রদানব ইটভাটার লড়ি


প্রকাশের সময় : মার্চ ১১, ২০১৮, ১২:১৪ PM
গৌরীপুরে সড়কে মরণ ফাঁদের আরেক নাম যন্ত্রদানব ইটভাটার লড়ি

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে বিভিন্ন সড়কে মরন ফাঁদের আরেক নাম যন্ত্রদানব নামে পরিচিত ইটভাটার কাজে নিয়োজিত লড়ি (ট্রাক্টর)। রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলাচলের কারনে বর্তমানে লড়ি আতংক বিরাজ করছে স্থানীয় জনগণের মাঝে। এসব অবৈধ লড়ির নেই কোন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও লড়ির চালকের নেই কোন লাইন্সেস। প্রতিনিয়ত এ যন্ত্রদানবের সাথে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে মানুষ, ঘটছে প্রাণহানি। কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য দেশে ট্রাক্টর আনা হলেও সেই ট্রাক্টর কৃষি কাজে ব্যবহার হচ্ছে না। ইঞ্জিনের পিছনে একটি বডি সংযোজন করে এটিকে মালামাল পরিবহন কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। গৌরীপুরে এটি বেশী ব্যবহার হয় ইটের ভাটার মাটি ও ইট পরিবহনের কাজে। ইটভাটার জন্য মাঠ থেকে মাটি বহন করে ট্রাক্টরগুলো উপজেলা সদরসহ গ্রামের রাস্তা থেকে শুরু করে মহাসড়কে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বেপরোয়া গতিতে বীরদর্পে চলাচল করে থাকে। এসব যন্ত্রদানবের তান্ডবে স্থানীয় রাস্তাঘাট ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এই ট্রাক্টরের বড় চাকায় পাকা রাস্তার পিচসহ ইট-সুরকী উঠে খানা-খন্দের সৃষ্টি হচ্ছে। জানা গেছে উপজেলার গৌরীপুর-শাহগঞ্জ, গৌরীপুর-কলতাপাড়া, রামগোপালপুর-ঈশ্বরগঞ্জ সড়কের পাশে কৃষি জমির উপর প্রায় ১৩ টির মত ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এ সকল ইটভাটায় দু’শ হ্যান্ডট্রলি ও পঞ্চাশটির মত লড়ি (ট্রাক্টর) মাটি, বালু, ইট বহনের কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এসব ট্রাক্টর চলাচলের সময় বিকট শব্দে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, হাসপাতালে মানুষ শব্দ দূষণের শিকার হচ্ছে। এসব ট্রাক্টর চালকের কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স’র প্রয়োজন হয়না বিধায় পনের থেকে বিশ বছরের শিশু-কিশোররা এসব ট্রাক্টর অবাধে চালাবার সুযোগ পাচ্ছে। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) ট্রাক্টর চালনার উপর কোনো ধরনের লাইসেন্স ইস্যু করে না। সনদ না থাকায় এসব ট্রাক্টর ও ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে মামলা করার কোন সুযোগ নেই। উল্লেখ্য গৌরীপুর পৌর শহরে মধ্যবাজারে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী ট্রাক্টরের নিচে চাপা পড়ে মটর সাইকেল আরোহী স্থানীয় কাপড় ব্যাবসায়ী হাফেজ আব্দুল লতিফের (৪৫) মৃত্যু হয়। এছাড়াও হ্যান্ডট্রলি ও লড়ির দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় আরো অনেকের। গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তার বলেন, গৌরীপুরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন। গৌরীপুর এলজিইডি’র উপ-সহকারি প্রকৌশলী আতিয়ার রহমান জানান গ্রামীণ অবকাঠামোয় নির্মিত সড়ক নির্দিষ্ট সময়ের আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে অবাধে হ্যান্ডট্রলি ও ট্রাক্টর চলাচল।

https://www.bkash.com/