গৌরীপুরে রূপক মৎস্য হ্যাচারীতে ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনায় ধুম্রজাল!


প্রকাশের সময় : মে ৩১, ২০১৮, ১১:০৭ AM
গৌরীপুরে রূপক মৎস্য হ্যাচারীতে ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনায় ধুম্রজাল!

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নে শিবপুর গ্রামে রূপক মৎস্য হ্যাচারীতে ভাংচুর-লুটপাট ও প্রাইভেটকার-মটর বাইক ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ধু¤্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। হ্যাচারীর মালিক সোহেল মিয়ার অভিযোগ রামগোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনির দাবিকৃত চাঁদা টাকা না দেয়ায় তার হ্যাচারীতে ভাংচুর-লুটপাট ও তার প্রাইভেটকার এবং মটর বাইক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান ত্রিশালের ফারমার্স এগ্রো নামে এক মৎস্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্ধ লক্ষ টাকা আত্মসাত করতে সোহেল তার উপর সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ উত্থাপন করছে। এদিকে গৌরীপুর থানার পুলিশের মন্তব্য হচ্ছে উল্লেখিত হ্যাচারীতে কোন ভাংচুর-লুটপাট ও জোরপূর্বক গাড়ী ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেনি তবে উভয়পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়েছে। সোহেলের প্রাইভেটকার ও মটর বাইকের কাগজপত্র না থাকায় থানায় জব্দ করে রাখা হয়েছে।

রূপক হ্যাচারীর প্রোঃ মোঃ সোহেল মিয়া অভিযোগ করে বলেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ না করায় ৭ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেয়ায় ২২ মে (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন হ্যাচারীতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করেন এবং তার প্রাইভেটকার ও মটরবাইক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়া হয়। উক্ত ঘটনায় তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার রুবি বাদী হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জনি ও তার সহযোগী কায়সার (২৩), হালিমের (২১) সহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে আদালতে মামলা দায়ের করেন। সোহেল আরো জানান আদালতে মামলা দায়ের করায় বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকী প্রদান করে আসছেন।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল আমিন জনি জানান, ত্রিশালের ফারমার্স এগ্রো নামে মৎস্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্ধ লক্ষ টাকা প্রতারনার মাধ্যমে আত্মসাত করায় ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক কবির আহমেদ ও আব্দুল হামিদ ইউপি পরিষদে উপস্থিত হয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২২ মে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে সোহেলের নামে তার হ্যাচারীতে নোটিশ প্রেরণ করা হয়। এসময় গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি দেখে সোহেল রাগান্বিত হয়ে তাদের প্রতি মারমুখী হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গেলে সোহেল তার সাথেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বাকবিতন্ডা শুরু করে দেয়। একপর্যায়ে গৌরীপুর থানার পুলিশকে খবর দিলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইউপি চেয়ারম্যান জানান সোহলের হ্যাচারীতে কোন ভাংচুর-লুটপাটের ঘটনা তিনি ঘটাননি। তার প্রাইভেটকার ও মটর বাইকের কাগজপত্র না থাকায় পুলিশ তা জব্দ করে থানায় নিয়ে যান। তিনি আরো জানান সোহেল একজন জামায়াতের সক্রিয় নেতা, তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অসংখ্য মামলা রয়েছে। সে মানুষের সাথে প্রতারনার মাধ্যমে অল্প বয়সে অগাধ টাকার মালিক বনে গেছে। বর্তমানে হ্যাচারীর কোন লাইসেন্স না নিয়েই সে অবৈধভাবে মৎস্য ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। ত্রিশালের ফারমার্স এগ্রোর মালিক কবির আহমেদ ও আব্দুল হামিদ জানান মোঃ সোহেল মিয়ার সাথে প্রায় দু’বছর ধরে তারা মৎস্য ব্যবসা করে আসছেন। গত ২৮ মার্চ হুমায়ূন কবির নামে তার এক বন্ধুকে নিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ৬৬ লক্ষ টাকার পাবদা মাছ ক্রয় করে সোহেল। এসময় ৬৬ লক্ষ টাকার মধ্যে ১৬ লক্ষ টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকী ৫০ লক্ষ টাকার বেসিক ব্যাংকের একটি খালি চেক প্রদান করে মাছ নিয়ে চলে আসে। এরপর উক্ত টাকা দেয় দিচ্ছি বলে সোহেল বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপন করতে থাকে। সর্বশেষ ১৮ মে টাকার জন্য সোহলের হ্যাচারীতে গেলে এসময় সে তাদেরকে বসিয়ে রেখে চলে যায়। পরে নিরুপায় হয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য তারা রামগোপালপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবরে সোহেলের প্রতারনার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল মিয়া সাংবাদিকদের জানান এটা একটি ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা। গৌরীপুর থানার এস আই নবী হোসেন জানান ঘটনার দিন ইউপি চেয়ারম্যানের বাকবিতন্ডা হয়েছিল, কোন হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটতে তিনি দেখেননি। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহম্মদ জানান সোহেলে গাড়ীগুলোর কোন কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করে থানায় রাখা হয়েছে। কাগজপত্র নিয়ে আসলে গাড়ীগুলো দিয়ে দেয়া হবে।

https://www.bkash.com/