গৌরীপুরে যুবলীগের সম্মেলন বানচাল নিয়ে নেতৃবৃন্দের পাল্লাপাল্টি অভিযোগ


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ৪, ২০১৭, ৭:৪৭ AM
গৌরীপুরে যুবলীগের সম্মেলন বানচাল নিয়ে নেতৃবৃন্দের পাল্লাপাল্টি অভিযোগ

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরিপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন বানচালের ঘটনায় স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহমেদকে দায়ী করে উপজেলা যুবলীগের একাংশের নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনে যে অভিযোগ করেছে তা ভিত্তিহীন ও মিথ্যা বলে মনে করেছে উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। শনিবার (২ ডিসেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহ শহরের ধানসিঁড়ি রেষ্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাবু বিধু ভূষণ দাস লিখিত বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। এ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ডাঃ হেলাল উদ্দিন আহম্মেদ, সহ সভাপতি অধ্যক্ষ রহুল আমিন, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ম, নুরুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, আব্দুল মুন্নাফ, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হাফিজ উদ্দিন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ৩০ নভেম্বর উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সম্মেলনের দিন গভীর রাতে দুস্কৃতিকারীরা সম্মেলন মঞ্চে অগ্নিসংযোগ করে এবং ইউএনও’র বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে পেট্রল বোমা নিক্ষেপ করে। সম্মেলন পন্ডু করার লক্ষ্যেই দুস্কৃতিকারীরা এ হামলা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেন। যার প্রেক্ষিতে জেলা যুবলীগ সম্মেলন স্থগিত করে। সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণার পর ঘটনারদিন যুবলীগের নেতৃবৃন্দের একাংশ স্থানীয় এমপিকে দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল শেষে তারঁ কুশপুত্তলিকা দাহ করে। তারা পুনরায় এ অভিযোগে পরদিন গৌরীপুর গৌরীপুর প্রেসক্লাবের সংবাদ সম্মেলন করে। যা আমরা তথা উপজেলা আওয়ামীলীগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে মনে করি।

আমাদের জানা মতে মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য কোন ভাবেই সম্মেলন স্থগিত করার সাথে সংশ্লিষ্টতা নেই। বরং সম্মেলনকে সফল করতে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগকে সাথে নিয়ে সব রকম সহযোগিতা করে গিয়েছেন। বিভিন্ন ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলনে তিনি নিজে প্রধান অতিথি উপস্থিত থেকে সম্মেলনকে সফল করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করেন। উপজেলা যুবলীগের সম্মেলনকে সফল করতে তিনি তার ঢাকা ন্যাম ভবনের বাসভবনে যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বদিসহ স্থানীয় যুবলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে বৈঠক করে ৩০ নভেম্বর সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করেন। ২৫ নভেম্বর উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে যুবলীগের নেতৃবৃন্দের সাথে সম্মেলনের অগ্রগতি বিষয়ে মতবিনিময় করেন এবং তাদেরকে আর্থিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর মধ্যে সম্মেলনকে ঘিরে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হলে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক তপন সাহা ও সদস্য সচিব আব্দুর রউফ মোস্তাকীম ২৭ নভেম্বর বাসায় গিয়ে এমপি মহোদয়ের সহযোগিতা চান। এসময় যুবলীগ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে কেন্দ্রিয় যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল ও সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম বদিকে সম্মেলনে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। এসকল ঘটনার প্রেক্ষিতে আমরা নিশ্চিত ধারনা পোষণ করি যে সম্মেলন সফল করার জন্য এমপি মহোদয় সব সময় আন্তরিক ভূমিকা পালন করেছেন।

তাঁর উপর যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। পাশাপাশি এমপি মহোদয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ যারা মিথ্যা অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাদের প্রতি উপজেলা আওয়ামীলীগ তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্নস্থানে পেট্রল বোমা হামলা ও সম্মেলন মঞ্চে অগ্নি সংযোগকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে সুন্দর পরিবেশে সম্মেলনের মাধ্যমে যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য জেলা যুবলীগকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমাদের বধ্যমূল ধারণা আওয়ামীলীগের ভিতর ঘাপটি মেরে থাকা জামাত বিএনপির এজেন্টরা আমাদের এমপি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলা করে তার দায়ভার চাপানোর চেষ্টা করছে। যাতে করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পরাজয় হয়।

https://www.bkash.com/