গৌরীপুরে বাঁশ-বেতের কাজ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী


প্রকাশের সময় : মার্চ ২১, ২০১৮, ২:৩৫ PM
গৌরীপুরে বাঁশ-বেতের কাজ করে দিন বদলের স্বপ্ন দেখছে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী

মশিউর রহমান কাউসার : বৃদ্ধা সিন্দু রানীর বয়স পঁচাত্তর। স্বামী হেমন্ত চন্দ্র মারা গেছেন অনেক আগেই। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে তার সন্তানদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করে আসছিলেন। অবশেষে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাঁশ-বেতের কারখানায় কুটির শিল্পের কাজ করে মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র তৈরী করে নিজের ভাগ্যকে বদল করেছেন তিনি। এখন আর তাকে নিজ সন্তানদের উপার্জনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না। এ কাজ করে প্রতিদিন তিনি আয় করে থাকেন ৪শ থেকে ৫শ টাকা। সে রোজগার দিয়েই বর্তমানে সুখে কাটছে তার দিনগুলো। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সিধলা ইউনিয়নের মনাটি গ্রামে বাঁশ বেতের কারখানায় তার মত নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সুমিত্রা, সঞ্জিতা রানী, অজিত চন্দ্র ক্ষত্রিয়সহ আরো অনেকেই কাজ করে নিজের ভাগ্য বদলে স্বপ্ন দেখছেন। জানা গেছে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীদের আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে উক্ত বাঁশ-বেতের কারখানাটি ২০১৬ সনে স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ কারখানায় প্রায় অর্ধশত নর-নারী কাজ করে তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ কারখানায় বাঁশ দিয়ে তৈরী করা হয় বসার মুড়া, ঝুড়ি, টুকরী, খাঁচা, চালুন, ঝাঁকা, মাছ ধরার পলই ও বাইর, বেতের তৈরী পাটি ও জায়নামাজ, ফুলদানি মানুষের নিত্য ব্যবহারের হরেক রকম জিনিসপত্র। শহরে অবস্থিত কুটির শিল্পের মালিক ও স্থানীয় পাইকাররা এ কারখানা থেকে এসব জিনিসপত্র বিক্রির জন্য ক্রয় করে নিয়ে যায়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে গৌরীপুর উপজেলায় মনাটি, হাসনপুর, সিধলা ও শালিহর এ চারটি গ্রামে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর প্রায় সাতশ লোক বসবাস করছে। তাদের জীবন-মান উন্নয়নে ১৯৯৮ সনে গঠন করা হয়েছে গৌরীপুর ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন নামে একটি সংগঠন (রেজিঃ নং-ম-০১২৭৮)। সরকারি অনুদানে এ সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন আত্মকর্মসংস্থানমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংগঠনের সভাপতি গৌরাঙ্গ ক্ষত্রিয় ও সাধারণ সম্পাদক ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার পরিমল ক্ষত্রিয় জানান বাঁশ-বেতের কাজ ছাড়াও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকজন। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ও বরাদ্ধকৃত অর্থ কাজে লাগিয়ে নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সার্বিক উন্নয়নে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের সংগঠনের মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৩টি সিএনজি ক্রয় করা হয়েছে। ১৩ মার্চ বাঁশ-বেতের কারখানা পরিদর্শন করেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষন ও মূল্যায়ন বিভাগের উপ-পরিচালক (সিনিয়র সহকারি সচিব) মোহাম্মদ এনামুল আহসান। এসময় এ কারখানার কর্মকান্ড দেখে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার জানান নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জীবন-মান উন্নয়নে তাদের সন্তানদের আত্মপ্রত্যয়ী ও শিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারিভাবে বিভিন্ন বরাদ্ধ ও অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। আরো বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

https://www.bkash.com/