গৌরীপুরে কচুর লতি চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২১, ২০১৮, ১১:৩৩ AM
গৌরীপুরে কচুর লতি চাষে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা একটি কৃষি সমৃদ্ধ এলাকা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া ফসলের জন্য উপযোগী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি নানা শাকসবজিসহ বিভিন্ন অর্থকারী ফসলের চাষাবাদ করে থাকেন। তবে অন্যান্য ফসলের তুলনায় রোগবালাইয়ের ঝুঁকি কম থাকায় এবং সাশ্রয়ী শ্রম ও খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় বর্তমানে কচুর লতি চাষে আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষকদের মাঝে। চলতি মৌসুমে এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কচুর লতির বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ফসলের বাম্পার ফলন ও ন্যায্য মুল্য পেয়ে কৃষকদের মুখে ফুটেছে ওঠেছে হাসি। শুক্রবার (২০ এপ্রিল) এ উপজেলার মাওহা ইউনয়িনের ভূটিয়ারকোনা বাজারে পাইকারের কাছে কচুর লতি বিক্রি করার সময় কথা হয় ভূটিয়ারকোনা গ্রামের কৃষক মান্না মিয়ার সাথে। এসময় মান্না মিয়া জানান চলতি মৌসুমে তিনি ২০ শতক জমিতে কচুর লতি চাষ করেছেন। তাতে ফলন খুব ভাল হয়েছে। এতে তার খরচ হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টাকা। মৌসুমের শুরুতেই তিনি বিক্রি করেছেন প্রায় ১০ হাজার টাকার কচুর লতি। স্থানীয় বাজার থেকে পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে ৩৫ টাকা কেজি ধরে কচুর লতি ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন। তার মত কচুর লতি বিক্রি করতে আসা নুনাপাড়ার সেলিম মিয়া, কলতবাড়ীর তোফাজ্জল হোসেনসহ আরো কৃষক জানান তারা দীর্ঘদিন ধরে বোর ফসলের পাশাপাশি এ অর্থকারী ফসলের চাষ করে আসছেন। কচুর লতি চাষে অন্যান্য ফসলের তুলনায় তারা আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছেন। স্থানীয় কৃষক আব্দুল হান্নান রেনু জানান মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী থাকায় মাওহা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামের কৃষক অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি কচুর লতি চাষ করে থাকেন। রোগবালাইয়ের তেমন ঝুঁকি না থাকায় এবং শ্রম ও খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মাঝে কচুর লতি চাষে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাইকার কালাম মিয়া ও আলতু মিয়া জানান গৌরীপুর উপজেলার কচুর লতির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এ উপজেলার উৎপাদিত কচুর লতি ক্রয় করে তারা সিলেটে নিয়ে বিক্রি করেন। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাদিকুর রহমান রহমান জানান এ উপজেলার মাওহা ইউনিয়নে কচুর লতির চাষ বেশি হয়ে থাকে। এছড়াও অচিন্তপুর, মইলাকান্দা ও রামগোপালপুর ইউনিয়নের কৃষকরাও কচুর লতি চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষকদের কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে এ অর্থকারী ফসল উৎপাদনে তদারকির পাশাপাশি পরামর্শ ও উৎসাহ প্রদান করা হয়ে থাকে।

https://www.bkash.com/