এনায়েতপুর ও ভবানীপুরে পোল্ট্রি খামারীদের মাথায় হাত : মৃত্যুর মিছিল থামছেই না


প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০১৭, ১২:২৩ PM
এনায়েতপুর ও ভবানীপুরে পোল্ট্রি খামারীদের মাথায় হাত : মৃত্যুর মিছিল থামছেই না

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডট কম : ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় উপজেলায় পোল্ট্রি খামারে অজ্ঞাত রোগে হাজার হাজার মুরগী মরে যাওয়ায় এ শিল্পে ধস নামতে শুরু করেছে। এ রোগ নির্ণয় করতে না পারায় খামারীদের মাথায় হাত উঠেছে, যেন কোনমতেই মৃত্যুর মিছিল থামছে না। ফলে পথে বসেছে অনেক খামারী। কোটি কোটি টাকার মুরগী মরে সাবার হওয়ায় মুরগীর খাবার ও ঔষধ ব্যবসায়ীরা মহা টেনশনে রয়েছে। রোগ নির্ণয় করতে মাঠে ছুটে বেড়াচ্ছেন উপজেলা প্রাণি সম্পদ সংশ্লিষ্টরা।
খামারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ১২শ লেয়ার মুরগির নিয়ে খামার করেছিলেন সোয়াইতপুর গ্রামের আলহাজ্ব রুস্তম আলী। খরচ বাদে প্রথম বছর সীমিত লাভ হয়েছিল। পরের বছর ফার্মের পরিধি বাড়িয়ে ৫ হাজার লেয়ার মুরগির খামার করেন। তিন হাজার মুরগি ডিম দেয়। অজ্ঞাত রোগে গত দুই দিনে তার ৪ টি সেটে (ঘর) প্রায় তিন হাজার মুরিগ মারা গেছে। একই গ্রামের সানি ফার্মের প্রোপ্রাইটর আনোয়ারা বেগম ব্যাংক ও এনজিও ঋণ সহায়তা নিয়ে ৫ টি সেটে (ঘর) ৯ হাজার লেয়ার মুরিগ পালন করছিলেন। প্রায় ৭ হাজার মুরগি ডিম দিচ্ছিল তার। একই রোগে দুই দিনে প্রায় ৫ হাজার মুরগি মারাগেছে।
লেয়ার মুরগি মরে খামারী রুস্তম আলীর প্রায় ৩০ লাখ ও আনোয়ারা বেগমের ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা । তাদের মতো ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার এনায়েতপুর, ভাবানীপুর ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের গত এক মাসে অজ্ঞাত রোগে ৪শ থেকে ৫শ পোল্ট্রি ফার্মের সব মুরগি মরে সর্বনাশ হয়েগেছে খামারীদের! প্রতিদিনই কোন না কোন খামারের মুরগি মারা যাচ্ছে। কোন খামারীরা মুরগির মৃত্যুর প্রকৃত কারন বলতে পারেনা।
গত ২৭ নভেম্বর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খামারীদেরকে ‘পরামর্শমূলক’ ্একটি চিঠি প্রদান করেছেন। যাতে উল্লেখ করা হয়েছে খামারের চারদিকে সপ্তাহে দুই দিন চুন ছিটাতে হবে, ফার্মের ভিতরে কাপড় কাচা সোডা ও ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে হবে, বাহির থেকে আনা ডিমের ট্রে, পর্যটক, ভ্যানওয়ালা, ডিমবিক্রেতা, কোন ক্রমেই খামারের ভিতরে প্রবেশ করতে দেয়া যাবেনা, মরা মুরগি পুড়ে ফেলুন বা ফার্ম থেকে দূরে গর্তকরে পুঁতে রাখুন এবং মুরগি মারাগেলে তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে নিয়ে এসে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করুন।
প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলা নিবন্ধনকৃত ১৩৮ টি ও অনিবন্ধকৃত ১হাজার ১শ ১৪ টি মুরগির ফার্ম রয়েছে। তবে খামারীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে অনিবন্ধনকৃত মুরগির ফার্মের সংখ্য ২ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের খামারী শহিদ সিকদার বলেন, সোয়াইতপুর গ্রামে ২৪১ টি খামারীর মধ্যে ৩০ জনের ফার্মে মুরগি রয়েছে। ভাইরাস জনিত কারনে অন্যান্য সব খামারীর মুরগি মারাগেছে। সোয়াইতপুর বাজারে পোল্ট্রী ফিট ব্যবসায়ী রজব আলী বলেন, দুইশ খামারীকে ২ থেকে ৭ লাখ টাকা করে মুরগি খাদ্য বাকি দিয়েছি। বেশির ভাগ খামারীর মুরগি মারা যাওয়ায় কোন খামারী বাকি টাকা পরিশোধ করতে পারছেন না। ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদের কাছে মৃত্যুর আগে মুরগি লক্ষণ সর্ম্পকে জানতে চাইলে বলেন, বেশির ভাগ ফার্মের মুরগি হলুদ পায়খানা করে ১ থেকে ৬ ঘন্টার মধ্যে সেটের সব মুরগি মারা যায়। কিছু কিছু ফার্মের মুরগি প্রথমে ঝিমায়, খাবার খায়না, সাদা ও রক্তমাখা পাতলা পায়খানা করে দুই থেকে আড়াই ঘন্টার মধ্যে সব মুরগি মারা যায়। তবে অনেক খামারীর ধারনা তাদের ফার্মের মুরগি মারা যাচ্ছে বার্ড ফু রোগে আক্রান্ত হয়ে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, কিছু কিছু ফার্মের মুরগি মারাগেছে, রোগের লক্ষণে মনে হচ্ছে ফাউল কলেরা, অথবা রানিক্ষেত। তবে নিদৃষ্ট করে বলা যাচ্ছে কি রোগে মারাগেছে। খামারীদেরকে ‘পরামর্শ মূলক চিঠি’ দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন এলাকায় গিয়ে খামারীদের পরামর্শ ও চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। মরা মুরগি সংগ্রহ করে পরীক্ষা করার জন্য ময়মনসিংহ প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, রিপোর্ট আসার পর মুরগির মৃত্যু প্রকৃত কারন জানাযাবে। তিনি আরও বলেন, খামারীরা কোম্পানীর ডাক্তার পেলেই মুরগির চিকিৎসা করায়। একজন ডাক্তার একদিনে একাধিক ফার্মের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। এতে করে এক ফার্মের ভাইরাস আরেক ফার্মে প্রবেশ করার ঝুঁকি থাকে।

https://www.bkash.com/