এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকর করতে বিভাগীয় কমিশনার নজর দিবেন কি


প্রকাশের সময় : এপ্রিল ২৩, ২০১৮, ১:৫০ PM
এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যকর করতে বিভাগীয় কমিশনার নজর দিবেন কি

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডট কম : আধুনিক পরিষদ ভবন থাকার পরও ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৯নং এনায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি একটি অকার্যকর পরিষদে রূপান্তরিত হয়েছে। পরিষদ ভবন থেকে কোন ধরনের সেবা পায় না বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তাদের মতে এটি একটি অকার্যকর ইউনিয়ন পরিষদ। রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে পরিষদের জমিও বেদখল হয়ে যাচ্ছে।
ফুলবাড়িয়া উপজেলা সদর থেকে ২৫ কিলোমিটার দক্ষিন পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদটির অবস্থান। ফুলবাড়িয়ার উপজেলার সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন এটি। আদমশুমারির সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী অত্র ইউনিয়নে ২৮১২৫জন লোকের বাস, এর মধ্যে ১৪০৪৩জন পুরুষ ১৪০৮২জন মহিলা রয়েছে। কিঞ্চিৎ বাদে ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় পাকা রাস্তা। আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থাকার পরও এখান থেকে কোন ধরনের সেবা নিতে পারেন না নাগরিকরা। সামান্য সেবা নিতে যেতে উপজেলার সর্ব দক্ষিনে কাহালগাঁও গ্রামের বাজারে যেতে হয়। ইউনিয়নের ডিজিটার সেন্টারটিও সেখানে। ভাড়া করা একটি রুমে ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ডিজিটাল সেন্টারের দু’জন উদ্যোক্তার মধ্যে মাঝে মধ্যে একজনকেও পাওয়া যায় না। মোশারফ হোসেন নামের প্রধান উদ্যোক্তা একটি ঔষধ কোম্পানীতে চাকুরী করেন। মানুষ তাদের প্রয়োজনে না পাওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সচিব মারা গেলে তার স্থলাভিষিক্ত ভারপ্রাপ্ত করা হয়েছে কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের ওয়েব সাইড ব্রাউজ করে দেখা যায় সচিব প্রোফাইলে মারা যাওয়া সচিবের ছবি। বাস্তবে দশের অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও পোর্টালে ১টি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ আছে, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। টিআর, কাবিটা, এলজিএসপি সহ উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড ঠান্ডা হয়ে রয়েছে, কাজের স্থিরতা, ধীরতা কোনটাই নাই। অথচ ফুলবাড়িয়া উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন এটি। এখানে বেসরকারীভাবে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম দ্বীপ্ত অর্কিড বাগান, আলাদীনস্ পার্ক লি:, বহু মুরগীর ফার্ম।
অত্র ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: কবির হোসেন তালুকদার ২০০৩ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিষদটি ফুলবাড়ীয়ার মডেল হওয়ার কথা সেখানে নাগরিকরা সেবা হতে বঞ্চিত। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন ও সাধারণ নাগরিকরা।
ফুলবাড়িয়া কলেজের (অনার্স কলেজ) রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এস এম আবুল হাশেম বলেন, আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই। একটা জন্মনিবন্ধন অথবা পরিচয়পত্রের জন্যে কাহালগাঁও বাজারে যেতে ভ্যান ভাড়া দিতে হয় ৩০ টাকা অথচ আমার বাড়ীর নিকট ইউনিয়ন পরিষদ।
বিভাগীয় কমিশনারের আগমনের মধ্যদিয়ে সরকারের সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত তৃণমুলের এ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর একটি সচল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হবে বলে প্রত্যাশা করেন স্থানীয়রা।

https://www.bkash.com/