রবিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২২, ১১:৫৪ অপরাহ্ন

ঈশ্বরগঞ্জে গোপনে মাদ্রাসা কমিটি করতে ভারপ্রাপ্ত সুপারের কারসাজি

রতন ভৌমিক, ঈশ্বরগঞ্জ : ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাউলেরচর দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে গোপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকারে শিক্ষার্থীর অভিভাবক ও মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা  মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিয়োগ করেন।

জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজের স্বার্থসিদ্ধি ও পছন্দের লোকদের কমিটিতে অন্তুভুক্ত করার হীন উদ্দেশ্যে মাদ্রাসার কমিটি করার প্রক্রিয়া শুরু করেন কাউকে না জানিয়ে। এমনকি মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরও জানে না এ প্রক্রিয়ার কথা। বিধি মোতাবেক এলাকায় মাইকিং কিংবা ভোটার তালিকাও প্রকাশ করেননি। গত ২২ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন। অথচ এলাকার কেউই জানেন না এ খবর। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায় সুপার সাইদুল অতি গোপনে মাদ্রাসা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন যা এলাকার কেউই জানেনা । বিষয়টি প্রকাশ হলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের কয়েকজন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি ২২ নভেম্বর সুপারকে মাদ্রাসার বোর্ডে ভোটার তালিকা টানানো ও অভিভাবকদের নির্বাচনী কাগজপত্র দিতে বলেন । পরদিন ২২ নভেম্বর এলাকাবাসী বিকাল ৩টা পর্যন্ত মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অবস্থান করলেও সুপারের দেখা পাননি। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, সাইদুল ইসলাম অত্র মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর থেকেই এলাকায় বিভাজন সৃষ্টি হয়। মাদ্রাসায় নতুন ভবনের স্থান নির্ধারণে এলাকাবাসীর সার্বিক মতামতকে আমলে না নেওয়া, আত্মসাৎ ও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ায় সচেতন অভিভাবক মহল সুপার সাইদুল ইসলামের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। নাম প্রকাশ না করার স্বার্থে এলাকার অনেকেই জানান, সুপার সাইদুল ইসলামে সাথে ছাত্রীর আনন্দঘন মুহূর্তের ছবি যখন ভাইরাল হয় তখনই আমরা বুঝতে পারি সুপারের কতটুকু অধপতন হয়েছে ।
আরও জানা গেছে,সংসদ সদস্যের চাহিদাপত্রকে অকার্যকর করতে গত বছর সুপার সাইদুল ইসলাম প্রায় তিনমাস পলাতক ছিলেন। ইতোপূর্বে আরও দুইবার গোপনে কমিটি গঠন করতে চেয়েছিল সুপার সাইদুল। পরে জানতে পেরে এরকাবাসীর তোপের মুখে ভেস্তে যায় তার গোপন অভিপ্রায়।

এলাকার মিসবাহ উদ্দিন কাঞ্চন মাস্টার (মাইজবাগ ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী) বলেন, ভারপ্রাপ্ত সুপার সাইদুল ইসলাম গোপনে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বিগত সময়ে আরও দইবার সুপার একাজ করেছে। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে সে নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। আশা করি এবারও সে পার পাবেনা। এমন দুর্নীতিবাজ সুপারকে দেখতে চায় না এলাকাবাষী।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত সুপার সাইদুল ইসলামের মুঠোফোনে কথা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেন। বিস্তারিত জানতে চেয়ে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি পরে আর রিসিভ করেননি।

মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি আনোয়ার পারভেজ বলেন, গোপনে মাদ্রাসার কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াকে আমি সমর্থন করিনা এর দায়দায়িত্ব সমপূর্ণ ভারপ্রাপ্ত সুপারের।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রাউলেরচর মাদ্রার কমিটি গঠন সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি পেন্ডিং আছে। বিষয়টি দেখছেন বলে জানান তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

কপিরাইট © ফুলবাড়িয়ানিউজ২৪ ডট কম ২০২০
Design & Developed BY A K Mahfuzur Rahman