ইন্টারনেট ব্যবহারে মিয়ানমার ও ইথিওপিয়ার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ


প্রকাশের সময় : মে ১৭, ২০১৬, ৫:৫০ AM
ইন্টারনেট ব্যবহারে মিয়ানমার ও ইথিওপিয়ার চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ

internet

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24 ডটকম : বিশ্বব্যাংক এক প্রতিবেদনে বলছে মোট জনগোষ্ঠী হিসাবে বিশ্বে যে দেশগুলো ইন্টারনেট সংযোগে পিছিয়ে রয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫ম। বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে রয়েছে মিয়ানমার বা ইথিওপিয়ারমত দেশ। সংস্থারটিরমতে এই খাতে যত কাজ তৈরি হওয়া সম্ভব তাও হচ্ছে না। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যাপক প্রসার হয়েছে মোবাইল ফোন ব্যবহারে এবং বিশ্বে যে দেশগুলোর মোবাইল কল খরচ সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে একটি হলেও ইন্টারনেট সংযোগের খরচ এখনও অনেক বেশি।

ইন্টারনেট সংযোগে কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ এই বিষয়ে টেলিকম বিশেষজ্ঞ আবু সাঈদ খান বিবিসি বাংলাকে বলেন, বাংলাদেশ ইন্টারনেট সংযোগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে এটা ঠিক তবে বিশ্বব্যাংক তাদের রিপোর্টে যে পরিসংখ্যানের কথা বলছে সেটা ২ বছরের পুরনো। মিয়ানমার এগিয়ে গেছে এর কারণ ২০১৪ সালের সেই রিপোর্টে বাংলাদেশ থেকে কোন পরিসংখ্যান পাঠানো হয়নি এটা একটা দিক। আরেক বিষয় হল এই রিপোর্টে বিশ্বব্যাংক চমৎকার একটি ছক দিয়েছে যেখানে সরবরাহ এবং চাহিদায় কি ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেখানে বাংলাদেশে মূল যে দুটি প্রতিবন্ধকতা সেটা হল অবকাঠামো এবং গ্রাহক যে যন্ত্র ব্যবহার করে বা যেটাকে টার্মিনাল বলি এগুলোর বাজারে যে প্রবেশাধিকার সেক্ষেত্রে অনেকগুলো বাধা রয়েছে। এখানে অর্থনৈতিক বাধা এবং প্রক্রিয়াগত বাধা রয়েছে এটা পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ।

প্রক্রিয়াগত বাধাগুলো কি সে সম্পর্কে আবু সাঈদ খান বলেন, প্রক্রিয়াগত বাধা হচ্ছে বাংলাদেশে ডিজিটাল অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকে সরাসরি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এই অবস্থা চলছে গত ছয়-সাত বছর ধরে। মূলত বাংলাদেশে যারা টেলিযোগাযোগের অবকাঠামো বা আইসিটি অবকাঠামো এদেশে যারা মোবাইল ফেনের ব্যবসা করতে এসেছিলেন তারাই এদেশে সেটাকে প্রথম সংস্থাপন করেন। কিন্তু তারপরে ২০০৭-০৮ সালে যখন সামরিক আইন চলছিল তখন নীতিমালা পরিবর্তন করে বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ করা হয় এবং সেই ধারাবাহিকতা এখনও চলে আসছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে এই সুস্থ প্রতিযোগিতা থাকার জন্য যেটা প্রয়োজন সেজন্য সরকার ২০১২ সালে প্রতিযোগিতা আইন তৈরি করেছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেই আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না।

বাংলাদেশে এখনও ব্রডব্যান্ড বা ইন্টারনেট সংযোগ নিতে গেলে অনেক খরচ হয় এর কারণ সম্পর্কে আবু সাঈদ খান বলেন, এই খরচ বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে একেবারে পাইকারি অবস্থায় যখন ইন্টারনেটের সংযোগ আসে যেটাকে আমরা ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে বলি সেখান থেকে শুরু করে গ্রাহকের প্রান্তিক পর্যন্ত যে স্তরগুলো আছে সেই স্তরগুলোতে মূলত বিভিন্ন অবকাঠামোগত সংকট এবং যে প্রক্রিয়াগত বাধা আছে সেগুলো এর খরচকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। উদাহারণ হিসাবে বলা যায় বাংলাদেশে বর্তমানে ৫শ’ টাকায় ব্যান্ডউইথ পাওয়া যাছে। কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ে গ্রাহকরা এই মুল্যে পান না। তার কারণ হচ্ছে এখানে সরকার অনেকগুলো মধ্যস্বত্ব ভোগী তৈরি করে রেখেছে যার কারণে গ্রাহকরা কখনই কম মুল্যে সেটা হাতে পায় না।

সূত্র: বিবিসি বাংলা.

https://www.bkash.com/