ব্রেকিং নিউজঃ-
Home » আইন ও আদালত » পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ, ৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি

পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী অপহরণ, ৯ দিনেও সন্ধান মেলেনি

Share on Facebook152Share on Google+0Tweet about this on TwitterShare on LinkedIn0

photo-1507371530

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : ময়মনসিংহ শহরের আকুয়া মোড়লবাড়ী এলাকা থেকে গত ৩০ সেপ্টেম্বর পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১০) অপহরণ করা হয়। এই ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেনও মেয়েটির বাবা। কিন্তু ৯দিন হয়ে গেলেও মেয়েটিকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়; যার নম্বর ২১৪৯। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মেয়েটির বাবা তাঁর ভাড়া বাসার সাবেক ভাড়াটিয়া মো. কামরুজ্জামান ওরফে জামানকে সন্দেহ করেন। তিনি বর্তমানে আকুয়া দক্ষিণপাড়ায় সোহরাব সাহেবের মসজিদের দক্ষিণ পাশে রবিনের বাসার ভাড়াটিয়া।

এরপর জামানের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে জানা যায়, জামান মেয়েটিকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে এবং রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে অবস্থান করছে। মেয়েটির বাবা সেখানে গিয়ে যোগাযোগ করে জামানের বোনজামাই মধুর কাছে জানতে পারেন, জামান (৩০), তার বাবা মো. রফিকুল ইসলাম (৫৬), মা রেজিয়া খাতুন (৫৩), বোন মর্জিনা (৩৬) ও শাহারা খাতুন (৩৪) পরিকল্পিতভাবে নাবালক মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করেছে।

পরে স্কুলছাত্রীর বাবা ৪ অক্টোবর সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় তাঁর নাবালক মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় কামরুজ্জামানকে আসামি করে একটি মামলা করেন। যার নম্বর ১০। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ।

মেয়ের বাবা মামলায় উল্লেখ করেন, ‘আমি বর্তমানে যে বাসায় ভাড়ায় থাকি জামান তার পরিবারসহ এই বাসায় ভাড়া থাকত। সে নেশা করে বাসায় ফিরে তার স্ত্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সময় ঝগড়া ও হাতাহাতি করত। পরে আমি বাড়িওয়ালাকে অভিযোগ করলে তার মা-বাবা, ভাই-বোনেরা এসে আমার সঙ্গে ঝগড়া করে। বাড়িওয়ালা তখন তাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। বাড়ি ছাড়ার সময় জামান আমাকে হুমকি দিয়ে যায়, যেকোনো প্রকারে হোক সে আমার ক্ষতি করবে। বাড়িওয়ালার মাধ্যমে তাকে উচ্ছেদ করার কারণেই সে আমার নাবালক মেয়েকে অপহরণ করেছে। এখন সে আমার নাবালক মেয়েটির যেকোনো ক্ষতি করতে পারে, এমনকি বিদেশেও পাচার করে দিতে পারে। কারণ তাঁর বউ ও সন্তান আছে। জামান একজন দুষ্ট প্রকৃতির লোক।’

শুক্রবার (৬অক্টোবর)দুপুরে জামানের একটি মোবাইল ফোন থেকে ফোন দিয়ে অপহৃত ছাত্রী কাঁদতে কাঁদতে তাঁর মা-বাবাকে বলে, ‘তোমরা চিন্তা করো না আর পুলিশকে বলবে না। ওরা তাহলে আমাকে মেরে ফেলবে। এরপর মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ ঘটনার পর শুক্রবার (৬অক্টোবর) দুপুরেই মেয়ের বাবা তাঁর নাবালক মেয়েটিকে উদ্ধারে মামলার কপি নিয়ে র‍্যাব-১৪-তেও আবেদন করেন। মামলার কপি রেখে মেয়ের বাবাকে র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাতেই তাঁকে ফোন করে পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো ফোন করা হয়নি।
অপহরণকারী জামানের বাবা মো. রফিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই ছাত্রীকে অপহরণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘জামান আমার স্ত্রীর আগের ঘরের সন্তান। সে খুব খারাপ কাজ করেছে। আমিও এর শাস্তি চাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুনসুর আহমেদ বলেন, ‘আমরা ছাত্রীটিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’
সূত্র- এনটিভি অন লাইন

Related posts:

About fulbaria

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*