,

ThemesBazar.Com

গৌরীপুর সরকারি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নে চলছে শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা

gouripur govtমশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর সরকারি কলেজে শিক্ষার মানোন্নয়নে ও সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতিকল্পে অধ্যক্ষ প্রফেসর খোন্দকার আবদুল ওয়াদুদের নেতৃত্বে শিক্ষকগণ বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছেন। যা শিক্ষার্থীদের সুষ্ঠ পাঠদানের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। জানা গেছে ইতিমধ্যে ক্লাসরুমে ইউনিফর্মসহ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষকগণ নিয়মিত ক্লাসে পাঠদান করে যাচ্ছেন। শিক্ষকগণের সার্বিক সহযোগিতায় ক্যাম্পাসে কার্যকরী ভিজিল্যান্স কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ কমে গেছে। শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড ও ইউনিফর্ম ছাড়া ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারে না। ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কাটা তারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিষয়ে ভালো করার জন্য দুটি মাল্টি মিডিয়া শ্রেণী কক্ষ তৈরীসহ নতুন ভাবে কম্পিউটার ল্যাব চালু করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে ফুলের বাগান সংস্কার ও বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। সম্প্রতি ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সম্মান শ্রেণীতে ১ম বর্ষে দু’শ আসন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অধ্যক্ষের সার্বিক প্রচেষ্টায় কলেজের শিক্ষকদের সকল শূণ্য পদ পূরণ করা হয়েছে। বিএনসিসি ও রোভার স্কাউটকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো হয়েছে। প্রতি বছর বিএনসিসি থেকে ১০/১২ জন ক্যাডেট সশস্ত্র বাহিনীতে চাকুরী পাচ্ছে। ক্যাম্পাসে শৃংখলা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বিএনসিসি ও রোভার স্কাউট সদস্যরা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। আরও ৩টি বিষয়ে (ইসলমের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, ইংরেজ) অনার্স খোলার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এ কলেজের প্রাক্তন ছাত্র জাতীয় সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহমদের প্রচেষ্টায় ৬তলা বিশিষ্ট একটি নতুন ভবনের অনুমোদন হয়েছে। অচিরেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। এছাড়াও জমিদার আমলের মূল ভবনটির সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। কলেজে একটি পতাকা স্ট্যান্ড (গার্ড অব অনার মঞ্চ) তৈরী করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য পাইলট প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাসিক পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে তিন জন করে শিক্ষক নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তাদের সার্বিক একাডেমিক বিষয় তদারকী করে থাকেন। অভ্যন্তরীন সকল পরীক্ষায় ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান অধিকারকারীদের পুরষ্কৃত করা হয়ে থাকে । সকল জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় শিক্ষক, ছাত্র, কর্মচারী ও অভিভাবকদের নিয়ে কলেজ ক্যম্পাসে উদযাপন করা হয়। ছাত্র-ছাত্রীদের অফিসিয়াল কাজ (ভর্তি, ফরম পূরণ ও অন্যান্য) সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সেড নির্মাণ ও বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া অফিস কার্যক্রমের পরিপত্রের বাইরে কোন প্রকার অতিরিক্ত ফি বর্তমানে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে না। অধ্যক্ষ প্রফেসর খোন্দকার আবদুল ওয়াদুদ জানান, এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬৪ সনে ২১ একর সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়। কলেজটিতে বর্তমানে এইচএসসি, বিএসসি, বিএসএস ও ৬টি বিভাগে অনার্স কোর্সে মোট নয় হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতি সম্প্রতি একটি কুচক্রী মহল কলেজের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করার প্রয়াসে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অযুক্তিক। তিনি বলেন গত এইচএসসি পরীক্ষায় অত্র কলেজের শিক্ষার্থীদের রেজাল্ট বিপর্যয়ের কারন ছিল ইংরেজী ও আইসিটি বিষয়ে কোন শিক্ষক ছিলনা। এসময় আমি কলেজে যোগদান করিনি। বর্তমানে ওই দু’টি শিক্ষকের শূণ্য পদ পূরণ হয়েছে। আগামী পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা রেজাল্ট ভাল করবে আশা করছি। ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে শ্রেণী সংকট থাকবে না। এছাড়া মেয়ে শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য আলাদা আবাসন সমস্যাসহ অন্যান্য সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান হবে।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ