,

ThemesBazar.Com

একজন সফল চাষী সাইদুর রহমানের জীবনের গল্প

dhan kata

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরিপুর : নানা প্রতিকূলতার মাঝেও পৈত্রিক পেশা কৃষিকে আঁকড়ে ধরে জীবনে সফলতা অর্জন করেছেন কৃষক মোঃ সাইদুর রহমান। ধান চাষের পাশাপাশি তিনি অর্থকারী ফসল আলু, লেবু, দেশী কলা, বাদাম, লটকন, সরিষাসহ অন্যান্য মৌসুমী ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করেন। মধু উৎপাদনের জন্য নিজ বাড়িতে মৌমাছির চাষ করছেন। আর ফসল উৎপাদনের ক্ষেত্রে তিনি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে নিজের তৈরী জৈব সারের ব্যবহার বেশী করে থাকেন। বয়স সত্তর হলেও এখনো কৃষি কাজে মনোযোগ হারাননি তিনি। এ বয়সেও প্রতিদিন শ্রমিকের সাথে নিজেও কঠোর পরিশ্রম করেন। সেই সফল কৃষক সাইদুর রহমানের বাড়ী ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের ইয়ারপুর গ্রামে। সে মৃত ইব্রাহীম মুন্সীর পুত্র। এক স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে কৃষি পেশা দিয়ে চলছে তার সুখের সংসার।

zawiba sar

জানা গেছে, রামজীবনপুর ব্লকে ইয়ারপুর গ্রামে সাইদুর রহমানের ভিটে-বাড়ি ছাড়া প্রায় ১৩০ শতক কৃষি জমি রয়েছে। তার মধ্যে আশি শতক জমিতে ধান চাষ করেন। নিজের পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবছর বিশ থেকে পঁচিশ হাজার টাকার ধান বিক্রি করেন। বিশ শতক জমিতে রয়েছে দেশী কলার বাগান। এ বাগান থেকে প্রতিবছর দশ থেকে বার হাজার টাকার কলা বিক্রি করা হয়। পনের শতক জমিতে রযেছে লেবু বাগান। প্রতিবছর পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেন তিনি। বাড়ির পাশে রয়েছে পুরাতন লটকন ফলের বাগান। পঞ্চাশটি গাছ থেকে প্রতি মৌসুমে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকার লটকন বিক্রি করা হয়। এছাড়াও তিনি মৌসুমী ফসল আলু, সরিষা, বাদাম, আখ ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষ করে থাকেন। পালন করছেন গবাদি পশু। বর্তমানে মধু উৎপাদনের জন্য নিজ বাড়িতে মৌমাছির চাষ শুরু করেছেন। চলতি সরিষা মৌসুম থেকে মধু সংগ্রহ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। ফসল ও বাগানে ব্যবহারের জন্য বাড়ীতে গড়ে তুলেছেন ছোট জৈব সারের কারখানা। গোবর, কচুরীপনা ও আবর্জনা দিয়ে তৈরী করছেন এ জৈব সার। জৈব সার ব্যবহারের ফলে তার উৎপাদিত ফসল ও ফলমূলের উৎপাদন অন্যান্যদের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশী হয়ে থাকে। ফসল ও ফলমূল হয় পুষ্টিকর ও গুনাগুনে ভরপুর। এজন্য কৃষক সাইদুর রহমানের উৎপাদিত ফলমূল ও ফসল ক্রয়ের জন্য স্থানীয়দের মাঝে চাহিদা রয়েছে।

সাইদুর রহমান শৈশবে মাত্র পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। নানা কারনে ব্যক্তিগত জীবনে উচ্চ শিক্ষা লাভ না করলেও নিজের সন্তানদের তিনি একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে শিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলছেন। বড় পুত্র মেধাবী ছাত্র আসাদুজ্জামান গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে স্কলারশীপ পেয়ে চীনের একটি কলেজে কারিগরি শিক্ষা লাভে বর্তমানে অধ্যয়নরত। দ্বিতীয় পুত্র মোঃ আরাফাত গৌরীপুর ইসলামাবাদ সিনিয়র মাদ্রাসায় ৬ষ্ট শ্রেণীর ছাত্র। সে পঞ্চম শ্রেনীতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। একমাত্র কন্যা শান্তনা আক্তার গৌরীপুর সরকারি কলেজে এইচএসসি বিজ্ঞান শাখায় অধ্যয়নরত। সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণীতে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। সাইদুর রহমানের কৃষি ছাড়া অন্যকোন পেশা নেই। কৃষিপেশা দিয়েই তার সন্তানদের লেখাপড়া খরচ ও পরিবারের অন্যান্য ব্যয়ভার বহন করে আসছেন।

কৃষক সাইদুর রহমান বলেন, বর্তমানে নানা কারনে অনেকেই কৃষি পেশায় আগ্রহ হারিয়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। কিন্তু নানা প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি এ পৈত্রিক পেশা ধরে রেখেছেন এবং সফল হয়েছেন। আগে নিজেই পরিশ্রম করে ফসল, ফলমূল ও শাকসবজি উৎপাদন করতেন। এখন বয়স হয়েছে তাই কৃষিকাজে শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে পাশাপাশি উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মুল্য না পাওয়ায় সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের খরচ বহন করতে বর্তমানে তাকে হিমশীম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শে ও বিভিন্ন সহযোগিতায় তিনি উন্নত জাতের বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে আসছেন। তার সফলতার পেছনে কৃষি অফিসের ভূমিকা রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ সাদিকুর রহমান বলেন, উল্লেখিত কৃষক স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বল্প জমিতে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, চারা ও জৈব সার ব্যবহার করে সফল হয়েছেন। তিনি একজন সফল চাষী। তার মত অন্যান্য কৃষকরাও ইচ্ছে করলে তাদের অল্প জমিতে সঠিক পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারেন।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ