,

ThemesBazar.Com

গৌরীপুরে তিন রাজনৈতিক দলের এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশী দু’ডজন

gouripur mp parti-10

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরিপুর : আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এই তিন রাজনৈতিক দল থেকে এমপি মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন প্রায় দু’ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী এক ডজনের বেশী সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমানে এলাকায় গণসংযোগ, নানা প্রচারনা, দলীয় কর্মসূচীতে অংশ গ্রহনের পাশাপাশি কেন্দ্রিয়ভাবে জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। অপরদিকে বিএনপি ও জাপা’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এলাকায় নিরব প্রচারণার পাশাপাশি কেন্দ্রিয়ভাবে লবিং করছেন। একটি পৌরসভা ও দশটি ইউনিয়ন নিয়ে এ আসন। মোট ভোটার সংখ্যা হচ্ছে ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৭২৫ জন। জানা গেছে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী দুটি উপ নির্বাচনসহ পাঁচটি নির্বাচনে এ আসনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের প্রার্থী। অপরদিকে তিনটি নির্বাচনে বিএনপি’র ও একটি নির্বাচনে জাপা’র প্রার্থী বিজয়ী হন। ২০০১ সন থেকে টানা তিন নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এ আসনটি ধরে রেখেছিলেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মরহুম ডাঃ ক্যাপ্টেন (অবঃ) মুজিব। ২০১৬ সনে তার মৃত্যুর পর উপ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের প্রার্থী প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব নাজিম উদ্দিন আহমেদ। তিনি জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বৃহত্তর ময়মনসিংহের তৎকালীন ছাত্রলীগের সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন। নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি হওয়ার পর থেকে গৌরীপুর উপজেলায় আওয়ামী রাজনীতিতে স্থিতিশীল পরিবেশ বিরাজ করছে। তিনি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করে দলীয় কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছেন। বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তৃণমূলে নারীদের সামনে তুলে ধরতে নাজিম উদ্দিন আহমেদ এলাকায় উঠোন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন। তিনি আগামী নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আ.লীগের মনোনয়ন পেতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা বার কাউন্সিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীরমুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ এলাকায় গণসংযোগ করে যাচ্ছেন। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে উপজেলা আ.লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহাম্মেদ খান সেলভী দলীয় কর্মকান্ডে অংশ গ্রহনের পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড নানা প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরে তৃণমূল পর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সাধারণ সম্পাদক ব্যাংক কর্মকর্তা ফেরদৌস আলমের স্ত্রী নাজনীন আলম আ.লীগের মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের নিকট আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ২০১৪ সনের নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হরিণ প্রতিক নিয়ে দলীয় প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অবঃ) মুজিবের নৌকা প্রতিকের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে ক্যাপ্টেন (অবঃ) মুজিব ৪৩ হাজার ৬৪০ ভোট পেয়ে টানা তৃতীয়বার এমপি হন। নাজনীন আলম পান ১৯ হাজার ৬২৩ ভোট। ক্যাপ্টেন (অবঃ) মুজিবের মৃত্যুর পর ২০১৬ সনে উপ নির্বাচনে তিনি পুনরায় আ’লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দাখিল করেন। পরে দলীয় নেতা-কর্মীদের চাপে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিধু ভুষণ দাস সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় মূল আওয়ামী রাজনীতির সাথে দলের পদ-পদবীহীন নাজনীন আলমের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তিনি স্থানীয় আ.লীগের নেতা-কর্মীদের সাথে কোন সমন্বয় না করেই একলা চলো নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছেন এবং ঢাকা বসে ফেইসবুক প্রচারনার মাধ্যমে বিতর্কিত হচ্ছেন। এদিকে গনসংযোগ ও প্রচার প্রচারনায় পিছিয়ে নেই গৌরীপুর পৌর আ.লীগের সভাপতি পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ত্যাগী নেতা শরীফ হাসান অণু, শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভি.পি ড. সামিউল আলম লিটন, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মুর্শেদুজ্জামান সেলিম, জেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক ভি.পি গোলাম মোস্তফা বাবুল, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ.লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক রাবেয়া ইসলাম ডলি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডাঃ মতিউর রহমান। আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীর তালিকায় আরো রয়েছেন বাকসুর সাবেক ভি.পি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজের অধ্যক্ষ একেএম আবদুর রফিক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি এডভোকেট মোজ্জাম্মেল হক, গৌরীপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম হবি, উপজেলা আ.লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন জুয়েল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফাইজুল হক শেখর, কেন্দ্রিয় যুবলীগের সদস্য সাবেক ছাত্র নেতা আবু কাউছার চৌধুরী রন্টি, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল হক।

অপরদিকে গৌরীপুরে বিএনপির রাজনীতি বর্তমানে তিন ভাগে বিভক্ত। তারা পৃথক পৃথক ভাবে দলীয় কর্মসূচী পালন করছেন। ২০০৮ সনের নির্বাচনে বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন আ.লীগের প্রার্থীর নিকট পরাজিত হন। এরপর থেকে স্থানীয় বিএনপির কর্মসূচীতে তিনি নিস্ক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাঁর অনুসারীগণ জানান, তিনিই পুনরায় দলের মনোনয়ন পাবেন। এদিকে জেলা বিএনপির যুগ্ন আহবায়ক মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত উপজেলা বিএনপির একাংশ কমিটির আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান আহাম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণ বিভিন্ন হামলার শিকার ও অর্ধশতাধিক মামলার আসামী হয়েও দলীয় কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৫১ হাজার ৬৫০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শরীফ হাসান অণু পেয়েছিলেন ৩৪ হাজার ৩৮৯ ভোট। আহাম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরণ এমপি পদে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে দৃঢ় আশাবাদী। বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন জেলা বিএনপির আহবায়ক খুররম খান স্বাক্ষরিত উপজেলা বিএনপির একাংশ কমিটির আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মকবুল হোসেন বকুল, জেলা বারের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নূরুল হক, উপজেলা কৃষকদলের সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন খান, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী তানজিন চৌধুরী লিলি, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি সাবেক স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মরহুম নুরুল আমিন খান পাঠানের পুত্র ফয়সাল আমিন খান ডায়মন্ড, উপজেলা বিএনপি নেতা হাফেজ আজিজুল হক। এদিকে জাপা থেকে মনোনয়ন চাইবেন নতুন মুখ জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মোশারফ হোসেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করলে এ আসনে আ.লীগ ও বিএনপি’র এমপি প্রার্থীর মাঝে ভোটের লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ