,

ThemesBazar.Com

গৌরীপুরে কিশোর সাগর হত্যার ঘটনায় আরো একজন গ্রেফতার

sagar-28.09

মশিউর রহমান কাউসার, গৌরীপুর : ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কিশোর সাগর হত্যাকান্ডের ঘটনায় বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে এ উপজেলার চরশ্রীরামপুর গ্রামের ফজলুর রহমান (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে গৌরীপুর থানার পুলিশ। সে ওই গ্রামের মৃত মেশর আলীর ছেলে। এর আগের দিন উক্ত ঘটনায় একই গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৫০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ দেলোয়ার আহাম্মেদ এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেন। বুধবার বিকেলে চরশ্রীরামপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মর্জিনা আক্তার, জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএ নেওয়াজী, গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সীমা রানী সরকার, গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ দেলোয়ার আহাম্মেদ। উল্লেখ্য সোমবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে চরশ্রীরামপুর এলাকায় গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচরীতে চোর সন্দেহে সাগরকে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্মমভাবে পিঠিয়ে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলে স্থানীয় হ্যাচারীর মালিক আক্কাছ আলী ও তার লোকজন। ঘটনার একদিন পর হ্যাচারী সংলগ্ন কাশবন থেকে পুলিশ ওই কিশোরের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে। এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় ওই হ্যাচারী মালিক আক্কাছ আলী (৪০) সহ তার চার ভাই, হ্যাচারীর এক কর্মচারী ও অজ্ঞাতনামা ৬ জন কে আসামী সাগরের পিতা শিপন মিয়া বাদী গৌরীপুর থানায় মামলা করেন। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক সরকার এ নির্মম হত্যাকান্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বলেন, যে পানির পাম্প চুরির সন্দেহে সাগরকে আটক করা হয়েছিল, তা কোন যন্ত্রপাতি ছাড়া খোলা অথবা তার একার পক্ষে বহন করে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। সেই পানির পাম্পটি অক্ষত অবস্থায় হ্যাচারিতে রয়েছে। এক্ষেত্রে কিশোর সাগরকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে পিঠিয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। বৃহস্পতিবার চরশ্রীরামপুর গ্রামে উল্লেখিত হ্যাচারীতে সরজমিনে গেলে স্থানীয় লোকজন জানায়, কিশোর সাগরের হত্যাকারী গাউছিয়া হ্যচারীর মালিক আক্কাছ আলী ও তার ভাইয়েরা এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিল। প্রভাবশালী পরিবার হওয়ায় তাদের অসামাজিক কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করতে সাহস পেতো না প্রতিবেশীরা। তারা কোন রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য নয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আক্কাছ আলীর হ্যাচারীর নিবন্ধন নবায়ন না থাকায় গত ১৩ জুলাই ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। এছাড়া তার হ্যাচারীতে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছের চাষ হতো। স্থানীয় ইউপি মেম্বার আবুল কালাম জানান, আক্কাছ আলী একজন মাদকসেবী ছিল। তার হ্যাচারীতে নানা অপকর্ম হতো। প্রায় ছয় মাস পূর্বে চরশ্রীরামপুর গ্রামে মৃত ইদ্রিসর আলীর যুবতী কন্যা গোসল শেষে বাড়ী ফেরার পথে আক্কাছ আলীর ভাই সোহেল তার শরীরে থুথু মারে। এর প্রতিবাদ করায় ওই কন্যার বাড়ি ঘরে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে বখাটে সোহেল ও তার লোকজন। খোরশেদ আলী নামে এক কিশোর মাছ ধরার জাল ভাড়ার পাওনা টাকা চাইলে আক্কাছ আলী তাকে মারধরের পর জাল আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এরকম আরো অনেক কু-কর্মের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার ওই নিহত কিশোরের লাশ দাফন করা হয় ময়মনসিংহ শহরে ভাটিকাশর কবরস্থানে। নিহতের পিতা মোঃ শিপন তার পুত্র হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, তারা ত্রিশ বছর ধরে ময়মনসিংহ শহরের নাটকঘর লেন সংলগ্ন রেললাইন এলাকার মালগুদাম বস্তিতে বসবাস করছেন। দুই ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সাগর ছিলো দ্বিতীয়। সে ভাঙ্গারী মালামালের ব্যবসা করতো। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ