,

ThemesBazar.Com

চৌদারে পল্লী বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ: জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা

6500

ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : সরকারীভাবে বরাদ্দকৃত পল্লী বিদ্যুতের লাইন নির্মাণে গ্রাহকদের কাছ থেকে ঠিকাদার কৌশলে দালালদের মাধ্যমে প্রতি মিটার ৭হাজার টাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহক পর্যায়ে এসব টাকা উত্তোলনের হাতিয়ার স্থানীয় দু’পর্যায়ের দালাল। দফায় দফায় টাকা দাবী করায় গ্রাহকরা প্রায় জিন্মি হয়ে পড়েছে, মুখ খুললে কারেন্ট না দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এ নিয়ে বাক-বিতন্ডা ক্রমেই বেড়ে চলছে প্রাণ নাশেরও ভয় দেখানো হচ্ছে। ঘটনাস্থল উপজেলার সদর ফুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের চৌদার বামন বাইত এলাকায়। জানা যায়, চৌদার বামন বাইত এলাকায় ১নং ওয়ার্ড অংশে ১৭খুঁটির একটি লাইন নির্মাণ কাজ প্রায় মাস খানেক যাবত শুরু হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মো: শাহজাহান নামের এক ঠিকাদার। ইতিমধ্যে ঠিকাদার খুঁটি ও তার টানানোর কাজ শেষ করে ট্রান্সফরমারও ঝুলিয়ে দিয়েছেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে প্রতি গ্রাহক ১হাজার টাকা করে উত্তোলন করা হয়। লাইন নির্মাণ চলাকালীন ৩হাজার টাকা বাকী টাকা বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার পর পরিশোধ করার মৌখিক চুক্তি হয়। কিন্তু স্থানীয়রা বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারে লাইনটি সরকারীভাবে হচ্ছে, কোন টাকা পয়সা খরচ করতে হবে না। কিছু সংখ্যক গ্রাহক টাকা দিতে গরিমসি শুরু করলে দু’পক্ষের মধ্যে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। ঈদের পরদিন সোমবার দুপুর ১২টার দিকে বাক বিতন্ডার এক পর্যায়ে দালাল চক্রের সদস্য এছহাক ও আ: মালেক স্থানীয় গ্রাহক নজরুল ইসলাম ও তার ছেলে সেকান্দরকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। চক্রটি জিম্মি করে টাকা আদায় করায় মানুষদের মধ্যে চরম ক্ষোভ থাকলেও দালালদের হুঙ্কারে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক গ্রাহক জানিয়েছেন দক্ষিণ আন্ধারিয়াপাড়া এলাকায় কিছুদিন আগে মাস্টার প্লানের আওতায় একটি কাজ সম্পন্ন হয়। ঐ সময় থেকে ঠিকাদারের সাথে পরিচয় নয়নের। পাশ্ববর্তী গ্রাম চৌদার এলাকায় কাজ পেলে নয়ন হয়ে যায় ঠিকাদারের এক নম্বর দালাল। মৌখিক চুক্তি হয় মিটার প্রতি ৭হাজার করে টাকা তুলতে পারলে নয়ন পাবে প্রতি মিটারে ১হাজার টাকা। সে হিসাবে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ১হাজার, লাইন টানানোর সময় ৩হাজার, বাড়ীতে মিটারের তার দেয়ার সময় ১শ করে টাকা উত্তোলন করে। নির্মাণ কাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের খাওয়া-দাওয়ার জন্যে প্রত্যেক গ্রাহকদের কাছ থেকে চাউল এবং লাকড়িও উত্তোলন করা হয়।
আন্ধারিয়াপাড়া গ্রামের আহমদ হাফেজের পুত্র নয়ন স্থানীয় পর্যায়ে প্রধান দালাল, গ্রাহকদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন করে চৌদার বামন বাইত গ্রামের রুস্তম আলীর পুত্র আ: মালেক, ইব্রাহীমের পুত্র এছহাক ও মিজানুর রহমানের পুত্র মজিবুর রহমান মজি।
নয়নের সাথে হট কানেকশান ঠিকাদারের এমনটি বলে বেড়ায় আ: মালেক ও এছহাক। ৮২মিটার থেকে ৮১হাজার টাকা গণনার স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় দালাল।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার শাহজাহান জানান, তার ৩/৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাকে বিক্রি করে টাকা উত্তোলন হতে পারে কিন্তু গ্রাহকরা টাকা দেয় কেন?
এ চক্রটি সাধারণ মানুষদের জিম্মি করে টাকা উত্তোলন করে বর্তমান সরকারের ভাবমুর্তিও চরম ভাবে ক্ষুন্ন করছে। ফলে লাইন নির্মাণে সরকারী অর্থ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারনার জন্মচ্ছে। চিহ্নিত দালাল চক্রটিকে আইনের আওতায় আনতে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) এর জরুরি কামনা এলাকাবাসী।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ