,

ThemesBazar.Com

পলাশতলীতে ডাকাত সর্দারের কবলে ডলার ব্যবসায়ী : ৩লাখ টাকা ছিনতাই

abul-01ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : আমেরিকান ডলার কিনতে এসে ডাকাত সর্দারের কবলে ডলার ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হলে তার সাথে থাকা ৩লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়েছে ডাকাত সর্দার ও সহযোগিরা। ঘটনাটি ঘটেছে ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ১১নং রাধাকানাই ইউনিয়নের পলাশতলী হালেবাপের চালায় শুক্রবার (৪আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে। ডাকাত সর্দার মো: আবুল হুসেন (ওরফে) আবুল ডাকাতের নেতৃত্বে এ মিশন পরিচালিত হয়।
সরেজমিনে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, বয়ারমারা মুক্তিরচালা নামে পরিচিত চালাটির পূর্বে হালেবাপের চালা। এ চালাটির চারদিকে ৩টি বিল ও একটি নদী। উত্তরে ডুলপাড়া বিল, পশ্চিমে ঘলগুপ, দক্ষিণে পেটকানা বিল, পূর্বে হালে বাপের চালা। এ চালায় সাধারণত বাৎসরিক ফসল হিসেবে সকল জমিতে আখ চাষ হয়। মাঝে মধ্যে সবজির কিছু ফসল লক্ষ্য করা গেছে। ৩০/৩২একর বিস্তীর্ণ জমি নিয়ে চালাটিতে খরার সময় বাদে একটি মাত্র প্রবেশ পথ। অন্য একটি সরু নালাও (প্রবেশপথ) রয়েছে। সৈর্দারচালা দিয়ে যে রাস্তাটি হালে বাপের চালার প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার হয়, সেটি দিয়ে পায়ে হেঁটে কোনমতে যাওয়া যায়। এ চালায় ভেতরে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের সমন্বয়ে ছোট একটি বাগান আছে। এই বাগানে মাঝে মধ্যেই অঘটন ঘটে থাকে। বিশাল এ চালায় ২টি বাড়ী থাকলেও এখানকার বাসিন্দারা এসব বিষয়ে কখনো মুখ খুলে না। কোন অঘটন ঘটেছে কি না তাও তারা জানে না বলে জানিয়েছেন, তবে তারা সব সময় শুনে থাকেন।
পলাশতলী বয়ারমারা গারা বাইদের আবুল ডাকাত। এক ডাকাত সর্দারের নাম। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কাজের কৌশলও পরিবর্তন করেছে সে। তার রয়েছে ৫ছেলে ও ৩মেয়ে। বর্তমানে অঘটন ঘটাতে মেয়েদের কে ব্যবহার করছে আবুল। ৩মেয়ের নাম রেখেছেন সালেহ, সালেহা এবং হালিমা। তাদের রয়েছে কথা বলার কৌশল। আবুল ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের ডলার ব্যবসায়ীরা টার্গেট। বিভিন্ন কৌশলে দেশের ভিন্ন ভিন্ন স্থান হতে মক্কেল যোগান দেন তারা।
সম্প্রতি সর্দারের ছোট মেয়ে হালিমা কে দিয়ে আমেরিকার ডলার বিক্রি করার কথা বলে মুক্তাগাছার এক ব্যবসায়ীকে অফার দেয়। অপরিচিত জায়গার কথা বললে হালিমা নিশ্চিত করে ভাই তাদের (ব্যবসায়ী) বাড়ীতে নিয়ে যাবে। তারা সৈদারচালা আসলে তাদের গতিরোধ করে পরিচয় জেনে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় হালেবাপের চালায়। ঘটনাটি ঘটে গত ৪আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে।
মানুষ শুন্য চালায় হাতেগুনা কয়েকজন থাকলেও তাদের বারন করা হয় মুখ না খোলার জন্য। কাজ শেষে অজ্ঞান অবস্থায় অতি নিকট দিয়ে বয়ে যাওয়া খিরু নদী পার দেয়া হয় ডলার ব্যবসায়ীদের। প্রাণে বেঁচে যায় ব্যবসায়ীরা। ডলার ব্যবসায়ীরা তাদের ভুল বুঝতে পেরে এ নিয়ে তেমন মাতামাতি করেনি। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ ফেইসবুকে শিরোনাম ছড়িয়ে পড়লে অনুসন্ধানে নেমে কিছু অংশ তুলে আনার চেষ্টা করেছি।
ডাকাত ও তার সঙ্গপাঙ্গ আমেরিকান ঢলার দিবে বলে জামালপুরের এসপি’র ভাই (ডলার ব্যবসায়ী) কে তার বাড়ীতে এনে ঘরে তালাবদ্ধ করে নেশা খাওয়ানোর মাধ্যমে লোহার রড ও দেশিয় অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে মারাতœক আহত করে ৫ ল টাকা রেখে দেয়। পরর্বতীতে এস পির ভাই ফুলবাড়ীয়া থানায় আবুল ও আবুলের স্ত্রী সন্তান সহ আবুলের সঙ্গপাঙ্গদের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই থেকে বাড়ী ছাড়া আবুলের পরিবার। র্বতমানে আবুল ডাকাত গাজিপুরের মনিপুরে ও এলাকায় গাঁ-ঢাকা দিয়ে থাকেন। থানায় মামলা থাকার পরও মাঝে মধ্যে তার আসা যাওয়াতে নানা প্রশ্নের উদয় হয়েছে।

দীর্ঘদিন থেমে থাকার পর সম্প্রতি পলাশতলী বয়ারমারার চালাগুলোতে আবুল ডাকাত এ রকম আরও ৩টি ঘটনা ঘটিয়েছে। স্থানীয়দের অতি গোপনে জিজ্ঞাসাবাদে আবুল ডাকাতের নানার্কীতি বেরিয়ে আসতে পারে।
স্থানীয় সুশীল সমাজ মনে করে ডাকাত সর্দার আবুল হোসেন ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের পেছনে সেলটার রয়েছে। যারা তাদের পৃষ্টপোষকতা করেন তাদের চিহ্নিত করতে পারলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সর্দারের এ নৈরাজ্যকে উৎখাত করা যেত।
তবে স্থানীয়রা আরও জানিয়েছেন, তার ছেলেদের এ কাজে মত নেই তারা অন্য পেশায় নিয়োজিত, তারা তাদের জন্মদাতা বাবাকে ভালো হওয়ার জন্য বললেও ছেলেদের কথায় ডাকাত সর্দার কর্ণপাত না করার কারণে সামাজিক ব্যধিটি নির্মুল করা সম্ভব হচ্ছে না। কৌশল ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করলে হয়তবা এ ব্যধিটি উপড়ে ফেলা সম্ভব।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ