,

ThemesBazar.Com

দেওখোলা ইউনিয়নবাসী সেবা বঞ্চিত: উন্নয়ন কাজে হ-য-ব-র-ল

650000ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : উপজেলার ১৩ইউনিয়নের মধ্যে ৫নং দেওখোলা একটি। উপজেলার ১৩ইউনিয়নের মধ্যে যে দু’টি ইউনিয়নের আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নেই তার মধ্যে এটি একটি। নানবিধ কারণে অত্র ইউনিয়নাবসী ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উন্নয়ন কাজের প্রকল্পগুলোর নাম দিতে গরিমসি- বাস্তবে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। উপজেলার ১৩ইউনিয়নের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে আজ ৫নং দেওখোলা ইউনিয়নের সেবা ও উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো।

ইউপি ভবন : ফুলবাড়ীয়া-ময়মনসিংহ সড়কের দেওখোলা বাজার হতে হাফ কিলোমিটার দক্ষিণে পাকা রাস্তা ঘেঁষে ইউনিয়ন পরিষদটির অবস্থান। ২০১১সালের আদম শুমাররি তথ্য অনুযায়ী এখানে ২৬৭৬৯ জন লোকের মধ্যে ১৩৬৫৫ জন পুরুষ ও ১৩১১৪ জন মহিলা বাস করে থাকেন। পরিষদ চত্বরে ইউনিয়ন ভূমি অফিস অবস্থিত। উপজেলার ১৩ইউনিয়নের মধ্যে ১১টির আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন থাকলেও যে দু’টি ইউনিয়নের আধুনিক ভবন নেই তার মধ্যে এটি একটি। জমি নিয়ে সমস্যা থাকার কারণে অত্র ইউনিয়নের আধুনিক ভবন নির্মাণ সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক ও ডিজিটাল সেবা বঞ্চিত ইউনিয়নবাসী। পুরাতন ভবনের ছাদ খসে খসে পড়ায় ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়। ফলে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই দেওখোলা বাজারে একটি ঘরে স্বল্প পরিসরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চলছে। এখানে গ্রাম আদালত বসানোর কোন সুযোগ নেই। এ ইউনিয়ন পরিষদে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে। অত্র ইউনিয়নের উদ্যোক্তা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কে নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় জেল হাজত খাটতে হয় তাঁকে। ফলশ্রুতিতে ফাঁকি-ঝুকি আর ধামাচাপা দিয়েই চলছে অত্র ইউনিয়নের দৈনন্দিন কাজকর্ম। ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রকাশের জন্য ২৪মে যোগাযোগ করা হলে ইউপি চেয়ারম্যান মো: আতাউর রহমান হাদী মুঠোফোনে বলেন, বৃহ: বার অফিস করবেন না শুক্র ও শনিবার বন্ধ, রবিবার প্রথম রমযান সোমবার আসেন- ঐদিন রমযান পবিত্রতা রক্ষার্থে দ্রব্য মুল্য নিয়মন্ত্রণ, উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটি, উপজেলা সমন্বয় কমিটি ও একটি বাড়ী একটি খামার প্রকল্পের মত বিনিময় সভা থাকায় মঙ্গলবার (২৩মে) ফোনে যোগাযোগ করে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। চেয়ারম্যান কে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। ইউপি সচিব কে ফোন দিলে তিনি জানান, চেয়ারম্যান সাহেব দেওখোল বাজারে বসেন। সেখানে যোগাযোগ করেন। ইউনিয়ন পরিষদটি পরিত্যক্ত তার কোন সাইন বোর্ড পাওয়া যায়নি। পরিষদের ছাদের উপরে সৌর বিদ্যুৎ এর সরঞ্জাম। যেহেতু পরিত্যক্ত সেহেতু জাতীয় পতাকা উড়ানোর যুক্তিকতা নেই। তারপরও একটি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হলো, অথচ কোন ধরনের নোটিশ বা বিজ্ঞপ্তি ছাড়া। একটি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম একটি বাজারে ডাক্তার চেম্বার সমতুল্য একটি স্থানে কি করে হয়? যেহেতু অস্থায়ী অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদ সেহেতু সেখানে কি জাতীয় পতাকা উড়ার কথা নয়? অস্থায়ী একজন উদ্যোক্তা দিয়ে কোনমতে চলছে ডিজিটাল সেন্টারের কার্যক্রম। স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, শিক্ষা, উন্নয়ন কোন তথ্যই নেই ওয়েব পোর্টালে। সর্বোপরি একজন চেয়ারম্যান, ৩জন সংরক্ষিত সদস্য ও ৯জন সদস্য নিয়ে যে পরিষদ গঠিত সেই পরিষদটিই নেই পোর্টালে। পোর্টাল নিয়ে কথা হলে চেয়ারম্যান জানান, স্থায়ী কোন লোক নাই, ইউএনও বরাবর চিঠি দিয়েছি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য।
স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন ও শিক্ষা বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সচিব নূর মোহাম্মদ বলেন, ওয়েব পোর্টালে না থাকলে আমার এখানে কোন তথ্য নাই, আপনি নিশ্চয় জানান বাবলু চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময় ইউনিয়ন পরিষদে আগুন লেগে সব পুড়ে যায়। সব কিছু আমাদের নতুন করে করতে হচ্ছে।
টিআর ঃ এর বিপরীতে ৩টি প্রকল্প। ১। কালীবাজাইল ফজলু মৌ. বাড়ী হতে হাকী ডাক্তারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। এখানে সরেজমিনে গিয়ে রাস্তার দুরত্ব পাওয়া যায় প্রায় ১কিলোমিটার যাতে উপর দিয়ে কোনমতে কোদাল দেয়া হয়েছে। ঐ ওয়ার্ডে চেয়ারম্যানের বাড়ী হওয়ায় নাম প্রকাশ করার শর্তে একজন জানিয়েছেন, এর চাইতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা হচ্ছে দেওখোলা যাওয়ার রাস্তা অথচ সেখানে এক কোদাল মাটির কোন খবর নাই? ভালা রাস্তা কাইট্টা (কেটে) পানি বাজাইছে।
২। দেওখোল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের আসবাবপত্র সরবরাহ।
৩। দেওখোল ইউনিয়ন পরিষদে সোলার প্যানেল স্থাপন। এই দুটি প্রকল্প বিগত দিনেও ছিল, এখন কোনগুলো বর্তমান আর কোনগুলো আগেকার তা চিহিৃত করার কোন উপায় আছে কি?
কাবিটা ঃ ১। নামা কাতলাসেন হতে কুকরাইল সীমানা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। যা এখনো শুরু হয়নি, প্রকল্প কমিটির সভাপতি জানান, দেহেন না, ভাই দিনের যে অবস্থা।
২। মন্ডলবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপন। সরেজমিনে ঐ স্কুলে গেলে সোলারের কোন হদিস পাওয়া যায়নি।
৪০দিন ঃ ১। ময়মনসিংহ ফুলবাড়ীয়া পাকা রাস্তা হতে তালেব আলীর বাড়ী হয়ে আক্কাছ কেরানীর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার। সরেজমিনে গেলে দেখা যায় নামমাত্র কোদাল দেয়া হয়েছে। এরাস্তার দুরত্ব ১কিলোমিটারের কম বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় ও সাবেক মেম্বার সুরুজ আলী জানান, রোযার মধ্যে আর বলতে চাই না- কি যে অবস্থা, অন্য কাউকে জিজ্ঞাসা করেন। অন্য একজন জানান, বাবলু চেয়ারম্যানের চেয়ে আরও বেশি খারাপ বর্তমান চেয়ারম্যানে কার্যকলাপ। প্রকল্প কমিটির সভাপতি ও সংরক্ষিত সদস্য নুরজাহান জানান,
২। কালীবাজাইল শেরআলী ফরাজীর বাড়ী হতে কাটাখালী বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রায় সোয়া ১কিলোমিটার।
৩। চরকালী বাজাইল নতুন বাজার হতে দেওখোলা বাজারের পাকা রাস্তা পর্যন্ত সংস্কার। যা পাকা করণের জন্য বিড বালু ও খোয়া ফালানোর কাজ চলমান।
উপজেলার ১৩ইউনিয়নের মধ্যে ৪টি ইউনিয়নের ধারাবাহিক প্রতিবেদন ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে। আমরা সরেজমিনে ঘুরে এ পর্যন্ত ৫নং দেওখোলা ইউনিয়নের অবস্থাই সবচেয়ে বেহাল পেয়েছি। এখানে ইউনিয়ন পরিষদের কর্তাব্যক্তিরা দায়িত্বশীল নয়। নেতৃত্বের যথেষ্ট অবহেলা লক্ষ্য করা গেছে। দেওখোল বাজারে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে, রাস্তা দিয়ে মানুষ চলাচল করতে পারে না। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন শিশু, স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রী ও বয়স্ক মহিলারা। অথচ রাস্তার পার্শ্ব দিয়ে ড্রেন আছে কিন্তু ব্যবহার নেই, কোন উদ্যোগও নেই। এখান দিয়ে জনপ্রতিনিধিরা চলাচল করলেও দেখেও না দেখার ভান করে। সত্যিকার অর্থে কে নেবে উদ্যোগ। সাধারন মানুষ মনে করে, আমরা তাদের কে ৫বছরের জন্য ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান, মেম্বার বানাইছি তারা শুধু লুটপাট করে খাবে। তাদের কোন জবাব দিহিতা নাই।
স্থায়ী ইউপি ভবন, সেবার মান উন্নয়ন, ডিজিটাল সেবা, উন্নয়ন কাজে নুন্যতম জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ‘উন্নয়নের মহা সড়কে দেশ’ সরকারের এ উদ্যোগের অংশীদার করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউনিয়নের সচেতন মহল।
ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান হাদী জানান, পরিষদ ভবর না পেলে সেবার মান বৃদ্ধি করা যাচ্ছে না, আমরা ভবনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রকল্পগুলোর কাজ পরিদর্শন করে আমরা বুঝে নিয়েছি। কাজ হয়নি সে কথার সাথে একমত হইতে পারলাম না। অনেকে কাজ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সম্পাদনায়- মো: আব্দুস ছাত্তার

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ