,

ThemesBazar.Com

ফুলবাড়ীয়ার পুটিজানাবাসি ডিজিটাল সেবা বঞ্চিত: উন্নয়ন কাজে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের আশ্বাস

6500000000ফুলবাড়িয়া নিউজ 24ডটকম : পুটিজানা ইউনিয়ন পরিষদটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ না হওয়ায় ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের নাগরিকরা ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত। দলীয় সরকারের অধীনে ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রথম নির্বাচনে ২য় মেয়াদে মো: ময়েজ উদ্দিন তরফদার নির্বাচিত হবার পর পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বেগবান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেও চলমান অনেক প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ৪০দিনের একাধিক প্রকল্পে কাজের কোন আলামত খোঁজে পাওয়া যায়নি। উপজেলার ১৩ইউনিয়নের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে আজ ২নং পুটিজানা ইউনিয়নের সেবা ও উন্নয়ন ফিরিস্তি তুলে ধরা হলো।
উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইউনিয়নটির অবস্থান। শিবগঞ্জ বাজারের অস্থায়ী কার্যালয়ে চলছে ইউনিয়নের সকল কার্যক্রম। এখনো নির্মিত হয়নি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। ফলে ছোট্র পরিসরের রুমগুলোতে চলছে সেবার কার্যক্রম। ২০১১সালের আদম শুমারির তথ্য অনুযায়ী ৩৭৯৫৬ জন লোকের বাস এ ইউনিয়নে- এর মধ্যে ১২৯১০ জন পুরুষ, ১৩০৬৯জন মহিলা। এ অস্থায়ী কার্যালয়ে যেতে কোন ভোগান্তি পোহাতে হয় না- পাকা রাস্তা ঘেঁষে অস্থায়ী কার্যালয়, এটি মুলত কৃষি বিভাগের একটি পরিত্যক্ত ভবন।
ডিজিটাল সেন্টার : আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মিত না হলেও ডিজিটাল সেন্টারে চলছে গতানুগাতিক সেবা। তবে সেন্টারের অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস অকেজো বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তা। মাসুম নামের উদ্যোক্তা জানান, প্রায় ৩বছর যাবত ফটোকপির মেশিন অকেজো, স্ক্যানার অচল, ক্যামেরা সাবেক উদ্যোক্তা বেলায়াত বুঝিয়ে দেয় নাই। জন্ম সনদ, ওয়ারিশান সনদ, চারিত্রিক সনদ, অভিজ্ঞতার সনদ দিতে পারলেও জমির পর্চা, বিদ্যুৎ বিলসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সেবা দিতে পারছে না, যদি এ সেবাগুলো দেয়া যেত তবে সাধারণ মানুষ অনেক হয়রানি থেকে রক্ষা পেত। ইউনিয়নের ওয়েব পোর্টালের পাসওয়ার্ড না জানার কারণে আপডেট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না, উপজেলা প্রোগ্রামের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তেমন সাড়া মেলেনি।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিষয়ে খোঁজ খবর নিতে ইউপি সচিবের সাথে প্রকল্পগুলোর নাম জানার চেষ্টা করা হলে গড়িমসিতে গত শনিবার তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যমতে
টিআর (১ম পর্যায়) : বিড়ালশাখ আব্দুস ছালামের বাড়ী হতে কমলাপুর বুদ্দাইর বাজার পর্যন্ত রাস্তা রক্ষনা-বেক্ষন ৬০হাজার টাকা। শিবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে মাটি ভরাট ৬০হাজার ৬শ ৮০টাকা। ধামর পরধান বাড়ী হতে আরফান হাজীর রাস্তা রক্ষনা-বেক্ষন ৬০হাজার টাকা। এছাড়াও অত্র ইউনিয়নের ১৪টি স্থানে ১৪টি সোলার প্যানেল স্থাপন বাবদ ১লাখ ৮০হাজার ৩শ ২০টাকা।
কাবিটা (১ম পর্যায়) : মৌহাতলা ঈদগাহ মাঠ হতে মৌহাতলা জয়নালের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ২লাখ ৩হাজার ৯শ ২০টাকা, ৫টি ওয়ার্ডে ১৬টি স্থানে সোলার স্থাপন- ২লাখ ৬হাজার ৮০টাকা।
৪০দিন (১ম পর্যায়) : ১। বাদশা মার্কেট হতে পন্ডিতবাড়ী হয়ে রামবাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৩লাখ ৬০হাজার টাকা, ২। পাঞ্জানা সাত্তার মার্কেট হতে পরধান বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৮লাখ টাকা, ৩। বেড়ীবাড়ী হামিদের বাড়ী হতে বেড়ীবাড়ী ঈদগাহ মাঠ রাস্তা সংস্কার ২লাখ ৮০হাজার টাকা, ৪। পাটুলী পূর্বপাড়া ফোরকানিয়া মাদ্রাসা হতে চন্দনী আটা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৪লাখ টাকা, ৫। বৈলাজান দক্ষিণপাড়া মোড় হতে পিয়ালের বিলের খাল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৪লাখ ৮০হাজার টাকা, ৬। আওলান মসজিদ হতে সরাতীয়া আহমেদের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৪লাখ টাকা, ৭। কমলাপুর বুদ্দার বাজার হতে আমজাদ মেম্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৩লাখ ২০হাজার টাকা, ৮। পীরগঞ্জ বাজার হতে কমলাপুরের শেষ সীমা পর্যন্ত ৩লাখ ২০হাজার টাকা, ৯। দেওগাঁও জয়নালের বাড়ী হতে কদ্দুছের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার ৩লাখ ২০হাজার টাকা।
টিআর এর কিছু রক্ষনা বেক্ষনের কাজ চলমান। ওয়েব পোর্টালের অবস্থা গতানুগাতিক। আপডেট কোন তথ্য ওয়েব পোর্টালে পাওয়া যাচ্ছে না।
৭, ৮ ও ৯নং ওয়ার্ড বিশেষ করে ৭নং ওয়ার্ডের কমলাপুর বুদ্দার বাজার হতে আমজাদ মেম্বারের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারের নামে ৩লাখ ২০হাজার টাকা হরিলুট করা হয়েছে।
ওয়েব পোর্টালের (http://putijanaup.mymensingh.gov.bd )তথ্য মতে, অত্র ইউনিয়নে কোন উচ্চবিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কিন্ডার গার্টেন নেই। অথচ ইউপি সচিবের তথ্য ফাইলে বন্ধি। এব্যাপারে সচিব মো: ইদ্রিস আলী জানান, আমি সবগুলো তথ্য উদ্যোক্তা দিয়েছি কিন্তু সে আপডেট করে নাই এ বিষয়টি আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি।

ইউপি চেয়ারম্যান ময়েজ উদ্দিন তরফদার বলেন, ভবন না থাকায় আমাদের যথেষ্ট পরিমাণে কষ্ট হচ্ছে। ইতিমধ্যে জমি ক্রয় করে খারিজের জন্য গতকাল মঙ্গলবার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
৪০দিনের প্রকল্প আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই না, কারণ কেউ কাজ করে টাকা নিতে চায় না। এখানে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসন ও সাংবাদিকদের পেছনে ব্যয় হয় ৪৫ভাগ।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আ: বাছেদ জানান, যে প্রকল্পগুলো নিয়ে অভিযোগ উঠেছে তা সরজমিনে তদন্ত করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে। তবে আপনারা (সাংবাদিকরা) মাঠে থাকলে কাজ না করে কোন উপায় নেই।

ThemesBazar.Com

     এ জাতীয় আরও সংবাদ